বিডি নিউজ২৩, রাজশাহী- রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার স্বর্ণকারপট্টির ‘হোটেল ওয়েলকাম’ ও লক্ষিপুর জিপিও অপজিটে চয়েজ আবাসিক হোটেলে চলছে রমরমা দেহ ব্যবসা ও মাদকের আখড়া। দীর্ঘদিন থেকে র্যাব পুলিশের অভিযান পরিচালনা না করায় থামছে না দেহ ব্যবসার কাজ। এগুরো আবাসিক হোটেলে দেহ ব্যবসা পাশাপাশি চলে মাদক সেবন । গত বছর সেখান থেকে ৭ নারীসহ ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছিলেন র্যাব। বিভিন্ন সময় হোটেলের নাম বদল হলেও অবৈধ এ দেহ ব্যবসা কারবার কখনও বন্ধ হয়নি। নগরীর প্রাণকেন্দ্রে সাহেববাজার ভূবন মোহন পার্কের পাশেই এ হোটেলের অবস্থান। পাশাপাশি মাদক কারবারও চলছে এই দুই হোটেলটিতে। মাঝেমধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালালেও বন্ধ হয়নি অবৈধ এ কারবার।এদিকে ৫ আগষ্ট সরকার পতনের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান পরিচালনা না করায় আরো রমরমা দেহব্যবসা চলমান।
অভিযোগ রয়েছে পুলিশকে ম্যানেজ করেই এসব চালাচ্ছে মালিকপক্ষ। কুখ্যাত এ হোটেলটি পরিচালনা করেন রাজশাহী মহানগরীর ভদ্রা এলাকার বাসিন্দা সোহেল। একসময় এ হোটেলের বয় ছিলেন তিনি। ধীরে ধীরে অনৈতিক কাজে সিদ্ধহত হয়ে যান সোহেল। রাতারাতি মোটা আয় দেখে নিজেই নিয়ে নেন দুটি হোটেল। একটি হোটেল চয়েজ অপরটি ওয়েলকাম আবাসিক হোটেল।এরপর পেশাদার যৌনকর্মীদের নিয়ে গড়ে তোলেন নেটওয়ার্ক। এ যৌনকর্মীদের অনেকেই জিম্মি হয়ে রয়েছেন সোহেলের কাছে। অনৈতিক এ কাজ থেকে বেরিয়ে যাবার চেষ্টা করেও পারেননি অনেকে।
অভিযোগ রয়েছে, নগরীর বিভিন্ন এলাকা বাসা ভাড়া নিয়েও দেহব্যবসা ও মাদক ব্যবসা চালাচ্ছেন এই সোহেল রানা। নির্বিঘ্নে কাজ করতে গড়ে তুলেছেন পোষা গুণ্ডা বাহিনী। অনেকে না বুঝে হোটেলে কিংবা এদের বাসায় উঠলেই জিম্মি করে আদায় করেন অর্থ। তবে মানসম্মানের ভয়ে ঘটনার শিকার কেউই অভিযোগ দেননি থানায়। সূত্র জানায়, আবাসিক হোটেল ওয়েলকাম ও চয়েজ হোটেলের কক্ষে দিনের বেলায় অবস্থান করেন তরুণীরা। এদের কয়েকজন ১৮ বছরের নিচে। রাতে এরা বিভিন্ন নম্বর কক্ষে অবস্থান করেন। অপেক্ষায় থাকেন ডাক পড়ার। ডাক পড়লে গভীর রাতেও বাইরে যান যৌনকর্মীরা।স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রকাশ্যে এমন কর্মকাণ্ডে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে যে কোনো সময়। ঘটতে পারে অপ্রীতিকর ঘটনাও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে অবৈধ এ কারবার বন্ধে এখনই উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানান স্থানীয়রা।
যশোর থেকে আশা এক যৌনকর্মী ছদ্ম নাম ( শীলা) জানায়,তিনি প্রতিদিন ১০/১৫ টি কাজ করে থাকেন প্রতি কাজের জন্য পান ১৫০ /২০০ টাকা। এদিকে এই কাজ করতে আশা ব্যাক্তিদের কাছ থেকে নেওয়া হয় ৩০০/৫০০ টাকা।
ঢাকা থেকে আসা ছদ্ম নাম( লাবন্য) তিনি বলেন, আমাকে শোরুমের কাজ দিবে বলে এখানে রেখে গেছে। এগুলো কাজ আমি করতে চাই না তবুও পিতা মাতা অসুস্থ তাই বাধ্য হয়ে এই কাজে লিপ্ত আছি।রাতে বিভিন্ন বাসা বাড়িতে হোটেল মালিক পাঠিয়ে দেয় ১ জনের নাম করে পাঠিয়ে দিলেও সেখানে ২/৩ জনের কাছে থাকতে হয়।কোন কোন সময় এর সংখ্যা বেড়েও যায়। সারারাত কাজ করে ১৫০০/২০০০ হাজার টাকা দেয়। মালিক ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা নেয়। আমরা বিভিন্ন ভাবে নির্যানতের শিকার হই।কাউকে কিছু বলতে পারি না বলতে গেলে আমরা যারা রয়েছি তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয় নির্যানত করা হয় এমনকি বিদেশে পাচাঁর করে দেবার হুমকিও দেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হোটেল মালিক সোহেল বলেন,আমার হোটেলে দেহ ব্যবসা হয় না। এগুলো যার কাছ থেকে শুনেছেন তার কাছে আরো শুনে নেন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে বোয়ালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, আবাসিক হোটেলে কোন অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার কোন সুযোগ নেই। দূত সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
রাজশাহীর অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রকিবুল হাসান ইবনে রহমান বলেন, আপনারা আমাদের বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন। অতিদ্রুত এই দুইটি হোটেল অভিযান পরিচালনা করা হবে।এছাড়াও আবাসিক হোটেল ব্যবসার নামে অনৈত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা যাবে না।