ইমাম হোসাইন, বিডি নিউজ২৩: রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার পানানগরে আগুন লেগে ঘরের পুরোটাই পুড়ে ছাই। বাদ পড়েনি ঘরের গরু, ছাগল, পাঠা, হাস-মুরগি আরো জিনিসপত্র।
শুক্রবার (২৪ মার্চ) ভোর ৫ টার দিকে উপজেলার পানানগর ইউপি’র গোলাবাড়ি গ্রামের ফৌজদার পাড়া গ্রামে অগ্নিকাণ্ডের ওই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায় যে, উপজেলার পানানগর ইউপি’র গোলাবাড়ি গ্রামের ফৌজদার পাড়া গ্রামের আবুল কালাম আজাদ এর ছেলে, শহিদুল ইসলাম শহীদের বাসায় ভোর ৫ টার দিকে হঠাৎ করে, আগুনের লেলিহান শেখা দেখতে পায়। আগুনের ব্যাপক তীব্রতার কারণে, আগুন লাগা ঘরের আশেপাশে ভিড়তে পারেনি ইসমাইল হোসেন ও তার আত্মীয়-স্বজনরা। তবুও বাড়ির মটর দিয়ে দূর থেকে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও ততক্ষণে পুরো ঘরটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সাথে পুড়ে যায় ঘরে থাকা ১টি বড় এড়ে গরু, বড় ২টি ছাগল, বড় ২টি পাঠা, আরো অনেক হাঁস-মুরগি সহ ঘরে থাকা আনুসাঙ্গিক জিনিসপত্র। এতে করে ভুক্তভোগী ওই পরিবারের ক্ষয়ক্ষতির পরিমান প্রায় ৪ লাখ টাকা বলে মনে করেন ভুক্তভোগী পরিবার ও তার এলাকাবাসিরা। আরো জানা যায় যে, এতে করে ভুক্তভোগী ওই পরিবার তাদের জিবনের পুরো সহায়সম্বল হারিয়েছে। এবং ওই পরিবার গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি পালন করেই তারা তাদের জীবিকা নির্বাহ করতেন।
অগ্নিকাণ্ডে ঘর পুড়ে অসহায় হওয়া ওই পারিবার সম্পর্কে স্থানীয় মেম্বার ও এলাকাবাসীরা জানান, আগুনে পুড়ে প্রতিবন্ধী ঐ পরিবারের সকল হারিয়েছে। এখন বাড়ি ছাড়া তাদের কোন জমা জমি নাই তাই, খুব দ্রুত সরকারি বা বেসরকারি অনুদান না পেলে পথে বসতে হবে ভুক্তভোগী ওই পরিবারের। এলাকাবাসীরা ওই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের বিভিন্ন মহল কে আবেদন ও অনুরোধ করেছেন।
ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলাম শহীদ (হাবুল) এর সাথে কথা বলে আরও জানা যায় তিনি বলেন, আমি ভোর রাতে সেহরি খেয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়ি। পরে সকাল প্রায় ৫টার দিকে আমার বাসার বাহিরে আগুনের লেলিহান শেখা ও চিল্লাচিল্লি শুনতে পাই। ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার ওই ঘরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। সেসময় বুঝতে পারছিলাম না কি করব। মাথায় আর কাজও করছে না। তবুও আত্মীয়-স্বজনরা মিলে পানি দিয়ে আগুন নিভানোর চেষ্টা চালাই ততক্ষণে আমার স্বপ্নটুকু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত শহিদুল ইসলাম শহীদ (হাবুল) এর স্ত্রী তিনি আরো বলেন, আমার ওই ঘরটি পুড়ে যাওয়ায় আমরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্তের মধ্যে পড়লাম। ঋণ দেনা করে এই গরু-ছাগল, পাঠা, হাঁস-মুরগি কিনেছিলাম। প্রায় সব মিলে ৪ লাখ টাকার উপরে আমি ক্ষতিগ্রস্ত। রাতের বেলায় আগুনে পুড়ে আমার স্বপ্ন ধুলিস্যাৎ হয়ে গেছে। আমাদের সম্পদ বলতে যা ছিল সবকিছুই পুরে ছাই হয়ে গেছে আমরা পথে বসে গেলাম। আমার ঘরে একটি প্রতিবন্ধী মেয়ে রয়েছে। আমার স্বামী মানসিকভাবে অসুস্থ। কি করব কোথায় যাবো কিছুই বুঝতে পারছিনা।
এই বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে দুর্গাপুর ফায়ার সার্ভিসের, সাব-অফিসার মোঃ আবুল খায়ের তিনি বলেন, এই ঘটনা আমাদের কেউই এখন পর্যন্ত অবগত করেনি তাই বিষয়টা আমাদের জানার বাহিরে। তৎক্ষণাৎ যদি আমরা জানতে পারতাম তাহলে ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি জেনে একটি রিপোর্ট দিলে তারা হয়তো কিছু আর্থিক সহায়তা পেত।

দুর্গাপুরে আগুনে স্বপ্ন পুড়ে ছাই ভুমিহীন প্রতিবন্ধী এক পরিবারের