বিডি নিউজ২৩, রাজশাহী- রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের মাইনুদ্দীন এর স্ত্রী রোকসানা বেগম (৪৬) ও তাঁর দেবর গোলাম রহমান মিলে বাড়ির পাশে হড়মবিলে ২৬শতক জমিতে এবার বোরো চাষ করেছিলেন। ধানগুলোতে পাক ধরেছিল। কয়েকদিন পরেই ঘরে তুলতে পারতেন। তবে এর আগেই করখন্ড গ্রামের প্রভাবশালী সারোয়ার হোসেন বিদ্যুৎ লোকজন নিয়ে গৃহবধূ রোকসানা বেগমসহ কয়েকজন কৃষকের প্রায় ১০০ বিঘা জমির চারপাশে মাটির সীমানা দিয়ে ঘিরে ফেলেন পুকুর খননের জন্য। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে খননকাজে ব্যবহৃত এক্সেভেটর অকার্যকরসহ একজনকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬মে) বিকেলে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে পুকুর খনন বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি আটক হওয়া ব্যক্তির দুই লাখ টাকার অর্থদণ্ড অনাদায়ে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডাদেশ দেন। দণ্ড পাওয়া ওই ব্যক্তির নাম মাজহারুল ইসলাম চপল (৩৬)। তিনি জেলার মোহনপুর উপজেলার বিদিরপুর গ্রামের মাহাবুব আলমের ছেলে।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের করখন্ড গ্রামের বাসিন্দা স্থানীয় ভাবে প্রভাবশালী সারোয়ার হোসেন বিদ্যুৎ কিছুদিন আগে পশ্চিম দৌলতপুর গ্রামের অর্ধশতাধিক কৃষকের জমি দখল করে পুকুর খননের প্রক্রিয়া শুরু করেন। ওইসব জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছে। তিনি এক্সেভেটর দিয়ে প্রায় ১০০ বিঘা জমির চারপাশে ঘিরে ফেলে পুকুর খনন শুরু করেন। এসময় জমির মালিকেরা বাধা দিতে গেলে ভাড়াটে লোকজন দিয়ে হুমকী দেওয়া হয়। নিরুপায়ে কৃষকদের পক্ষে মাইনুদ্দিনসহ দুই ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দুপুরে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহাবুবুল ইসলাম সেখানে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। তিনি সেখানে কৃষকদের জমি ঘিরে নিয়ে পুকুর খননের দৃশ্য দেখতে পান। এসময় পুকুর খননকারীদের ভাড়াটে মাজহারুল ইসলাম ওরফে চপলকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। তিনি পুকুর খননের দেখভাল করছেন বলে স্বীকার করেন। পরে তাঁকে আটক করা হয়। একই সময়ে পুকুর খননের কাজে ব্যবহার করা এক্সেভেটর অকার্যকর করেন। স্থানীয় অর্ধশত কৃষক জানান, ভাড়াটে লোকজন নিয়ে তাঁদের ধানচাষ করা জমি দখল করে পুকুর খনন শুরু করা হয়েছে। জমির চারপাশে লোকজন পাহারা বসিয়ে পুকুর খনন করা হচ্ছে। উপজেলার বাকশৈল গ্রামের গৃহবধূ রোকসানা বেগম জানান, তাঁদের ২৬ শতকসহ এলাকার কৃষকদের প্রায় ১০০ বিঘা জমি দখলে নিয়ে পুকুর খনন শুরু করা হয়েছে। আর কয়েকদিন পরে ধান ঘরে তুলতে পারতেন তবে সে সুযোগও দেওয়া হয়নি। এছাড়াও বাকশৈল মৌজায় তিন বিঘা ও মহব্বতপরে ১২ কাঠা জমি দখলের জন্য ও প্রাননাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত সারোয়ার হোসেন বিদ্যুৎ এর সঙ্গে কয়েক বার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর পক্ষের লোকজন জানান, কৃষকদের কাছ থেকে পুুকুর খননের জন্য জমি ইজারা নেওয়া হয়েছে। ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, কৃষকদের জমি দখল করে পুকুর খননের দৃশ্য দেখা গেছে। এই বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের জমি উদ্ধার করা হয়েছে।

আ’লীগ বিদায় হলেও বাগমারায় থেমে নেই পুকুর খনন, ভ্রাম্যমান আদালতের জরিমানা