• মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০৬:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী নগর বিএনপির নবনির্বাচিত সভাপতির সঙ্গে আল মামুনের সৌজন্য সাক্ষাৎ পুঠিয়ায় প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ নোমান-আরাফাতের নতুন নেতৃত্বে বাগমারা উপজেলা ছাত্র অধিকার পরিষদ তাহেরপুরে ওয়ান ডে ক্রিকেট টুনার্মেন্ট অনুষ্ঠিত রাজশাহী রেলওয়ে হাসপাতাল সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা রানা প্লাজা ধসে পুঠিয়ার আহত ময়নার ১২ বছর ধরে অর্থের অভাবে চিকিৎসা বন্ধ রিক্সা-চালক আবুল আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ প্রতারণা করে ভাগ্য বদল হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি বিএনপি নেত্রী মাহমুদা হাবীবার পুঠিয়ায় মুসা খাঁ নদী থেকে নারীর লাশ উদ্ধার পুঠিয়ায় রাস্তা থেকে জোর পূর্বক স্কুল ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ

মৃত্যুর আগে জুটলো না ভাষাসৈনিক স্বীকৃতি

সংবাদদাতা:
সংবাদ প্রকাশ: রবিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৩
মৃত্যুর আগে জুটলো না ভাষাসৈনিক স্বীকৃতি
মৃত্যুর আগে জুটলো না ভাষাসৈনিক স্বীকৃতি

বিডি নিউজ২৩; জয়পুরহাটের ভাষাসৈনিক আজিজার রহমান আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

 

রোববার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে জেলার ক্ষেতলাল উপজেলার মহব্বতপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর।

 

সোমবার দুপুরে মহব্বতপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

 

৫২’এর ভাষা আন্দোলনে জয়পুরহাটে যে ক’জন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন তাদেরই মধ্যে ছিলেন ডা. আজিজার রহমান। কিন্তু ভাষা সংগ্রামের ৭১ বছর পার হলেও ভাষাসৈনিক হিসেবে স্থানীয় কিছু সম্মাননা মিললেও জাতীয়ভাবে কোনো স্বীকৃতি মেলেনি ডা. আজিজারের।

 

জয়পুরহাট জেলায় যে কয়জন ভাষাসৈনিক ছিলেন তাদের মধ্যে একমাত্র আজিজার রহমানই বেঁচে ছিলেন। কিন্তু বার্ধক্যের কারণে তিনি ঠিকমতো কথা বলতে ও চলাফেরা করতে পারতেন না। নিজ বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়ে ছিলেন। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাস এলে অনেকেই খোঁজ-খবর নিলেও বাকি সময় তিনি থাকতেন নীরবে-নিভৃতে। মৃত্যুর আগে জীবদ্দশায় ভাষাসৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি চেয়েছিলেন তার পরিবার।

 

মো. আজিজার রহমান ১৯২৮ সালের মার্চ মাসের ৪ তারিখে নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার ঝারঘড়িয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পরে জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলাল উপজেলার মহব্বতপুর গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থাকেন। তিনি প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে ১৯৪৮ সালে আক্কেলপুর হাইস্কুলে ভর্তি হন। সেখানে তিনি নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করার সময় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন।

 

১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে ২২ ফেব্রুয়ারি দেশের অন্যান্য স্থানের মতো আক্কেলপুরেও ছাত্রসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অনেকের সঙ্গে তিনিও নেতৃত্ব দেন।

 

৬ দফা আন্দোলন, ১১ দফা আন্দোলন, অসহযোগ, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ এর নির্বাচন ও ৭১ সালে তিনি যুদ্ধে অংশ নেন। ১৯৭১ সালে তিনি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য ভারতে যান। সেখানে আসাম রাজ্যের তেজপুর ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ গ্রহন করেন। পরবর্তীতে তিনি মুক্তিযুদ্ধেও একনিষ্ঠ সংগঠক হিসেবে কাজ করেন। ২০০০ সালের ৭ অক্টোবর প্রকাশিত মুক্তিবার্তায় তার নাম উল্লেখ আছে। তার মুক্তিবার্তা নং-০৩০৫০৪০৩৮৫।

 

ব্যক্তিগত জীবনে ডা. আজিজার ছিলেন সৎ, নির্লোভ, দেশপ্রেমিক ও ত্যাগী রাজনীতিবিদ। এজন্য জীবনে ২ বার কারাবরণ করেন তিনি। তিনি আক্কেলপুর আদর্শ ক্লাব ও পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেন।

 

পেশাগত জীবনে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ছিলেন তিনি। তাই এলাকায় তাকে সবাই আজিজার ডাক্তার নামেই চিনতেন। তিনি ২ ছেলে ও ১ মেয়ের জনক। তিনিসহ তার স্ত্রী একাই বসবাস করতেন নিজবাড়ি মহব্বতপুরে।

 

তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জয়পুরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নের্তৃবৃন্দ।

সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

Recent Comments

No comments to show.