বিডি নিউজ২৩: লাগামহীন মূল্যস্ফীতিতে নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ পাকিস্তানিদের। সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় অনেকেই চিন্তা করছেন পেশা পরিবর্তনের। বিশ্লেষকরা বলছেন, শিগগিরই শ্রীলঙ্কার মতো রাস্তায় নামতে পারে পাকিস্তানের জনগণ।
পাকিস্তানি নাগরিক জহির আহমেদের বয়স ৫৮ বছর। সাত সকালে তাকে ছুটতে হয় নিজের অটো সঙ্গে করে। কিন্তু পেট্রোল পরিমাপের কাটা যতই ঘুরছে, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জহির আহমেদের চিন্তার ভাঁজ। কারণ, সম্প্রতি পাকিস্তানে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে ৩৫ রুপি পর্যন্ত। এতে করে অনেকেই ভাবছেন নিজেদের পেশা বদলানোর।
তিনি বলন, যখন কোনো সঞ্চয়ই থাকবে না, তখন গাড়ি চালানোর কোনো মানে নেই। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যেকোনো সময় ভিক্ষা করতে হতে পারে।
নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পাকিস্তান। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নেমেছে ৪০০ কোটি ডলারের নিচে। ডলারের বিপরীতে পাকিস্তানি মুদ্রার মান ছাড়িয়েছে আড়াইশোর কোটা। দেউলিয়া হওয়া ঠেকাতে দাতা গোষ্ঠীদের কাছে বারবার ঋণ চাচ্ছে ইসলামাবাদ। ঋণ প্রাপ্তির শর্ত মানতেই ক্রমাগত ভর্তুকি কমাতে হচ্ছে বিভিন্ন খাতে। যার চাপে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
এক পাকিস্তানি নাগরিক বলেন, সব ধরণের খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়তি। গরীব মানুষের আয় আগের যায়গায় রয়েছে। তাই জীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে।
পাকিস্তানে মূ্ল্যম্ফীতি ছুঁয়েছে ২৫ শতাংশ। লাগামহীন মূল্যস্ফীতির কারণে আকাশছোঁয়া খাদ্যদ্রব্যের দাম। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকার পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হচ্ছে জহির আহমেদের মতো ৬ সন্তানের জনক।
তিনি বলেন, বেতন দিতে না পারলে ওদেরকে স্কুল থেকে বের করে দিবে। যখন বেতন দিতে পারবো না, ওদের ঘরে বসে থাকতে হবে।
অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে গেল বছর সরকার পতন হয়েছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র শ্রীলঙ্কায়। পাকিস্তানও সেই অবস্থা থেকে দূরে নয় বলে শঙ্কা দেশটির অর্থনীতিবিদদের।
অর্থনীতিবিদ সালিম তানোলি বলেন, প্রতিটি জিনিসেরই দাম বাড়ছে। সাধারণ মানুষকে এই কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে। জ্বালানি তেলের দাম এভাবে বাড়ানোটা আসলে অন্যায় হয়ে গেছে। আমার মনে হচ্ছে কিছুদিনের মধ্যে জনগণ রাস্তায় নেমে আন্দোলন শুরু করবে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে পাকিস্তানের রপ্তানির পরিমাণ ছিলো ১,৪২৫ কোটি ডলার যা আগের ৬ মাসের তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ কম। তাই রিজার্ভের সঙ্গে রপ্তানি না বাড়লে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করা কঠিন হবে বলে মত বিশ্লেষকদের।