বিডি নিউজ২৩, রাজশাহী: রাজশাহী জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রাধিন পুঠিয়া উপজেলার ঝলমলিয়া ডাকবাংলো প্রায় দু’যুগের বেশি সময় থেকে পরিত্যক্ত। কৃর্তপক্ষের নজরদারীর অভাব ও রক্ষনা-বেক্ষন না করায় বাংলোটি জরার্জীন্ন হয়ে ভাগাড়ে পরিনীত হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন থেকে স্থানীয় কিছু বখাটে লোকজন ও মাদক ব্যবসায়ীদের মদদে প্রকাশ্যে চলে বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ, জুয়ার আসর, মাদক ব্যবসা।
জানাগেছে, এক সময়ের খড়শ্রোত নদী মূসাখাঁ তীরে ও উপজেলার ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে ব্রিটিশ আমলে এক একর ২২ শতাংশ জমির উপর প্রতিষ্ঠত হয় ঝলমলিয়া ডাকবাংলো। স্বাধীনতার পর বাংলোটি নামমাত্র দু’একবার সংস্কার করা হলেও প্রায় দু’যুগ থেকে কর্তৃপক্ষের আর কোনো নজরদারী নেই। অবহেলা ও অযত্নে বাংলোটি পরিত্যক্ত হয়ে গেছে।
সরে জমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন রক্ষনা-বেক্ষন না করায় বাংলোর চারপাশে ঝোপঝাড় হয়ে গেছে। চার চালা টিনের একটি অতিথিশালার দরজা-জানালা তালাবদ্ধ। পাশে দুটি আবাসিক ভবনে উপরের চালা, দরজা জানালা নেই। শুধু চার পাশের দেয়াল দাড়িয়ে আছে। আবার কোনো কোনো দেয়ালের বেশীর ভাগ ইট কে বা কাহারা খুলে নিয়ে গেছে। ভবনের চার পাশে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য বোতল ও উপকরণ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে।
এলাকাবাসীরা বলেন, স্বাধীনতার পর কয়েক বছর বাংলোটিতে লোকসমাগম ছিল। এরপর প্রায় ২৫/২৬ বছরের বেশি সময় থেকে নজরদারীর অভাবে ডাকবাংলোটি এখন ভুতুরে এলাকা পরিনীত হয়ে গেছে। বর্তমানে সেখানে কিছু এলাকার বখাটে লোকজন মাদক ব্যবসা, জুয়ার আসর ও বিভিন্ন অসামাজিক কাজে ব্যবহার করছে। অনেক সময় মাঝের মধ্যে এই জায়গাতে ছিনতাইয়ের মতো ঘটনাও ঘটে ।
এ বিষয়ে রাজশাহীর জেলা পরিষদের ৯ নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃ আসাদুজ্জামান মাসুদ বলেন, জেলা পরিষদ ডাকবাংলা মাদকের বা অসামাজিক কার্যকলাপ হয় এ বিষয়ে আমার জানা ছিল না আপনি বললেন আমি এরপর জানতে পারলাম। তবে আমি শুনেছি জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর সীমানাপাঁচির দুইটা জায়গায় ভাঙ্গার কারণে সাধারণ মানুষ প্রবেশ করতে পারে। আমরা অল্প সময়ের মধ্যেই মেরামত কাজ শুরু করব।
এ পুঠিয়া থানার ওসি সাইদুর রহমান জানান,
মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান আছে। এই বিষয়ে আমাদের কাছে স্থানীয় কোন কেউ অভিযোগ জানায়নি। তবে এ বিষয়ে যেহেতু আপনি বলেন আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।

পুঠিয়ার জেলা পরিষদ ডাক বাংলো পরিত্যক্ত অ-সামাজিক কাজের আখড়া