বিডি নিউজ২৩: রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকা ইতোমধ্যেই অতিথি পাখি পল্লী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শীতকালে এই অতিথি পাখিরা এসব পল্লীতে এসে জড়ো হয়। আর তখনই একশ্রেণীর অসাধু মানুষেরা এয়ারগান সহ বিভিন্ন পাখি শিকার যন্ত্র দিয়ে পাখি শিকার করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
সোমবার (২ জানুয়ারি) আমাদের একটি টিম পুঠিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এর সত্যতাও পাওয়া যায়।
নানান জায়গায় সাধারণ মানুষের মৌখিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুরো পুঠিয়া এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার কাঠালবাড়িয়া, শিলমাড়িয়া, ফুলবাড়ি কইপুকুরিয়া সহ আরো অনেক জায়গার পাখি পল্লীতে এবার বেশ অতিথি পাখি দেখা যাচ্ছে। এসব এলাকার মানুষেরা পাখি চরাচরের দৃশ্য দেখে দারুণ আনন্দিত। তবে এসব এলাকা সহ এলাকার বাহিরে থেকে কিছু অসাধু পাখি শিকার কারীরা এলাকায় ঢুকে এয়ারগান সহ নানান রকম পাখি ধরা যন্ত্র দিয়ে অতিথি পাখি শিকার করছে। এসব অতিথি পাখি শিকার করাতে এলাকাবাসীদের মধ্যে এক প্রকার চাপা ক্ষোব দেখা গেছে। এভাবে পাখি শিকার করতে থাকলে ভবিষ্যতে হয়তো অতিথি পাখি বাংলাদেশে আসাই বাদ দিয়ে দেবে। এভাবে পাখি স্বীকার করাতে যেমনই নষ্ট হচ্ছে সৌন্দর্য, তেমনই ভাবে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য।
এলাকাবাসীদের মধ্য থেকে অনেকেই বলেন, আমাদের এলাকায় এই শীতের মৌসুমে বহু অতিথি পাখি দেখা যায়। আর কিছু অসাধু মানুষেরা এয়ারগান দিয়ে এই অতিথি পাখিগুলোকে মেরে নিয়ে যায়। শুধু বাহিরে থেকে আসা ব্যাক্তিরা নয়, স্থানীয় এলাকার লোকদের অনেকেই পাখি শিকার করে নিয়ে যায়। তাদেরকে পাখি শিকার করতে নিষেধ করলে কেউ তা শোনে না। আমরা অনেক সময় হাতে পায়ে ধরেও নিষেধ করে তাদেরকে পাখি শিকার করা থেকে ফেরাতে পারি না। এসব পাখি কখনো চোখে দেখেনি, এলাকায় নতুন এসেছে, দেখতে খুবই সুন্দর লাগে, আর এভাবে এই পাখিগুলোকে শিকার করলে আমাদের ভালো লাগেনা।
বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ে জানতে চাইলে পুঠিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম হিরা বাচ্চু তিনি বলেন, পাখি মারা বা শিকার করা সম্পূর্ণ নিষেধ। সাধারণ মানুষের কাছে ইয়ার গান রাখাও বেআইনি, পুলিশ জানতে পারলে সেগুলো অবশ্যই সিসড করবে। এমনকি ব্যক্তিগতভাবে আমি পাখির মাংস খাই না। অতিথি পাখি শিকার করা আসলে কোনোভাবেই কাম্য নয়।
বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নিয়ামুর রহমান বলেন, যারা এভাবে অতিথি পাখি মারছে তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। বিষয়গুলো আমাদের লোকজন প্রতিনিয়ত বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখছেন। এভাবে অতিথি পাখি শিকার করা বা নিধন করা কোন ভাবেই কাম্য নয়।