বিডি নিউজ২৩: বাংলাদেশের জন্য ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন (৪৭০ কোটি) ডলারের ঋণ অনুমোদন দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল। সোমবার রাত (৩০ জানুয়ারি) আইএমএফের নির্বাহী পর্ষদের বৈঠকে এ ঋণ অনুমোদন করা হয়। পরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে সংস্থাটি।
বর্ধিত ঋণসহায়তা (ইসিএফ), বর্ধিত তহবিল সহায়তা (ইএফএফ) চুক্তির আওতায় ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন (৩৩০ কোটি) মার্কিন ডলার ঋণ অনুমোদন দেয় নির্বাহী পরিষদ। এছাড়া, রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি (আরএসএফ) প্রোগ্রামের আওতায় আরও ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন (১৪০ কোটি) ডলার ঋণ সহায়তা দেয়া হবে।
বাংলাদেশই প্রথম কোনো এশিয়ার দেশ যারা আরএসএফ প্রোগ্রামের আওতায় ঋণ পেয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল।
আইএমএফের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ঋণ পাওয়া যাবে ৪২ মাসে সাত কিস্তিতে। অনুমোদিত ঋণের ৪৭৬ মিলিয়ন ডলার দ্রুত সময়ের মধ্যে ছাড়ের সিদ্ধান্ত দিয়েছে নির্বাহী বোর্ড। এ হিসাবে, প্রথম কিস্তি ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে অথবা মার্চ মাসের শুরুতে পাওয়া যেতে পারে বলেই আশা করছে বাংলাদেশ সরকার।
এদিকে ঋণ অনুমোদনের পর আইএমএফের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘আমরা অবশ্যই আইএমএফের প্রতি এ ঋণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বিশেষ করে আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) আন্তোয়নেত মনসিও সায়েহ এবং মিশনপ্রধান রাহুল আনন্দসহ যে দলটি এ ঋণের বিষয়ে বাংলাদেশ সফর করেছিল, তাদের প্রতি জানাই ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।’
“বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার এবং অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব ফাতিমা ইয়াসমিনসহ অর্থ মন্ত্রণালায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, যাঁরা এ ঋণ কর্মসূচি নিয়ে কাজ করেছেন, তাঁদের প্রতিও রইল আমার কৃতজ্ঞতা।”
অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে গত বছরের জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কাছে ঋণ চায় বাংলাদেশ। এরপর কর্মকর্তা পর্যায়ে কয়েক দফা আলোচনা শেষে বৈঠকের পর গত বছরের ৯ নভেম্বর, বাংলাদেশকে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি মেলে। আইএমএফ সেসময় জানিয়েছিলো, সাড়ে তিন বছর ধরে সাত কিস্তিতে সংস্থাটি ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ দেবে। এ ঋণের মধ্যে বাজেট সহায়তা বাবদ ৩২০ কোটি ডলার। বাকি ১৩০ কোটি ডলার জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যয় করতে হবে।
এরপর গত ১৬ জানুয়ারি ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন অ্যান্তইনেত মনসিও সায়েহ। এসময় জানানো হয়েছিলো, ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশের ৪৫০ কোটি ডলারের ঋণ প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে পারে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ)। অবশ্য চলমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন দিলো আইএমএফ নির্বাহী পরিষদ।