বৈরী আবহাওয়ায় পুঠিয়ায় বেড়েছে ডায়রিয়া ও জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। সাথে যুক্ত হয়েছে মশা, ১ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকার কথা থাকলেও কখনো কখনো সেটাও মিলছে না, ক্ষোভ জনমনে। গ্যাস ও এল এমজি সংকট….
ইমাম হোসাইন, বিডি নিউজ২৩: পুঠিয়া উপজেলায় বিদ্যুৎ কখন আসে আর কখন যায় এ যেন ভেলকিবাজি খেলার মত হয়ে উঠেছে। পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে এক ঘন্টা বিদ্যুৎ দেওয়ার কথা থাকলেও, কখনো কখনো তা ঘন্টার নিচে নেমে আসছে। এতে করে জনমণে দেখা গেছে চরম ক্ষোভ আর অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে উপজেলা বাসি। সাথে যুক্ত হয়েছে গরম এতে করে বেড়েছে ডায়রিয়াজনিত রোগীর সংখ্যা। এছাড়াও মশার যন্ত্রণা বাস করায় হয়ে উঠেছে দায়। এ থেকে পরিত্রাণের উপায়ও দেখছে না সংশ্লিষ্টরা। তবে বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে স্বীকার করে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, একটু বৃষ্টি হলে বিদ্যুৎ ঘাটতির সমস্যা সমাধান হতে পারে। বলা হচ্ছে গ্যাস ও এল এমজি সংকট।
বৈরী আবহাওয়ায় রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়া ও জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। রোগীর স্বজনেরা জানিয়েছেন, গরম বেড়ে যাওয়ায় গত কয়েক দিন ধরে ঘরে ঘরে বয়স্ক ও শিশুরা ডায়রিয়া ও জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত হচ্ছে। তাই রোগী নিয়ে ছুটে আসছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। চিকিৎসকেরা বলছেন, বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব পড়ছে বিভিন্ন বয়সের লোকজনের ওপর। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছুই নেই। যথাযথ নিয়মে চিকিৎসাসেবা নিলে দ্রুত সুস্থ হয়ে যাবে অসুস্থরা।
আজ শনিবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণ ওয়ার্ডের পাশাপাশি শিশু ওয়ার্ডে রোগীর ভিড়। এদের মধ্যে বেশির ভাগ রোগী জ্বর-সর্দি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। এ ছাড়া শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীও আছে বেশ।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম বলেন, গত সপ্তাহ থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়া, বমি, জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এদের মধ্যে শিশু রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৫ জন ডায়রিয়া রোগী সেবা নিয়েছেন। জ্বর ও সর্দি–কাশিতে আক্রান্ত রোগীও অনেক বেশি আসছে। এ ছাড়া বহির্বিভাগেও প্রায় একই অবস্থা। গুরুতর অসুস্থদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। একটু কম অসুস্থদের এখানে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছে ১৯ জন। এদের মধ্যে শিশু ১৭ জন।
নজরুল ইসলাম নামের এক ভর্তি রোগী বলেন, ‘হঠাৎ করে গতকাল পাতলা পায়খানা শুরু হয়। বাড়িতে থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে কোনো লাভ হয়নি বরং কিছু সময়ের মধ্যে শরীর নিস্তেজ হতে শুরু হয়। এরপর রাতেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু) শুভ্র প্রকাশ পাল বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়ার কারণে শিশু ও বয়স্করা শ্বাসকষ্ট, জ্বর-সর্দিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরে রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। আমরা রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দিচ্ছি। আতঙ্কের কিছু নেই। সঠিক নিয়মে চিকিৎসা গ্রহণ করলে অল্প সময়ের মধ্যে রোগীরা সুস্থ হয়ে যাবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাজরুই রহমান প্রত্যয় বলেন, আবহাওয়ার কারণে সম্প্রতি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়া, জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। তবে এখানে আসা রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সেবা দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, লোডশেডিং এ অতিষ্ঠ হয়ে ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় গত কাল শনিবার ১৬ই এপ্রিল ছাগলনাইয়া উপজেলা বাসি অতিষ্ঠ হয়ে হামলা ও ভাঙচুর করে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস। পাশাপাশি মারধর করা হয় সংশ্লিষ্ট কাজের মানুষদেরকে। বিভিন্ন উপজেলায় ঘুরে দেখা গেছে মানুষের মধ্যে জমে রয়েছে ব্যাপক ক্ষোভ। অনেকেই মনে করছেন, যে কোন মুহূর্তে উপজেলায় অতি উৎসাহীরা, বেশি উৎসাহী হয়ে এই ধরনের কাজ করতে পারে। তাই আগে থেকেই সাবধান হওয়ারও তাগিদ দিচ্ছেন অনেকেই।

বৈরী আবহাওয়ায় পুঠিয়ায় বেড়েছে ডায়রিয়া ও জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। সাথে যুক্ত হয়েছে মশা, ১ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকার কথা থাকলেও কখনো কখনো সেটাও মিলছে না, ক্ষোভ জনমনে। গ্যাস ও এল এমজি সংকট।

বৈরী আবহাওয়ায় পুঠিয়ায় বেড়েছে ডায়রিয়া ও জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। সাথে যুক্ত হয়েছে মশা, ১ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকার কথা থাকলেও কখনো কখনো সেটাও মিলছে না, ক্ষোভ জনমনে। গ্যাস ও এল এমজি সংকট।