বিডি নিউজ২৩: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের ছেলের বৌভাতের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিন উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রেখেছেন শিক্ষকরা। তবে চিলমারী উপজেলার কিছু প্রতিষ্ঠান সকালে খোলা হলেও কিছুক্ষন পর তা বন্ধ করা হয়।
রোববার ওই তিন উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রেখে প্রতি মন্ত্রী মোঃ জাকির হোসেনের নিজ বাড়ী রৌমারী উপজেলা শহরের বাড়ীতে বৌভাতের দাওয়াতে যান তারা। এমন কি জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারাগনও ওই দাওয়াতে উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষকরা দাওয়াতে যাবেন। এজন্য স্কুল বন্ধ। এছাড়া, বিয়ের উপহার কিনতে শিক্ষকদের জনপ্রতি ৫০০ থেকে ৮০০ করে টাকা চাওয়া হয়েছে। প্রধান শিক্ষকদের টাকার পরিমাণ ধরা হয়েছে একটু বেশি।
প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন কুড়িগ্রামের রৌমারী, রাজীবপুর ও চিলমারী উপজেলা নিয়ে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য। তার বাড়ি রৌমারী উপজেলায়। প্রতিমন্ত্রীর রৌমারীস্থ বাসভবনে তার একমাত্র ছেলে সাফায়েত বিন জাকির সৌরভের বিবাহত্তোর বৌভাত অনুষ্ঠানে সকল শিক্ষক কর্মচারীদের সেখানে যেতে বলা হয়েছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানান, প্রতিমন্ত্রীর ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠান উপলক্ষে উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। শিক্ষকরা দাওয়াতে অংশ নিতে যাবেন। এজন্য আজ রোববার পাঠদান বন্ধ ছিল। বিয়ের উপহার নিতে জনপ্রতি ৫শ’ টাকা থেকে ১২শ টাকা নেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শহীদুল ইসলামের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনিও বিয়ের দাওয়াতে গেছেন বলে জানান। বিদ্যালয় বন্ধের বিষয়ে তিনি জানান, প্রচন্ড শীতের কারণে প্রধান শিক্ষকরা তাদের ক্ষমতাবলে ছুটি দিয়েছেন। কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা এমন পরিস্থিতিতে প্রধান শিক্ষকগন বছরে তিন দিন ছুটি দিতে পারেন।
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে সত্যতা পেয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন। প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের সাথে মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি। চিলমারী উপজেলায় ৯৩টি, রৌমারীতে ১১৪টি এবং রাজীবপুর উপজেলায় ৫৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। (সুত্র: ভোরের কাগজ)