সহিংসতায় জড়িত একজনের পক্ষে পুলিশের এক কর্মকর্তার সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করেছেন। বিষয়টি পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আনিসুর রহমান জানার পর রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন থানায় তদবিরবাজদের তালিকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন…
বিডি নিউজ২৩, রাজশাহী: কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলায় সহিংসতার ঘটনায় ৭৬টি মামলা হয়েছে। বেশির ভাগ মামলা করেছে পুলিশ। কিছু মামলা করেছেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা। এসব মামলায় বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা গ্রেপ্তার হলেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আবার তদবির করছেন। এছাড়া বিভিন্ন পদমর্যাদা ও সামাজিক সংগঠনের নেতারাও তদবির করছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তদবিরবাজ নেতাদের তালিকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশ। ইতিমধ্যে তালিকার নির্দেশনা দিয়ে বিভাগের আট জেলার পুলিশ সুপারদের (এসপি) চিঠি দেওয়া হয়েছে। একই নির্দেশনা এসপিরা পাঠিয়েছেন থানাগুলোতে। চিঠিতে তদবিরবাজ নেতাদের অতীত বিশ্লেষণ করে করণীয় নির্ধারণে সরকারের উচ্চপর্যায়ে তালিকা পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।
পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি বিজয় বসাক জানান, সা¤প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় বিভাগের আট জেলার বিভিন্ন থানায় বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) পর্যন্ত ৬৭টি মামলা হয়েছে। এছাড়া রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) ৩টি থানায় করা হয়েছে ৯টি মামলা। এসব মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি এক হাজারের বেশি। এছাড়া অজ্ঞাত আসামি অগণিত সংখ্যক। আসামিদের প্রায় এক হাজার জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আরএমপির ৯ মামলায় ১৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরএমপির মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামির সংখ্যা প্রায় তিন হাজার।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত ১৬ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন সহিংস হয়ে উঠে। পর দিন মহানগরীর বিভিন্ন স্থানের পাশাপাশি বগুড়া, নওগাঁ, পাবনা, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট এবং সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্র মতে, বগুড়ায় আওয়ামী লীগের একজন মেয়র সহিংসতায় জড়িত একজনের পক্ষে পুলিশের এক কর্মকর্তার সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করেছেন। বিষয়টি পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আনিসুর রহমান জানার পর রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন থানায় তদবিরবাজদের তালিকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আনিসুর রহমান জানান, ‘নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার কারও জন্য যে ব্যক্তিই তদবির করুক, তাদের তালিকা করা হবে। এ জন্য রাজশাহী বিভাগের আট জেলার এসপিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এসপিরা থানার ওসিদের মাধ্যমে তালিকা করছেন। যে তালিকা আসবে, তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পাশাপাশি তদবিরবাজদের অতীত বিশ্লেষণ করে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা গেছে, নাশকতায় জড়িতদের অর্থদাতা, মদদদাতা ও বিস্ফোরক সরবরাহে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অনুসন্ধান চলছে। মামলা তদন্তে অর্থদাতাদের খুঁজে বের করতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বিস্ফোরকদ্রব্য কীভাবে কোথা থেকে, কে কোথায় সরবরাহ করেছে, তারও তদন্ত চলছে। পুলিশের পাশাপাশি এসব বিষয়ে র্যাবও কাজ করছে। শুধু রাজশাহীতেই র্যাব ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
র্যাব-৫, রাজশাহীর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফিরোজ কবির জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মনে করছে, অগ্নিসংযোগের জন্য গানপাউডার ব্যবহার করা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে এই বিস্ফোরক পদার্থ এনে সারা দেশে ছড়ানো হয়েছে কী না? এসব কর্মকাণ্ডে চিহ্নিত জঙ্গি ও আগুন সন্ত্রাসীদের বিষয়েও চলছে পুলিশের বিশেষ তদন্ত। (সুত্র: দৈনিক ইত্তেফাক অনলাইন)

রাজশাহীতে তদবিরবাজ আ’লীগ নেতা ও কর্মকর্তাদের তালিকা হচ্ছে: রেঞ্জ পুলিশ