বিডি নিউজ২৩: রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ১ নং সদর ইউনিয়নে কম্পিউটারের সার্ভার জটিলতার কারণে চেয়ারম্যান আশরাফ খান ঝন্টুর বিরুদ্ধে জন্ম নিবন্ধনে জাতীয়তা বাংলাদেশের স্থলে উগান্ডা দেশের নাম উঠে যাওয়ায় মিথ্যে অপবাদ ওঠে।
গত (১০ই জানুয়ারী) উপজেলার এক নং সদর ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় যে, গত ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে নিজ সন্তান মোঃ লাবিব আব্দুল্লাহ এর জন্য জন্ম নিবন্ধন এর আবেদন করেন একই উপজেলা মোঃ রাকিবুল ইসলাম। পরে জানুয়ারি মাসের ১০ তারিখে জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট নিতে আসেন ইউনিয়ন পরিষদে। পরিষদের সচিব মোঃ আব্দুল জলিল প্রথমে সই-সিল দিয়ে চেয়ারম্যান এর কাছে নিয়ে আসে পরে চেয়ারম্যান ব্যস্ততার মাঝে সই করে দেয়। এ সময় প্রায় একসাথে ৭০ থেকে ৮০ টি জন্ম সনদ সই করেন চেয়ারম্যান আশরাফ খান ঝন্টু। এ সময় সার্ভার জটিলতায় ভুল হয়ে প্রিন্ট হয়ে আসা উগান্ডার নাম সহ ওই জন্ম সনদও সই করেন চেয়ারম্যান। পরে সচিব আব্দুল জলিল রাকিবুল ইসলাম এর হাতে তার ছেলের জন্ম সনদ তুলে দিলে এই ভুলটি ধরা পড়ে রাকিবুল ইসলাম এর চোখে। এসময় দ্রুত বিষয়টি চেয়ারম্যানকে অবহিত করলে, চেয়ারম্যান আশরাফ খান ঝন্টু ততক্ষনাৎ আরো এক কপি প্রিন্ট করে রাকিবুল ইসলাম এর হাতে দিতে বলে। পরে সংশোধিত ওই জন্ম সনদ সার্টিফিকেটটি নিয়ে বাড়ি চলে যায় রাকিবুল ইসলাম।
এই ঘটনায় সন্তানের জন্ম সনদ সার্টিফিকেট নিতে আসা রাকিবুল ইসলাম বলেন, সেদিন জন্ম সনদে একটা ভুল হয়েছিল বিষয়টি আমি চেয়ারম্যানকে জানানোর পর সাথে সাথে ওই ভুল সংশোধন করে আবার নতুন করে এক কপি আমার হাতে তুলে দেয়। এ বিষয়ে আমার কাছ থেকে কেউ কোন টাকা পয়সা চাইনি বা গ্রহণ করেনি। আমি অন্য কোন কারো কাছে অভিযোগ করিনি। কোনরকম হয়রানির শিকার হয়নি। পরিষদের সেবা আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে এবং তাৎক্ষণিক আমার সমস্যা সমাধান হওয়ায় চেয়ারম্যান কে আমি ধন্যবাদ জানাই।
পুঠিয়া ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা অন্তর বলেন, আপনারা এসে কম্পিউটারে দেখেন এখানে ইচ্ছে করলেও বাংলাদেশের স্থলে উগান্ডা দেওয়া সম্ভব নয়। সেদিন জাতীয়ভাবে সার্ভার জটিলতা দেখা দিয়েছিল। যার কারণে এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে পরক্ষণে আবার সার্ভার ঠিক হওয়ার পরে বাংলাদেশ লেখাটি আসে।
এ,বি,এম শাখাওয়াত হোসেন বাশার, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগ এবং সভাপতি, পুঠিয়া উপজেলা বঙ্গবন্ধু শিশু একাডেমি তিনি বলেন, এই বিষয়টি বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় দেখার পর আমি নিজে খোঁজখবর করে দেখেছি জন্ম সনদ নিতে আসা রাকিবুল ইসলামের কাছ থেকে কেউ কোনো রকম টাকা দাবি করেনি এবং হয়রানিও হয়নি। কারণ আমার বাড়ি রাকিবুল ইসলামের বাড়ির কাছে। আমি মনে করি চেয়ারম্যান আশরাফ খান ঝন্টুর বিরুদ্ধে অতি উৎসাহিত হয়ে কেউ কেউ পত্রিকায় এই ধরনের খবর ছেপেছেন যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট, ভিত্তিহীন।
পুঠিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সচিব মোঃ আব্দুল জলিল তিনি মুঠোফোনে গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, এটা জাতীয় ভুল কারণ ঐদিন যেগুলো জন্ম সনদ সার্টিফিকেট প্রিন্ট করা হয়েছে সবগুলোতে অটোমেটিক বাংলাদেশের জায়গায় উগান্ডা উঠেছে। আমি খেয়াল না করেই উক্ত জন্ম সনদ সার্টিফিকেটে সই ও সিল দেই। এবং চেয়ারম্যানকে দিয়েও সই করে আনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুঠিয়া সদর ১ নং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশরাফ খান ঝন্টু তিনি বলেন, বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা বিষয়ে প্রায় সকল কাজই সচিব নিজেই করেন। তাই তিনি সকল জন্মশনের সার্টিফিকেট প্রিন্ট করে একসাথে অনেকগুলো আমার কাছে এনে দেয়। প্রথমে আমি সচিবের সিল ও সই দেখি পরে আমার সিল সই দিয়ে দেই। আমি একসাথে অনেকগুলো জন্ম সনদ আশায় সবগুলো একটা একটা করে দেখতে পারেনি। যার কারণে সই করে দিয়ে দিয়েছি। আমি জানি সচিব সবকিছু দেখে যাচাই-বাছাই করে সিল সই দিয়ে আমার কাছে নিয়ে এসেছেন। তারপর আমি সই করি।
চেয়ারম্যান আশরাফ খান ঝন্টু আরো বলেন, যখন রাকিবুল ইসলামের হাতে তার ছেলের জন্ম সনদটি দেওয়া হয় ঠিক তখনই তিনি ওই জন্ম সনদের ভুলটি বুঝতে পারেন। এবং আমাকে এসে জানায় পরে আমি সচিবের কাছে যেতে বললে তৎক্ষণাৎ পরিষদের সচিব কোন টাকা পয়সা ও হয়রানি ছাড়াই জন্ম সনদ সার্টিফিকেট প্রিন্ট করে নতুন আরো একটি বের করে দেয়।