বিডি নিউজ২৩: কনডম দিয়ে সাজানো হয়েছে হাসপাতালের জরুরী বিভাগ। হাসপাতালে কনডমকাণ্ড, স্টাফ নার্স বহিষ্কার মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষ সাজানো হয় কনডম দিয়ে। ওই সাজসজ্জার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় বিপাকে পড়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় এক স্টাফ নার্সকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ ডিসেম্বর) শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিজয় দিবস উপলক্ষে হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন কক্ষ, করিডর, বারান্দায় বেলুন দিয়ে সাজানো হয়। এতে দেখা যায় জরুরি বিভাগ, অফিস কক্ষের সামনেসহ বিভিন্ন স্থানে রঙিন বেলুনের পাশাপাশি সরকারি সুগন্ধিযুক্ত নিরাপদ কনডম ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি চোখে পড়ে সাধারণ মানুষের। অনেকে কনডম দিয়ে সাজসজ্জার ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করেন। মুহূর্তেই বিষয়টি ভাইরাল হয়ে যায়। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চোখে পড়লে কনডমগুলো ফাটিয়ে ফেলা হয়।
এদিকে, শহরে হাসপাতালের কনডমকাণ্ড নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিজয় দিবসে হাসপাতালে এমন কাণ্ডকে ভালো চোখে দেখছে না কেউ। তবে বিষয়টি হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসার পরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফ নার্স রেজাউল করিমকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুমন কুমার পোদ্দার বলেন, ‘ফেসবুকে বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। বিজয় দিবস উপলক্ষে আমরা হাসপাতালকে সুসজ্জিত করি। এরমধ্যে বেলুন দিয়েও সুসজ্জিত করা হয় হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষ ও বারান্দা। তবে জরুরি বিভাগের বেশ কয়েকটি স্থানে ও প্রবেশদ্বারের ওপরে সরকারি সুগন্ধিযুক্ত নিরাপদ কনডম ফুলিয়ে ঝুলিয়ে দেয়ার বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হই। পরে সেখানে দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফ নার্স মো. রেজাউল করিমকে বরখাস্ত করি এবং কেন এটা হয়েছে তার জবাব চেয়ে নোটিশ দেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমিসহ হাসপাতালের আরও তিনজন ডাক্তারকে নিয়ে ৪ সদস্যের কমিটি গঠন করি। আমরা বিষয়টিকে সাধারণভাবে নিচ্ছি না। কে বা কারা এ ঘটনা করতে পারে, তার পেছনে কী উদ্দেশ্য হতে পারে, সে লক্ষ্যেই আমরা তদন্ত কমিটি করেছি। আশা করি অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বের করে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারব।’
এ বিষয়ে বরখাস্ত হওয়া মো. রেজাউল করিমকে বারবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। (সুত্র: ডিবিসি)