ইমাম হোসাইন, বিডি নিউজ২৩; রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ইউনিয়ন ভুমি অফিসগুলো যেন হয়রানি আর ঘুষ গ্রহনের আখড়ায় পরিণত।
উপজেলার ইউনিয়ন ভুমি অফিস ঘুরে দেখা গেছে ঘুষ গ্রহন ও হয়রানির দৃশ্য। এসব ইউনিয়ন ভুমি অফিসের মধ্যে উপজেলার ধোপাপাড়ায় অবস্হিত পাইকপাড়া ভুমি অফিসের বিরুদ্ধে রয়েছে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ।
সম্প্রতি, জেগে উঠেছে দুজন ভিক্ষুকের কাছে থেকে ঘুষ গ্রহন ও হয়রানির মত গুরুতর অভিযোগের বিষয়।
জানা যায় যে, উক্ত ভুমি অফিসের পিয়ন ওয়াদুদ আলী, উপজেলার, জিউপাড়া ইউপির দাশমাড়িয়া (পায়রাপাড়া) গ্রামের ভিক্ষুক আব্দুল বারির ছেলে চানাচুর ভাজা বিক্রেতা মোঃ আজবার আলীর জমি খারিজ করে দেবার নাম করে টাকা নেয়। অতিরিক্ত টাকা ছাড়া জমি খারিজ করা যেন ওই অফিসে প্রায় অসম্ভব। স্কুল ও গ্রামগন্জের এলাকায় ঘুরে ঘুরে চানাচুর ভাজা বিক্রি করেন আজবার আলী, তার কাছে থেকে প্রায় ১০ বছর আগে নিয়েছে টাকা। বর্তমান সময় পর্যন্ত হয়রানি করে আসছে, পিয়ন ওয়াদুদ আলী। এমনকি এখন পর্যন্তও খারিজের কাজ শেষ হয়নি।
এরপর জমি খারিজ করার নাম করে টাকা নেয় আরো একজন ভিক্ষুকের কাছ থেকে। বৃদ্ধ ওই ভিক্ষুকের নাম জাহানারা বেগম, উপজেলার জিউপাড়া ইউপির, সৈয়দপুর বটতলার ভিক্ষুক তনছের আলীর স্ত্রী জাহানারা বেগম। অথচ ওই ভিক্ষকের জমি আগে থেকেই খারিজ করা ছিলো। তারপরও ধোকা দিয়ে ওই ভিক্ষুকের কাছে থেকেও নেওয়া হয় টাকা। এ যেন মগের মুল্লুক দেখার কেউ নেই। এদিকে বয়সের ভারে জাহানারা বেগম নুয়ে পড়েছে। স্বামীর মেরুদন্ডের হাড়ের সমস্যায় আরো বেশি অসহায় হয়ে পড়েছে পরিবার। যার ফলে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এখন আর ভিক্ষাও করতে পারছেন না ওই ব্যক্তি।
গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে পেয়ে যেন প্রাণ ফিরে পায় আজবার আলী। ভিক্ষুকের ছেলে, চানাচুর বিক্রেতা আজবার আলী তিনি বলেন, প্রায় ১০ বছর আগে মানুষের কাছ থেকে লাভের উপর টাকা নিয়ে ৩২০০ টাকা দিয়েছি পাইকপাড়া ভূমি অফিসের পিয়ন ওয়াদুদের হাতে। জমি খারিজ করে দিবে বলে এখন পর্যন্ত ঘুরাচ্ছেন। আমি তার হাতে পায়ে ধরে বাসায় গিয়েও বলে এসেছি তবুও তার কোন মায়া দয়া হয়নি। এখন টাকা ফেরত চাইলেও সে দিতে চায় না। আজ-কাল করে সে প্রায় ১০ বছর কাটিয়েছে।
এদিকে সৈয়দপুর বটতলা গ্রামের ভিক্ষুক তনসের আলীর স্ত্রী, বৃদ্ধ জাহানারা বেগম তিনি বলেন, আমার স্বামী ভিক্ষা করে আনতো বর্তমানে তার মেরুদন্ডের হারের সমস্যার কারণে শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। এখন আর ভিক্ষাও করতে পারে না। এনজিও থেকে কিস্তির উপর টাকা নিয়ে বহুদিন আগে পাইকপাড়া ভূমি অফিসে দিয়েছি। জমি খারিজ করার জন্য। খারিজ করে দেবো দেবো বলে বহুদিন ঘুরায়, পরে গণমাধ্যম কর্মীদের মাধ্যমে জানতে পারি জমি আগে থেকে খারিজ করা হয়ে আছে। জমি খারিজ করা আছে এটা চালাকি করে গোপন রেখে আমার কাছ থেকে ৩২০০ টাকা নিয়েছে, ৮০০ টাকা দাবি করে। মোট চার হাজার টাকা চুক্তি হয়েছিল। এলাকার মানুষের দ্বারা খারিজের জন্য চাপ দিলে ২০২২ সালের ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ সে আমাকে একটি কাগজ দেয়, যা খাজনার রশিদ ছিল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাইকপাড়া অফিসের পিয়ন ওয়াদুদ আলী তিনি বলেন, আপনারা বলছেন অত টাকা আমরা নেইনি। আমি ওদের কাছ থেকে মাত্র খরচ বাবদ ৩,০০০ টাকা করে নিয়েছি। আমি আগামীতে তাদের টাকা ফেরত দিব সেটাও বলে দিয়েছি ওদের। এসব টাকা আমি একা খাই না, অন্যদেরকেও দিতে হয়।
পাইকপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্তব্যরত ২ জন নায়েব তারা বলেন, আপনারা যা শুনেছেন তা সত্য কথা। পিছন দরজা দিয়ে এসে ঢুকে বিভিন্ন রকম কাজ-কাম করে দালাল ও সাধারন মানুষেরা। এতে করে নিষেধ করলেও কেউ শোনে না। আমরা এখান থেকে বদলি নেয়ার জন্য এসিলেন্ট স্যারকে অনুরোধ করব। যাতে আমাদেরকে দ্রুত অন্যস্থানে বদলি করেন। নায়েব জুলেখা বেগম তিনি আরো বলেন, আমার এই অফিসে অতিরিক্ত কোন টাকা লেনদেন করা হয় না। কেউ যদি অফিসের বাহিরে দিয়ে আসে সেখানে আমার কিছু করার নাই।
এ বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান তিনি বলেন, পাইকপাড়া ভূমি অফিস যেন ঘুষ দুর্নীতির আখড়া। টাকা পয়সা ছাড়া কোনো কাজই হয় না এই অফিসে। এদের হাত থেকে রক্ষা পায়না গরিব-দুঃখী অসহায়, ফকির, মিসকিন ভিক্ষুকরাও। ভিক্ষুকের কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়েছে এ বিষয়ে জানতে অফিসে গেলে তারা আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। এদের চরম শাস্তি হওয়া উচিত।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আনসার আলী সরদার তিনি বলেন, এদের কাছে কোন মানবতা নেই টাকায় যেন সব। তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি ভূমি অফিসের পাশে হওয়ায় এই বিষয়ে আমার কাছে অনেকেই অভিযোগ নিয়ে আসেন। তবে এই অফিসের এই ধরনের লোকদের কঠোর বিচার হওয়া দরকার।
এই বিষয়ে জানতে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে আরাফাত আমান আজিজ পুঠিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তার ফোনে বেশ কয়েকবার ফোন দেওয়ার পর, রিসিভ না করায় মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
বিশেষ: দ্রষ্টব্য: আমাদের অনুসন্ধানের প্রথম পর্ব এটি….