বিডি নিউজ২৩: রাজশাহীর চারঘাটে বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রায় ৬০০ বাবুই পাখি ধরে জবাই করার অভিযোগে বাবা-ছেলের এক বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।
বুধবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে এই দণ্ডাদেশ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহরাব হোসেন। একই সাথে প্রত্যেককে ১ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়।
দণ্ডিতরা হলেন-নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার মদনহাট এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিক (৫৫) ও তার ছেলে ফিরোজ হোসেন (৩২)। দণ্ডিত ফিরোজ হোসেনের শ্বশুর বাড়ি উপজেলার কাঁকড়ামারী পাতির বিল এলাকায়।
ভোর ৫টার দিকে সেখান থেকেই জবাই করা বাবুই পাখিসহ আটক করে চারঘাট মডেল থানা পুলিশ। ওই সময় বিক্রির উদ্দেশ্যে জবাই করা বাবুই ব্যাগে ভরছিলেন বাবা ও ছেলে। পরে তাদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে নেয়া হয়।
চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুল আলম জানান, ভোরে থানা পুলিশের একটি দল পাতির বিল সংলগ্ন কাঁকড়ামারী বাজার এলাকায় টহল দিচ্ছিল। বাবা ও ছেলেকে আটক করা হয়। তাদের কাছে পাখি শিকারের ফাঁদসহ বস্তা ভর্তি জবাই করা বাবুই পাখি পাওয়া গেছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, নাটোর থেকে এসে চারঘাটের বিভিন্ন এলাকার ফসলের খেতে ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করতেন। জবাই করা বাবুইগুলো নাটোরের বিভিন্ন এলাকায় ২০ টাকা পিচ দরে বিক্রি করতেন তারা। আগেও তারা এলাকায় পাখি ধরেছেন বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহরাব হোসেন বলেন, পাখি ধরে হত্যা করায় তারা বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২-এর ৬ (১) এবং ক (১) ধারায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তাদের বন্য প্রাণী আইনের ২৬ ধারায় তাদের এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে তাদের আরও ১ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। তাৎক্ষনিকভাবে জরিমানার টাকা আদায় করা হয়েছে। সকালেই তাদের রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া জব্দ করা পাখিগুলো স্থানীয় একটি এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।