বিডি নিউজ২৩; প্রেম করার অপরাধে নড়াইল সদরে মো. আরিয়ান মোল্লা (১৭) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর ডান পায়ের রগ কেটে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে সদরের নড়াইল-গোবরা সড়কের পাশে কাড়ার বিলে এ ঘটনা ঘটে।
মো. আরিয়ান মোল্লা নড়াইল পৌরসভার মহিষখোলা গ্রামের মোহাম্মদ মোল্লার ছেলে। সে নড়াইল পৌর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী। আহত আরিয়ানকে নড়াইল সদর হাসপাতাল থেকে মঙ্গলবার রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোরে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী আরিয়ানের হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে হামলার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনার জানা জানি হয়।
ভিডিওতে আরিয়ানকে বলতে শোনা যায়, আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। দুপুরের পর আউড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম পলাশ (জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সাধারণ সম্পাদক) আমার বাড়িতে এসেছেন আমার সঙ্গে কথা বলার জন্য। তার সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে একটি প্রাইভেটকারে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন খান নিলুর দেহরক্ষী তুষার শেখ ও রয়েল আমাদের বাড়িতে আসে। পরে তারা সবার সামনে আমাকে টেনে-হিঁচড়ে একটি গাড়িতে তুলেন।
গাড়িতে ২ জন নারীও ছিল, তারা কেউ কোনো কথা বলেনি। পরে আরও একটি প্রাইভেটকার আসে। একপর্যায়ে তুষার, রয়েল, এলান আমার হাতে-পায়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে রাস্তার উপর ফেলে রেখে যায়। পরে আহত অবস্থায় ভ্যানে করে নড়াইল সদর হাসপাতালে নেয়া হয়।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, আরিয়ানের সঙ্গে এক শিক্ষিকার মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে কিছুদিন ধরে ঝামেলা চলছিল। একারণেই হত্যার উদ্দেশে এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য আরিয়ানের বাড়িতে গেলে তার বাবাকে পাওয়া যায়নি এবং মেয়ের পরিবারেরও কারও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জানতে চাইলে জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক ও আউড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান এস এম পলাশ বলেন, আমাকে আরিয়ানের বাবা বিষয়টি সমাধানের জন্য বলেছিলো, সেই কথা বলতে আমি তাদের বাসায় গিয়েছিলাম। আমি চলে আসার পরে কী ঘটেছে, তা আমার জানা নেই।
নড়াইল সদর হাসপাতালের চিকিৎসক পার্থ সারথী রায় কোন কথা বলতে রাজি না হলেও আধুনিক সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ড. আব্দুল গাফফার বলেন, ছেলেটির ডানপায়ের রগ কাটা হয়েছে। এটার জন্য অর্থোপেডিক সার্জারির প্রয়োজন। তাই যশোরে রেফার্ড করা হয়েছে।
সদর থানার ওসি মো. ওবাইদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরই জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে একাধিক টিমের সমন্বয়ে অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। মামলার পর যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযুক্তকে কোন ছাড় দেয়া হবে না। (সুত্র: নয়াশতাব্দী)

প্রেম করার অপরাধে এক ছাত্রলীগ কর্মীর পায়ের রগ কেটে দেয়ার অভিযোগ