বিডি নিউজ২৩; রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়ন ভুমি অফিসে প্রকাশ্যেই চলছে ঘুষের টাকা লেনদেন।
গত (১৮ই ডিসেম্বর) রবিবার দুপুরের দিকে সাংবাদিকরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে গোপন ক্যামেরায় তাদের টাকা লেনদেনের বিষয়টি কেমনে রে বন্দি হয় এবং স্বীকার যান।
গত প্রায় এক বছর থেকে উপজেলার মঙ্গল পাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসটি বন্ধ রয়েছে এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে গিয়ে এর সত্যতাও মিলে। মঙ্গল পাড়ার ওই ইউনিয়ন ভূমি অফিসটি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা যায়। সেখানে কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর দেখা মেলেনি। মঙ্গল পাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসটি বন্ধ দেখে সেখানকার নায়েব খাদেমুল ইসলামের কাছে ফোন দিয়ে কথা হলে তিনি মোল্লাপাড়া ভূমি অফিসে আসতে বলেন। বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তারিত জানতে মোল্লাপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে, সেখানে সাংবাদিকদের চোখের সামনেই সেবা নিতে আসা মানুষের কাছ থেকে টাকা নেয়ার দৃশ্যটি গোপন ক্যামেরায় ক্যামেরাবন্দি হয় এবং এর সত্যতাও পাওয়া যায়।
মঙ্গলপাড়া থেকে মোল্লাপাড়া সেবা নিতে আসা সাধারণ অনেক মানুষের সাথে কথা হলে তারা বলেন, আমরা বাড়ির কাজকর্ম ফেলে মোল্লাপাড়ায় আসলে যেমন গাড়ি ভাড়ার টাকা খরচা হয় তেমনি, সময় অপচয় হয়। এখানে এসে বাসায় ফিরে গিয়ে আর কোন কাজকর্ম হয় না। সারাদিন এখানেই কেটে যায়। আর মঙ্গলপাড়া যে ভূমি অফিসটি আছে সেটা ব্রিটিশ আমলের বহু পুরাতন অফিস। দুই অফিসের কাজ এক অফিসে হওয়ায় সেবা গ্রহীতাদের ভোগান্তিও বেড়েছে বহু গুনে। ওই অফিসটি খুব দ্রুত চালু করার জন্য জোর দাবি জানাই।
ঘুষ গ্রহণ করার সময় ওই ব্যক্তিকে হাতেনাতে ধরে জিজ্ঞেস করা হয় আপনি কে? আপনি কার অনুমতিতে কাজ করছেন, আর মানুষের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন কেনো? এমন প্রশ্নের জবাবে ঘুষ গ্রহণকারী ওই ব্যক্তি বলেন, আমি এই অফিসে নায়েবের অনুমতিতে কাজ করছি। আমি এই অফিসের পেয়াদা। মানুষের কাজ করে দিয়ে আমি মিষ্টি খাওয়ার জন্য টাকা নিচ্ছি।
একই অফিসের সহকারী, তরিকুল ইসলাম তিনি, অন্য এক সাংবাদিক এর কাছে ফোন দিয়ে তার দ্বারা সংবাদ কর্মীদের ম্যানেজ করারও চেষ্টা করেন।
টাকা লেনদেনের বিষয়ে মোল্লাপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব খাদেমুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যারা অফিসের বারান্দায় কাজ করছে তারা অফিসের কেউ না, চিনিও না। টাকা লেনদেনের বিষয়টি আমি জানিনা।
তার কাছে প্রশ্ন করা হলে, যারা আপনার অফিসে ঢুকে মূল্যবান ভলিউম বই ও মূল্যবান কাগজপত্র বাহিরে নিয়ে এসে সাধারণ মানুষকে দেখাচ্ছে এবং টাকা নিচ্ছে তাহলে তাদের হাতে কিভাবে এই সাধারণ মানুষের এত মূল্যবান কাগজপত্র আসলো? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। সেখানে টাকা নেওয়া ব্যক্তিটি অনেক দিন যাবৎ সেখানে কাজ করছেন বলে এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা কমিশনার (ভূমি) আরাফাত আমান আজিজ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মঙ্গলপাড়া ভূমি অফিসটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। সেখানে বিল্ডিং সংস্কারের কাজ চলছে। আশা করি ভোটের আগে বা পরে খুব দ্রুত অফিসটি আবারও চালু হবে। খুব দ্রুতই মানুষের ভোগান্তি কমে আসবে। টাকা লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, যদি কেউ কারো কাছ থেকে কোনরকম টাকা-পয়সা নিয়ে থাকে এই বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য যে, ইউনিয়ন ভুমি অফিস বিষয়ে আমাদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ১ম… অংশ