• রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী নগর বিএনপির নবনির্বাচিত সভাপতির সঙ্গে আল মামুনের সৌজন্য সাক্ষাৎ পুঠিয়ায় প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ নোমান-আরাফাতের নতুন নেতৃত্বে বাগমারা উপজেলা ছাত্র অধিকার পরিষদ তাহেরপুরে ওয়ান ডে ক্রিকেট টুনার্মেন্ট অনুষ্ঠিত রাজশাহী রেলওয়ে হাসপাতাল সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা রানা প্লাজা ধসে পুঠিয়ার আহত ময়নার ১২ বছর ধরে অর্থের অভাবে চিকিৎসা বন্ধ রিক্সা-চালক আবুল আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ প্রতারণা করে ভাগ্য বদল হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি বিএনপি নেত্রী মাহমুদা হাবীবার পুঠিয়ায় মুসা খাঁ নদী থেকে নারীর লাশ উদ্ধার পুঠিয়ায় রাস্তা থেকে জোর পূর্বক স্কুল ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ

রিক্সা-চালক আবুল আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ প্রতারণা করে ভাগ্য বদল

বিডি নিউজ২৩, রাজশাহী-
সংবাদ প্রকাশ: শনিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৫
রিক্সা-চালক আবুল আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ প্রতারণা করে ভাগ্য বদল
রিক্সা-চালক আবুল আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ প্রতারণা করে ভাগ্য বদল

রকিবুল হাসান (রকি), (রাজশাহী) দরিদ্র কৃষক এর সন্তান আবুল হোসেন। শিক্ষাগত কোন যোগ্যতা নেই তার। নিজের নাম স্বাক্ষর করতেও হিমশিম খান তিনি। দীর্ঘদিন  তিনি নিজ এলাকায় চালাতেন ভ্যান গাড়িও। তবে একটা সময় রাজশাহী শহরে রিক্সা চালাতে গিয়ে প্রতারণা করে হঠাৎ ভাগ্য বদলে যায়। রিক্সা চালক থেকে সরাসরি হয়ে ওঠেন ধনী। তার প্রতারণার কাহিনী সিনেমাকেও হার মানাবে!

 

রাজশাহী জেলা পুঠিয়া উপজেলার পালোপাড়া গ্রামের মৃত শলেমানের ছেলে মো:আবুল (৫৫)। গ্রামে তাকে ভেড়া-আবুল নামে সবাই চেনেন। তবে প্রতারণা টাকায় রিক্সাচালক ভেড়া আবুল থেকে হয়ে ওঠেন প্রভাবশালী ব্যক্তি। তারা তিন ভাই আবুল,আইনাল ও ভোলা। তিন ভাই ভ্যানচালক। দুর্ঘটনায় মেজ ভাই আয়নাল মারা যায় আর ছোট ভাই ভোলা মাছ ধরে ও ভ্যান চালিয়ে সংসার চালান। তবে বড় ভাই আবুল এখন কোটিপতি।

 

সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, কয়েক বছর আগেও আবুল চালাতেন রিক্সা তবে বর্তমানে চড়েন প্রায় তিন লক্ষ টাকার মোটরসাইকেলে। ছিল টিনের দেয়াল টিনের চাল। তবে বর্তমানে তৈরি করেছেন ইটের বাড়ি। বাড়ির ভেতরে রঙে-রঙে বাতি আর উন্নত কাঁচের তৈরি দরোজা-জানালা। বিভিন্ন এলাকায় লক্ষ-লক্ষ টাকায় পুকুর ও কৃষি জমি লীজ নিয়েছেন। কালাম নামের একজনকে মাসিক বেতনে পার্সোনাল সেক্রেটারি (পিএস) হিসাবে রেখেছেন। তার লীজকৃত পুকুর ও কৃষি জমি দেখাশোনার জন্য ৫-৬ জন কর্মচারী কাজ করেন। এছাড়াও তিনি সদর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য হিসেবে ভোট করবে বলে মৌখিক ভাবে ভোটারদের জানান দিয়েছেন। এ যেন আঙুল ফুলে কলাগাছ!

 

গ্রামবাসী বলছেন, আবুল বাড়ির পাসে শামসুলের পুকুর খননের সময় অলৌকিকভাবে জিনের ধনরত্ন পেয়েছেন। এরপর থেকে তিনি আর রিক্সা চালান না। অভাব দূর হয়েছে তার। জিনের দেওয়া ধনরত্ন বিক্রি করে আজ তার সফলতা। জিনের বাদশা আবুলকে ভালোবেসে অনেক সোনা ও রুপা দিয়েছে। এগুলো বিক্রি করে বিলাসবহুল জীবন-যাপন করেন রিক্সাচালক আবুল।

 

 

প্রশ্ন জাগে, কয়েক বছর আগে আবুলের একমাত্র আয়ের উৎস ছিল রিক্সা চালানো তহলে হঠাৎ কিভাবে এতো বিলাসবহুল জীবনযাপন তার? আবুল এখন কোটিপতি। আবুলের ধনী হওয়ার পিছনের রহস্য জানতে অনুসন্ধান শুরু হয়। আবুলের লিজকৃত পুকুরে গিয়ে দেখা মিলে তার সাথে। চেষ্টা চলে আসল রহস্য উদঘাটনের। এরপরে একাধিকবার তার মুঠোফোনেও কথাও হয়। জানা যায় আসল রহস্য জিনের ধনরত্ন নয় প্রতারণা করেই হয়েছেন রিক্সা চালক থেকে ধনী।

 

 

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, রাজশাহীর একজনের সাথে প্রতারণা করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে আবুল হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় অর্ধ কোটির বেশি টাকা এমনটাই অভিযোগ একটি ভুক্তভোগী পরিবারের। তারা বলেন,সর্বপ্রথমে রিক্সা চালক আবুল ভুক্তভোগীর বাড়িতে পেয়াজ-রসুন নিয়ে যেত। এরপর তাদের সরলতার সুযোগ নিয়ে গনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে। মাঝে মাঝে আবুল ভুক্তভোগীর বাড়িতে বেড়াতে যেত। ভুক্তভোগের স্ত্রী সরকারি চাকরি করতো। তাদের সাথে পারিবারিকভাবে রিক্সাচালক আবুল আত্মীয়তা শুরু।

 

ভুক্তভোগীর পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা যায় আসল রহস্য। তিনি বলেন, বিশ্বস্ততার সুযোগে আমার সহজ সরল চাচার সাথে প্রতারণা করেছেন আবুল। চাচাকে ব্ল্যাকমেইল করে কয়েকবারে হাতিয়ে নিয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা। আমার চাচি সরকারি চাকরি করেন তার পেনশনের টাকাটাও ভয়ে আবুলকে দিতে বাধ্য হয়েছে। আমার চাচাকে ভয় দেখিয়েছে যে, আবুল নাকি কাশিয়াডাঙ্গা এবং চারঘাট এলাকার দুইজন কে হত্যা করেছে। চাচা যদি আবুলকে টাকা না দেয় তবে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করবে। গ্রেফতারের পরে আবুল আমার চাচাকে ফাঁসিয়ে দিবে। আর এভাবেই পুলিশের ভয় ভীতি দেখিয়ে দফায় দফায় নগর ক্যাশ ও বিকাশে মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছে বহু টাকা।

 

তিনি আরো জানান, টাকা নেওয়া শেষ হলে একপর্যায়ে আবুলের মোবাইল নম্বর থেকে চাচাকে কল দিয়ে জানায় আবুল মারা গেছে। চাচা তার পরিচয় জানতে চাইলে বলে ‘আমি তার ছেলে’। আবারো শুরু হয় নতুন প্রতারণা, মৃত্যু খবর দিয়ে চাওয়া হয় টাকা। আবারো তাদের ফাঁদে পড়ে আমার চাচা বিকাশে টাকা দেন।

 

এসব অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে আবুল বলেন, ‘এগুলো মিথ্যা আমি তাদের আমি চিনি না। কিভাবে ধনী হলেন জানতে চাইলে আবুল সাংবাদিকের উপর ক্ষিপ্ত হোন এবং মিথ্যা মামলার হুমকি দেন। এছাড়াও সংবাদ প্রকাশ করলে মারধরসহ পরিবারের লোকজনের ক্ষতি করবে বলে হুমকিও দেন তিনি।

 

হুমকি দেওয়ার পরের দিন আবুল প্রতিনিধি হিসেবে শাহেদ ডাইবার, আবুলের (পিএস) কালাম, কৈপুকুরিয়ার কালু সহ ৭/৮ জন আবুলের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি এসে সাংবাদিককে ম্যানেজার চেষ্টা করেন। তাদের দেওয়া প্রস্তাবের রাজি না হলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ফিরে যান।

রিক্সা-চালক আবুল আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ প্রতারণা করে ভাগ্য বদল

রিক্সা-চালক আবুল আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ প্রতারণা করে ভাগ্য বদল

সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

Recent Comments

No comments to show.