দোয়ারাবাজারে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মানবেতর জীবনযাপন!
দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি: মোঃজুয়েল মিয়া, সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের উস্তিংগের গাও গ্রামে জরাজীর্ণ ঘরে ঢুকে পড়া বৃষ্টির পানির মধ্যেই পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে এক মুক্তিযোদ্ধার পরিবার। টিনের তৈরি একমাত্র জরাজীর্ণ ঘরে ভোগান্তি নিয়ে চলছে তাদের বসবাস।
জানা যায়, উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের উস্তিংগের গাও গ্রামে মুক্তিযোদ্ধা মরহুম রুপালী মিয়ার বাড়ি। মুক্তিযুদ্ধের সন্মাননা হিসেবে সরকার কর্তৃক প্রদানকৃত তাঁর সামরিক সনদ নম্বর ম-১০৬০৮২। পিতার মৃত্যুর পর মুক্তিযোদ্ধা ভাতার টাকা ও দিনমজুরের কাজ করে চলছে মুক্তিযোদ্ধার দুই পুত্র মানিক মিয়া ও দানিছ মিয়ার পরিবার। ছেলে মানিক মিয়া ও দানিছ মিয়ার বাড়িতে টিনের তৈরি একটিমাত্র ঘর, যা বসবাসের অনুপযোগী। কিন্তু কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতে সেটি বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা মরহুম রুপালী মিয়ার ছেলে মানিক মিয়া বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত গরিব শ্রেণির মানুষ। দিন আনি দিন খাই। বাড়ির একমাত্র ঘরটি বেহাল হওয়ায় অতিকষ্টে দিন পার করছি। সরকার কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দকৃত বাড়ির জন্য আবেদনও করেছি। একজন অসহায় মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্য হিসেবে এ বিষয়ে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছি।’
সংশ্লিষ্ট প্রশাসন অসহায় এই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে শান্তিতে ঘুমানোর ব্যবস্থা করে দেবেন- এমনটি প্রত্যাশা মুক্তিযোদ্ধা মরহুম রুপালী মিয়ার দুই পুত্র মানিক মিয়া ও দানিছ মিয়া। সেই সঙ্গে দ্রুত স্থায়ী আবাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মানিক মিয়া। কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার পিতার আশা পূরণ হলো না। এর আগেই তিনি মারা যান। একটি পাকা ঘর নির্মাণ হলে আমার পিতার আত্মা শান্তি পাবে।
স্থানীয় আরেক মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক বলেন, ‘মরহুম মুক্তিযোদ্ধা রুপালী মিয়ার বসবাস করার ঘরটি একেবারে জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে। এখানে বসবাস করা খুব কঠিন আর কষ্টের।’
এ ব্যাপারে বাংলাবাজার ইউনিয়নের সদস্য মোশারফ হোসেন বলেন, ‘তাদের ঘরের বেহাল অবস্থার কথা আমি জেনেছি। সরকারের পক্ষ থেকে একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
বাংলাবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রোটারিয়ান শেখ আবুল হোছাইন জানান, মুক্তিযোদ্ধা মরহুম রুপালী মিয়ার দুই ছেলে খুবই অসহায় অবস্থায় আছে। তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারি ভাবে ঘর বরাদ্দ দেওয়া সময়ের দাবী
এই বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মোঃ আরিফ মোর্শেদ মিশু তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নাই বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে তার জন্য যা কিছু করা যায়, তাদের জন্য চেষ্টা করবো।

দোয়ারাবাজারে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মানবেতর জীবনযাপন!