রাজশাহীর দুর্গাপুরে পুকুর খনন ও রাস্তা নষ্ট করায় ৬ হাজার জরিমানা, আটক-৩ পরে মুক্তি
ইমাম হোসাইন, বিডি নিউজ২৩; প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বালু মহাল আইন অনুযায়ী আবাদি জমিতে পুকুর খনন বন্ধ রাখার স্পষ্ট নির্দেশ থাকলেও, তা যেন কোনোভাবেই রোধ করা যাচ্ছে না রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায়। পুকুর খনন করে সেই মাটি আবার বহন করা হচ্ছে অবৈধ ট্রাক্টর (কাঁকড়া) গাড়ি দিয়ে। নষ্ট করা হচ্ছে এলাকার সরকারি কাঁচা-পাকা রাস্তা। ওসব এলাকার গুটিকয়েক প্রভাবশালী ব্যক্তির সুবিধার জন্য নষ্ট করা হচ্ছে হাজার হাজার মানুষের চলাচলের এসব রাস্তা ও ফসলি জমি। সাধারণ মানুষরা বলছেন প্রশাসনের ঘুম ভাঙবে কবে!

ব্যাটারি পড়ানোর ছবি
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় উজানখলশী ইউনিয়ন ভূমি (দেবিপুর নামু পাড়া) পেছনে প্রায় ১৫ বিঘার মতো আঃ আজিজ সাবেক ব্যাংকার আবাদী জমির মাটি কেটে পুকুর তৈরি ও মাটি বিপণনের কাজ চলছে মর্মে এক অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্গাপুর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) কৃষ্ণ চন্দ্র সহ দুর্গাপুর থানার সহযোগিতা নিয়ে ঘটনাস্থলে যান।
মোবাইল কোর্টের টিম দেখে ঘটনাস্থল থেকে ভেকুর ড্রাইভার পালিয়ে যায়। ফলে ভেকু মেশিনটি জব্দ করেন ও গাড়ির বেটারী পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুল ইসলামের হেফাজতে রাখা হয়। এবং স্থানীয় লোকজনদের জানানো হয়।
সেখান থেকে ফেরার পথে বদির মোড়ের সাথে রাস্তার ঠিক পাশে জালাল উদ্দীন আনুমানিক বিশ বিঘার মত আবাদী জমিতে তিনটি ভেকু দিয়ে মাটি কাটার কাজ চলছে দেখে ঘটনাস্থলে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কৃষ্ণ চন্দ্র পুলিশ ফোর্সসহ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযান পরিচালনাকালে ভেকুর ড্রাইভারদের পাওয়া যায়নি। তবে মাটি পরিবহণের উদ্দেশে দন্ডায়মান তিনটি লরিগাড়ির ড্রাইভারকে ধরা হয়েছে এবং মোবাইল কোর্ট আইনে তিনজনকে পৃথক মামলায় দুই হাজার করে মোট ছয় হাজার টাকা অর্থদন্ড ও অনাদায়ে তিনদিনের কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। পরে আটকিতারা ৬০০০ টাকা জমা দিয়ে ছাড়া পায় বলে জানা যায়।
এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ( ভারপ্রাপ্ত) কৃষ্ণ চন্দ্র বলেন, জমির শ্রেণীর পরিবর্তন করে কোন পুকুর খনন হবে না। আমাদের তথ্য দিন উপজেলা প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহন করবে। কোনভাবে অবৈধ পুকুর খানন ও রাস্তা নষ্ট করা যাবে না।
উল্লেখ্য যে, গত সপ্তাহে একই আইনে পার্শ্ববর্তী উপজেলা পুঠিয়াতে দুই জায়গায় দুটি অভিযান চালালে সেখানে পৌনে তিন লাখ টাকা জরিমানা ও চারটি এস্কেভেটর (ভেকু) জব্দ করা হয়েছিল। দুর্গাপুর উপজেলার প্রায় সকল কাঁচা পাকা রাস্তায় মাটি ভরে পিচ্ছিল হয়ে আছে। কোথাও কোথাও রাস্তা ভেঙ্গে গেছে নষ্ট হয়েছে এই মাটি টানার ফলে। এত কিছুর পরেও উপজেলা প্রশাসনের অতটা টনক নড়েনি। এখন অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, সরকারি কোটি কোটি টাকার রাস্তা নষ্ট করার অপরাধে ৬০০০ টাকা জরিমানা। এই নিয়ে দুর্গাপুরের পার্শ্ববর্তী উপজেলা গুলোতে চলছে নানান আলোচনা সমালোচনা। আবার কেউ কেউ মনে করছেন তবু অভিযান অব্যাহত থাক।

আটককৃত তিনজনের ছবি