বিডি নিউজ২৩, রাজশাহী-: রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ প্রায়ই উঠে। বন্দী বেচাকেনা, অর্থের বিনিময়ে সুস্থ বন্দীদের হাসপাতালে ভর্তি, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অবৈধ মাদকদ্রব্য কারা অভ্যান্তরে প্রবেশ বাণিজ্য, চড়া মূল্যে খাবার বিক্রির অভিযোগ এখন আর নতুন নই।
এবার রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে নিম্নমানের খাবার সরবরাহ, পছন্দের ঠিকাদারকে বছরের পর বছর ধরে কাজ পাইয়ে দেয়া, চাকরী বাণিজ্য, বিনা টেন্ডারে গাছ কর্তন, মাদক বানিজ্য সহ রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে মোঃ সুমন নামের এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য পাওয়া গেছে।
শুধু তাই নই শিক্ষাগত যোগ্যতার জাল সার্টিফিকেট ব্যবহার করে ঠিকাদার হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে ডাউল, সবজি, মাছ, মাংস সাপ্লাই দিচ্ছেন ঠিকাদার সুমন। অভিযোগ উঠেছে তিনি অতি নিম্নমানের খাবার সাপ্লাই দেয়ার পরও অজ্ঞাত কারনে বিগত আওয়ামী সরকারের আমল থেকে আজ অবদি তিনিই কারাগারে সাপ্লাইয়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এছাড়াও জেল সুপার হালিমা ও জেলার
হাবিবুর রহমান দায়িত্বে থাকা কালিন তৎকালীন আওয়ামী সরকারের সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনের দাপট দেখিয়ে টেন্ডার ছাড়াই পুরোনো বেশ কিছু গাছ কর্তন করেন।
এছাড়াও ঠিকাদার সুমন কারাগারে চাকরি দেয়ার নামে একাধিক মানুষের কাছে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এদের মধ্যে একজন ভূক্তভোগী সাবেক (অবঃপ্রাপ্ত) সুবেদার মোঃ শহীদুল ইসলাম। তার এক আত্নীয়ের চাকরি দেওয়ার নামে ১৩ লাখ গ্রহণ করেন সুমন। গ্যারেন্টার হিসেবে তিনি নিজ নামীয় চেক ও স্ট্যাম্প দেন। কিন্তু আজ অবদি সাবেক (অবঃপ্রাপ্ত) সুবেদার শহীদুল ইসলামের আত্নীয়ের চাকরি বা তার কাছ থেকে নেয়া টাকা
ফেরত দেননি ঠিকাদার সুমন।
সূত্রে আরো জানা যায়, প্রতি ৬মাস পর পর কারাগারে টেন্ডার আহবান করা হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে দীর্ঘ এক যুগ ধরে কাজ পাচ্ছেন এই সুমন। এ নিয়ে অন্যান্য ঠিকাদারদের মধ্যেও রয়েছে চরম ক্ষোভ।
কারা সূত্রে জানা যায়, হিসাব রক্ষক এবং সহকারী প্রধান কারারক্ষীর ছত্র-ছায়ায় কারা ঠিকাদার সুমন দীর্ঘদিন যাবৎ নিম্নমানের খাবার সাপ্লাই করে আসছে। এছাড়া রয়েছে, কারা অভ্যান্তরে মাদকের চোরাচালান,দ্বিগুন মূল্যে গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবা ট্যাবলেট, ঘুমের বড়ি সাপ্লাইয়ের অন্যতম ঠিকাদার সুমন। এছাড়াও সে বিভিন্ন বন্দিদের বাড়ি থেকে টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন সামগ্রী কারা অভ্যান্তরে পৌঁছে দেন।
জানতে চাইলে কারা ঠিকাদার সুমন বলেন, আমি ছাড়া কারাগারে অন্য কোন ঠিকাদার কাজ পাবে না। আমি কারাগারে যা বলবো, তাই হবে। আমি দীর্ঘ ১৪/১৫ বছর যাবত কারাগারে ঠিকাদারী কাজ করছি। আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা।বর্তমানে ১০/১৫জন ঠিকাদার কারাগারে সাপ্লাইয়ের কাজ করে। চাকরির নামে সুবেদার শহীদুলের কাছে ১৩ লাখ টাকা নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, টাকা পরিশোধ করে দিয়েছি।
তবে একাধিক সূত্রে জানা গেছে, টাকার বিনিময়ে চাকরি দেয়া এবং চাকরি না দিয়েও একাধিক ব্যক্তির কাছে টাকা আত্মসাৎও করেছেন ঠিকাদার সুমন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো: আমান উল্লাহ্ জানান, এসকল অভিযোগের বিষয় আমার জানা ছিলো না আপনি বললেন অভিযোগসমূহ তদন্ত করে দেখবো জরিত থাকলে অবস্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এবিষয়ে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো: শাহ আলম খান এর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। তাই কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাজশাহী কারাগারে সাবেক মেয়র লিটনের আশির্বাদপুষ্ট ঠিকাদার সুমন