বিডি নিউজ২৩, রাজশাহী- রাজশাহীতে সাংবাদিকের উপর হামলা ও মামলার ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার অভিযোগ উঠেছে। বাঘায় দৈনিক ‘বাংলাদেশ সমাচার’ পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি আবুল হাশেমের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় মামলা হলেও আসামীদের আটক করেনি পুলিশ। মামলা নিতেও করেছিলেন গড়িমসি। অপরদিকে গতকাল শনিবার রাতে দূর্গাপুর উজাল খলসির নিজ বাসা থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে দূর্গাপুর থানায় নাশকতার মামলায় ফাঁসানো হয় আরেক সাংবাদিক শাহাবুদ্দিনকে। সাংবাদিক শাহাবুদ্দিন সাপ্তাহিক “অগ্রযাত্রা পত্রিকা”য় কর্মরত।
বাঘার ঘটনায় জানা যায়, সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে মাদক কারবারিরা পূর্ব শত্রুতার জেরে সাংবাদিক আবুল হাশেম ও তাঁর পরিবারের উপর হামলা চালানো হয়। এঘটনায় আবুল হাশেমের মাথায় ৫ টি ও তাঁর পিতা সাজদার হোসেনের মাথায় ১২ টি সেলাই দেওয়া হয়। আসামীরা এখনো হুমকি ধামকি দিচ্ছে ওই সাংবাদিক পরিবারকে। এ বিষয়ে পুলিশের ভূমিকা নিষ্ক্রিয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এছাড়াও দূর্গাপুরের ঘটনায় জানা যায়, গতকাল শনিবার রাতে দূর্গাপুর উজাল খলসি এলাকার নসির উদ্দিন মোল্লার ছেলে সাংবাদিক শাহাবুদ্দিনকে বাসা থেকে থানায় ডেকে নিয়ে গিয়ে নাশকতা মামলায় আসামী করা হয়। ওই নাশকতা মামলার এজাহারে তাঁর নাম উল্লেখ্য ছিলো না। অজ্ঞাত আসামী নামে তাঁর নাম ঢুকিয়ে আদালতে চালান করা হয়। শুধুমাত্র এএসআই আমিনুরের কথায় তাকে আটক করা হয়। আমিনুর দীর্ঘদিন থেকে দূর্গাপুর থানায় কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে। পুকুর খনন নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে এএসআই আমিনুরের সঙ্গে ঝামেলা ছিলো শাহাবুদ্দিনের। তাকে আটকের পর থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত চলে নাটক। আটকের পরে কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি পুলিশ। কেনো তাঁকে আটক করা হলো? এমনকি সেসময় ফোনও রিসিভ করেননি থানার ওসিসহ উদ্ধর্তনরা। এ ঘটনা দুটিতে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাব ও রুর্যাল জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন (আরজেএফ) রাজশাহী শাখা।
রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি শামসুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুটি ঘটনায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পুলিশের প্রতিহিংসার প্রতিফলন ঘটেছে। পুলিশ প্রতিহিংসা থেকে পৃথক দুটি ঘটনায় হামলার আসামী গ্রেফতার না করা এবং কারণ ছাড়াই সাংবাদিককে আটক করা হয়। এঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদসহ ২৯ অক্টোবর মঙ্গলবার মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাব ও রুর্যাল জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন। এছাড়াও এসব ঘটনায় তীব্র ঘৃণা, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন পুঠিয়া-দুর্গাপুর উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকগণ।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র (এডিশনাল এসপি) রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা সাংবাদিকদের প্রতিপক্ষ ভাবছি না। প্রতিহিংসাও করছি না। এটা আপনাদের ভূল ধারণা। সঠিক তথ্য প্রমাণ ছাড়া আমরা কাউকে গ্রেফতার করছি না।

বাঘায় চিহ্নিত আসামি আটকে পুলিশের গড়িমসি, দুর্গাপুরে সাংবাদিকে গায়েবি মামলা