দীর্ঘ ৯ মাস বিদ্যুৎবিহীন সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ৪ গ্রামের মানুষ!
জুয়েল মিয়া, সুনামগঞ্জ, বিডি নিউজ২২: সুনামগঞ্জের হাওর বেষ্টিত শাল্লা উপজেলা, বেষ্টিত শাল্লা নির্জন ওই এলাকায় বিদ্যুতের আলো পৌঁছে দিতে ২০১৭ সালে প্রায় ৩২ কোটি টাকা খরচে শুরু হয় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ। ওই প্রকল্পে যৌথভাবে অর্থায়ন করে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাষ্ট এবং বন মন্ত্রণালয়।
এদিকে ওই প্রকল্পের আওতায় পড়ে শাল্লা উপজেলার, মৌরাপুর, আগওয়ায়, বিলপুর ও শাষখাই গ্রাম। প্রকল্পের শুরুর দিকে পুরো দিনে মানুষ বিদ্যুৎ পেত মাত্র ২ ঘন্টা।
কিন্তু গত বছর ১৬ই জুন ভয়াবহ বন্যায় লন্ডভন্ড হয়ে যায় সব। এদিকে ওই প্রকল্পের যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে বন্ধ হয়ে যায় সোলার প্রকল্পটি। পরে অজ্ঞাত কারণে দীর্ঘ নয় মাস বন্ধ থাকলেও মেরামতের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ওই প্রকল্পের মেরামত বা পুনরায় চালু না করায় দীর্ঘ নয় মাস অন্ধকারে ডুবে ছিল চারটি গ্রামের মানুষ।
বর্তমানে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে ওই প্রকল্পটি। প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যাবার পর থেকে ওই সকল গ্রামে ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে ছাত্রদের শিক্ষা ব্যবস্থা। বিদ্যুতের কারণে পিছিয়ে যাচ্ছে ব্যাপকভাবে ওই চারটি গ্রাম। করা যাচ্ছে না ফটোকপি হচ্ছে না মোবাইল চার্জ ব্যবহার করা যাচ্ছে না কম্পিউটার সহ ডিজিটাল ডিভাইস গুলো। আর কতকাল সময় বন্ধ থাকবে জানা নেই কারো তবে আশার বাণী শোনাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে ওই চারটি গ্রামের ছাত্র থেকে কৃষক এদের মধ্যে বহু মানুষ খুব দ্রুত গ্রাম গুলোতে বিদ্যুৎ চায়। গ্রামবাসীরা বলছেন টাকা বিদ্যুৎ নেব অথচ বিদ্যুৎ দেওয়ার কেউ নেই। আমরা এগিয়ে যাওয়ার বদলে পিছিয়ে যাচ্ছি খুব দ্রুত গতিতে। আমরা যে আশা করে স্বরবিদ্যুৎ নিয়েছিলাম সে আশা পূরণ হয়নি উল্টো আমরা ক্ষতিগ্রস্তের মধ্যে পড়েছি।
এই বিষয়ে, বিদ্যুৎ বিভাগ বলছেন, ওই প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রহিম আফরোজ রিনিউঅ্যাবল এনার্জি লিমিটেডকে ইতোমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত সোলার প্লান্ট মেরামতের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এই বিষয়ে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী অফিসার, আবু তালেব তিনি বলেন, ওখানকার মানুষদেরকে পল্লী বিদ্যুতের আওতায় আনার একটা চিন্তা ভাবনা আছে। খুব দ্রুত কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে এই বিষয়ে জানানো হবে। চেষ্টা করা হচ্ছে খুব দ্রুত ও এলাকার মানুষদেরকে পল্লী বিদ্যুতের আওতায় আনার।

দীর্ঘ ৯ মাস বিদ্যুৎবিহীন