বাগমারায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের গাছ কর্তন ও জমি দখলের অভিযোগ
ইমাম হোসাইন, বিডি নিউজ২৩: রাজশাহী বাগমারা উপজেলার সুলতানপুর ব্রিজ পাশে বটগাছ কর্তন জমি দখলের অভিযোগ ওঠেছে স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
বাগমারা থানায় অভিযোগ সুত্রে জানা যাই, মো: জাহাঙ্গীর আলম (৪৬) পিতা মৃত: বীর মুক্তিযোদ্ধা আলিমউদ্দিন সাং সুলতানপুর তাহেরপুর পৌরসভা বাগমারা, রাজশাহী থানায় আসিয়া বিবাদী ১, মো: জাহাঙ্গীর (৪৭) গ্রাম রামগুইয়া শ্রীপুর ইউনিয়ন বাগমারা রাজশাহীর বিরুদ্ধে বাগমারা থানায় আসিয়া এই মর্মে অভিযোগ করেন, গত ৭ মে ২০২৩ ইং তারিখে রাত ১ ঘটিকার সময় বিবাদী সুলতান পুর উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন আমার বট গাছ ও জমি জোরপূর্বক দখল করে এবং জমি ভরাট করে আমি বাঁধা নিষেধ করলে আমাকে মারধর করবে বলে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রর্দশন করে সুলতানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা সুলতানপুর স্কুল সংলগ্ন ব্রিজ মৌজা ১৫৬ নং এর ৫৭০/৫৮৪ দাগের ৪ শতাংশ জমি নিয়ে।
সরকারি আইন অমান্য করে অবৈধ ভাবে গাছ কর্তনে উচ্চ আদালতে আইন অমান্য করা বিধান অনুযায়ী, সরকারের অনুমতি ছাড়া বন, সড়কের পাশের ও পাবলিক প্লেসের গাছ কাটলে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রেখে ‘বৃক্ষ সংরক্ষণ বিল, ২০১২’ হতে পারে।
জমির মালিক ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর বলেন, আমার বাবার পৈত্রিক জমির তারা জোরদখল করে ভরাট করছিলো সুলতানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম, আমি গিয়ে বার বার মানা করছিলাম তারা আমাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছিলো। তারপর আমি নিরুপায় হয়ে বাগমারায় থানায় লিখিত অভিযোগ করি, তবে আজ ১৩ মে শনিবার উক্ত জমি বের করে দিলেও আমার কর্তন কৃত বটগাছের কোন ফাইসালা দেয় নাই স্কুল শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম, অবৈধ ভাবে গাছ কেটে ফেলার সুবিচার দাবি করছি।
এই বিষয়ে সুলতান পুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি শিক্ষক মানুষ প্রতিষ্ঠানের জন্য মানুষের জমি কেন যাবার দখল করব। এছাড়াও কখনো মানুষের অন্যায় করিনি মানুষের জমা জমি খায়নি। জমা জমির নিয়ে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল এই বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে সবার মাধ্যমে ফায়সালা হয়ে গেছে। জমির গাছগুলো আমি রোপন করেছিলাম পরবর্তীতে সে গাছ থেকে মানুষ ছায়া পেতো এবং গ্রামবাসীরা এসে গরু ছাগলকে গাছগুলোর পাতা খাওয়ানোর জন্য ভেঙ্গে নিয়ে যেত এভাবে গাছটি পরে মরে যায়। এরপর গাছের কিছু অংশ সেখানে পড়ে থাকে রাত্রিবেলা সম্ভবত (ভেকু) এস্কেভেটর দিয়ে মাটি কাটার সময় তারা ভেঙ্গে সাইড করে রেখে দিয়েছে। এছাড়াও তারা চাইলে গাছের ওই অংশগুলো নিয়ে যেতে পারে তাতে আমাদের কোন আপত্তি নেই।
এ বিষয়ে জানতে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাহেরপুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর (সাবেক) জাবেদ আলী বলেন, ভুক্তভোগীকে সবাই মিলে বসে জমি মাপ যোগ করে তার কাছে বের করে দেওয়া হয়েছে। জমির উপর গাছপালা ছিল সত্য ঘটনা তবে আমি দুই পক্ষের সাথে কথা বলে রেখেছি যে পরবর্তীতে গাছপালা এর বিষয়ে ফায়সালা করে দেওয়া হবে।
এই বিষয়ে তাহেরপুর তদন্ত কেন্দ্রের আইসি জিলালুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ জানতে পেরে আমি সরে জমিনে গিয়ে, দেখে তাদেরকে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য তাগাদা দিয়ে আসি। কারণ বিষয়টি ছিল জমা জমি সংক্রান্ত।

বাগমারায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের গাছ কর্তন ও জমি দখলের অভিযোগ