বিডি নিউজ২৩; রাজশাহী জেলার উচ্চ ফলনশীল আবাদি কৃষি জমি ধ্বংস করে দুর্গাপুর, বাগমারা ও পুঠিয়া উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় চলছে পুকুর খননে মহা উৎসব। শুধু মাত্র স্থানীয় পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই খননকারীরা পছন্দমত জায়গায় খনন গাড়ি (স্কেভেটর) নামিয়ে ফসলি কৃষি জমিতে শুরু করছে পুকুর খনন কাজ। প্রথম অবস্থায় প্রকৃত জমির মালিকদের ধার ধারছে না খনকারীরা।
মানুষকে নানা কায়দা কৌশলে ফেলে বিভিন্ন লোভ লালসা দেখিয়ে কিছু কিছু মোটা পরিমান জমির মালিকদের সম্মতি আদায় করছে। তবে অল্প পরিমাণ জমির মালিকদের পাত্তাই দেওয়া হচ্ছে না। খননকারীরা অতি প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা ন্যায্য অধিকার রক্ষায় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েও প্রশাসনের নানা টালবাহনায় কোন সুপ্রতিকার পাচ্ছে না।
যেমন একদিকে চলছে ফসলি জমি ধ্বংসের প্রতিযোগিতা অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে জনগণের চলাচলের রাস্তাঘাটের বেহাল দশা। দিনরাত রাস্তাঘাটে খননের মাটি পরিবহনের কারণে ধুলো বালি ও ঢাকায় মাছ বহন করা গাড়ি পানি পড়ে কাদা মাটিতে রাস্তাঘাট গুলো জনগণের চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
প্রতিদিন কোন না কোনভাবে প্রশাসনের লোকজন ঐ সকল রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করলেও তা সংরক্ষণে কোনই মাথা ব্যাথা নেই স্থানীয় প্রশাসনের। খননকারীদের দৌরাত্ম দেখে মনে হয় তারা সরকারের অনুমতি নিয়ে বিভিন্ন ইট ভাটায় ট্রাক্টর দিয়ে মাটি বহনে নিয়োজিত আছেন।
কৃষি জমি সংরক্ষণে সরকারের আদেশ -নিষেধ কিবা ভূমি অপরাধ ও প্রতিরোধ প্রতিকার আইন, জাতীয় ভূমি ব্যবহার নীতিমালা, সরকারের কৃষি নীতি, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন ও বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপন আইন কোন কিছুই প্রতিপালন হচ্ছে না স্থানীয় পর্যায়ে। সরকারের আইন-কানুনের চেয়ে খননকারীদের ম্যানেজ নীতি প্রশাসনের কাছে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। মাঝে মাঝে কোথাও কোথাও চলে নাম মাত্র অভিযান।
উপজেলা প্রশাসন থেকে স্থানীয় তহশিলদাররাও ম্যানেজ নীতির আওতায় রয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে আরো জানা যায়, ম্যানেজ নীতিতে বাদ থাকে না প্রশাসনের গাড়ির ড্রাইভার ও অফিসের পিয়নও। অভিযানের আগেই খননকারীদের কাছে সংবাদ পৌঁছে দেয় স্থানীয় প্রশাসনের গাড়ির ড্রাইভার ও অফিসের পিয়ন।
ভুক্তভোগীদের একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাঝে মাঝে দায়সারা দু একটি অভিযান করলেও ২/১ দিন পরে যেই সেই। তাতে করে সর্বস্বান্ত স্থানীয় কৃষিজীবী, বর্গাদার, জমি কট বা জমি লীজ গ্রহনকারী সর্বোপরি স্থানীয় খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। ব্যাপকভাবে কৃষি জমি ধ্বংসের দরুন কৃষি ফসল উৎপাদন কমে গিয়েছে। অধিকহারে খননের কারণে বর্ষাকালে নানা জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। রাজশাহী জেলার মধ্যে দুর্গাপুর উপজেলা গত বছর যে পরিমাণ পুকুর খনন করা হয়েছে এত পরিমান পৃথিবীর ইতিহাসে কোথাও শোনা যায়নি। এ বছরও কোথাও কোথাও কাজ চলার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।
এছাড়াও অত্র এলাকান এখন পরিবেশ বিপর্যয়ের ব্যাপক হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। কৃষি জমি ধ্বংসের মাধ্যমে শুধুমাত্র লাভবান হচ্ছেন অর্থলোভী খননকারী চক্র ও স্থানীয় প্রশাসনের কিছু অসৎ কর্মকর্তা ও কর্মচারী। সাম্প্রতি পুঠিয়ার শীলমারিয়া ইউনিয়নে ব্যাপক পরিমাণ কৃষি জমিতে অবাধে পুকুর খনন চলছে। থেমে নেই বাগমারা ও দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় কৃষি জমিতে পুকুর খনন কাজ।
দুর্গাপুরে প্রশাসনের তরফ থেকে মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালনা করে খনন কাজ বন্ধ করে দেওয়া হলেও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে রাতের আঁধারে অধিকাংশ খনন কাজ গুলো করা হয় বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়। যদিও গতকাল দুর্গাপুরে অভিযান চালানো হয়েছিল। করাও হয়েছিল জরিমান।
রাজশাহীর এই তিনটি উপজেলার উপরে উল্লেখিত জায়গার কৃষি জমি রক্ষায় এলাকাবাসী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। এসব অবৈধ পুকুর খননের বিষয়ে রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো: ইমতিয়াজ হোসেন জানান, আমি ঢাকাতে ট্রেনিংয়ে আছি ট্রেনিং থেকে ফিরে এসব পুকুর খনন বন্ধের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সাথে কথা বলবো। অবৈধভাবে কোন কাজ করতে দেওয়া হবে না।

রাজশাহীতে প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে কৃষি জমি নষ্ট করে পুকুর খনন কাজ!