বিডি নিউজ২৩, যশোর- সারাদেশের প্রতিটি এলাকায় অনলাইন জুয়া ছড়িয়ে পড়েছে ক্যান্সারের মত। এমনকি এই জুয়া একজন ভ্যানচালক থেকে শুরু করে ছাত্ররাও খেলছেন। অনলাইন জুয়া সহজলভ্য হওয়ায় প্লে স্টোর থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করে খুব সহজেই খেলা যায় সেই কারণে অধিকাংশ মানুষ ঝুঁকে পড়ছে ওই জুয়ার দিকে।
অনলাইন জুয়া খেলায় হেরে গিয়ে যশোর সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের দৌলতদিহি গ্রামের হৃদয় দেব নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) সকালে এ ঘটনা ঘটে।
তার পরিবারের সদস্যরা জানায়, হৃদয়দেব চুড়ামনকাটি বাজারের ইসমাইল হোসেনের ফার্মেসিতে কর্মচারীর কাজ করতো। প্রতিদিনের ন্যায় সকালবেলা বাড়ি থেকে বের হয় দোকান খোলার উদ্দেশ্যে। পরে লোকমুখে জানতে পারেন তাদের ছেলে হৃদয় দেব ফার্মেসির মধ্যে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, হৃদয় সম্প্রতি অনলাইনে জুয়া খেলায় আসক্ত হয়ে পড়ে। অনলাইনে জুয়া খেলায় হেরে গিয়ে হৃদয় আত্মহত্যা করেছে।
মালিক ইসমাইল হোসেন বলেন, “প্রতিনিয়ত সকাল বেলা দোকান খোলে হৃদয় দেব। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১ টা ২০ মিনিটের দিকে আমি দোকানে এসে দেখি দোকানের শাটার বন্ধ। এ সময় আমি সাটার তুলে দোকানের ভিতরে উকি মারতেই দেখি হৃদয়ের মরদেহ দোকানের ভিতর গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলছে। এ সময় আমার চেঁচামেচিতে আশেপাশের ব্যবসায়ীরা ছুটে আসেন। তবে কি কারণে সে আত্মহত্যা করেছে আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।”
হৃদয়ের বাবা বাসুদেব জানান, সকালে নাস্তা করে হৃদয় দোকান খোলার কথা বলে বাড়ি হতে বের হয়। এরপর তিনি জানতে পারেন, তার ছেলে দোকানের মধ্যে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
তিনি সাংবাদিকদের জানান, তার ছেলে জুয়া খেলায় আসক্ত হয়ে পড়ে সাম্প্রতি। তার মতে, অনলাইনে জুয়া খেলা হেরে যাওয়ায় হৃদয় আত্মহত্যা করে। এছাড়া তার ছেলের আত্মহত্যা করার মত কোন কারণ নেই।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ময়না তদন্তের জন্য লাশ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
এ ব্যাপারে সাজিয়ালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই আব্দুর রউফ জানান, চুড়ামনকাটি বাজারে গলায় ফাঁস নিয়ে এক যুবক মারা গেছে এমন খবর পেয়েই আমি ঘটনাস্থলে হাজির হই। তবে পুলিশ যাওয়ার আগেই লাশ নামিয়ে ফেলেন স্থানীয়রা। আমি লাশের প্রাথমিক সুরহাতাল রিপোর্ট তৈরি করে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করি। ময়না তদন্ত রিপোর্টের পরে বোঝা যাবে মৃত্যুর আসল ঘটনা।
উল্লেখ্য যে, ২৮ জুলাই সোমবার সকালে অনলাইনে জুয়া খেলে ঋণে জর্জরিত হয়ে, পিতার কাছে টাকা চেয়ে পিতা টাকা দিতে না পারায়, রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার রাজবাড়ী এলাকায়, এক যুবক তার নিজের বাসায় আগুন ধরিয়ে, সব পুড়িয়ে দেয়। এতে করে বোঝা যাচ্ছে অনলাইন জুয়া দিন দিন মানুষের জীবনে অভিশপ্ত হয়ে উঠছে। তাই এখনই এই জুয়া খেলার লাগাম টেনে না ধরতে পারলে ভবিষ্যতে অনেক পস্তাতে হবে বলে ধারণা করছেন সাধারণ মানুষেরা। জুয়া খেলার কুফল সম্পর্কে সচেতনামূলক প্রচার-প্রচারণা খুব বেশি জরুরী হয়ে পড়েছে বলেও ধারণা করছেন তারা।

অনলাইনে জুয়া খেলায় হেরে যুবকের আত্মহত্যা