বিডি নিউজ২৩: কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীকে গণরুমে আটকে রেখে নির্যাতনের ঘটনার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এ ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি সানজিদা চৌধুরীসহ ৫ জনকে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২৭ ফেব্রুয়ারি, সোমবার এক সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শামসুল আলম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আগামী ১ মার্চ দুপুর ১২টার মধ্যে তাদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন- পরিসংখ্যান বিভাগের সানজিদা চৌধুরী, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের তাবাসসুম ইসলাম ও মোয়াবিয়া জাহান, আইন বিভাগের ইসরাত জাহান মীম ও চারুকলা বিভাগের হালিমা খাতুন উর্মী।
এরআগে গেল ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে ইবির দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের গণরুমে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা আটকে রেখে এক শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগী ফুলপরী খাতুন ফিন্যান্স বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য মতে, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি সানজিদা চৌধুরীর নেতৃত্বে তাকে নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের সময় তাকে বিবস্ত্র করে অপত্তিকর ভিডিও ধারণসহ গালাগাল, মারধর করা হয়। এমনকি এ ঘটনা কাউকে জানালে হত্যারও হুমকি দেয় নির্যাতনকারীরা।
পরে এ বিষয়ে ওই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, হলের প্রাধ্যক্ষ ও ছাত্র উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এদিকে বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠনের পাশাপাশি বেশ কিছু নির্দেশনা দেন হাইকোর্ট।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গেল ২৬ ফেব্রুয়ারি, রোববার তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।
এরআগে গেল ১৫ ফেব্রুয়ারি চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মুন্সি কামরুল হাসানকে প্রধান করে দুই সহসভাপতি বনি আমিন ও রাকিবুল ইসলাম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেনকে কমিটির সদস্য করা হয়। পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।