বাগমারায় ডায়াবেটিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকারে প্রতারণার অভিযোগ

বাগমারা প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিনব কায়দায় প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। উত্থাপিত অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর শুনানির জন্য আগামী ২৭ অক্টোবর তাদের কার্যালয়ে তলব করেছে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের মালিককে।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার হেলিপ্যাড মাঠের পাশে স্থাপিত ভবানীগঞ্জ ডায়াবেটিক সেন্টার নামের প্রতিষ্ঠানটি প্রায় চার বছর ধরে ডায়াবেটিক চিকিৎসার নামে স্থানীয় মানুষের সাথে অভিনব উপায়ে প্রতারণা করে আসছে। প্রকৃতপক্ষে ডায়াবেটিক চিকিৎসার স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কোন প্রতিষ্ঠান না হয়েও তাদের প্রচার-প্রচারণা ও সাইনবোর্ড থেকে শুরু করে রিপোর্ট প্যাড এবং অন্যান্য স্টেশনারী সামগ্রীতে সম্পূর্ণ অবৈধ উপায়ে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির মনোগ্রাম ব্যবহার করছেন। সেই সাথে সাধারণ মানুষের সামনে নিজেদের ডায়াবেটিক চিকিৎসায় বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান হিসেবে তুলে ধরে এই প্রতারণা করে আসছেন তারা।

 

এছাড়াও প্রতিষ্ঠান টি সি ক্যাটাগরির একটি ল্যাব হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধিত হলেও সি ক্যাটাগরির ল্যাব করার অনুমতি নেই। এরকম বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা যেমন এক্স-রে, হরমোন টেস্ট, আল্ট্রাসনোগ্রাম ইত্যাদি যোগ্যতা সম্পন্ন জনবল ছাড়াই করে থাকে এবং রিপোর্ট প্রদান করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

প্রতিষ্ঠানটি বিভ্রান্তিকর মূল্য তালিকা প্রদর্শন করে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে এবং রোগীদের রিপোর্ট প্রদানের সময় টাকা গ্রহণের রশিদ ফেরত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

 

উক্ত অভিযোগ গুলোর শুনানির জন্য জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ মাসুম আলী স্বাক্ষরিত একটি শমন নোটিশ গত ১০ অক্টোবর ভবানীগঞ্জ ডায়াবেটিক সেন্টার বরাবর পাঠানো হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ গুলো ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ অনুযায়ী দন্ডযোগ্য অপরাধ। এই অভিযোগের বিষয়ে শুনানির জন্য প্রতিষ্ঠানটির মালিক পক্ষকে ২৭ অক্টোবর সকাল সাড়ে নয়টায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রাজশাহী কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়।

 

অভিযোগকারী মাসুদ রানা জানান, কথিত ডায়াবেটিক সেন্টারের প্রতারণার বিষয়টি জানতে পেরে তা বন্ধ করার জন্য জনস্বার্থে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের শরনাপন্ন হয়েছেন।

 

সিজান মাহমুদ নামের এক ব্যক্তি জানান, ডায়াবেটিক সেন্টারে ঝুলানো মূল্য তালিকায় সিবিসি পরীক্ষার মূল্য তিনশো টাকা লেখা থাকলেও তার কাছে থেকে পাঁচশো টাকা নেওয়া হয়েছে।

 

উপজেলার দক্ষিণ মাঝগ্রামের এনামুল হকের স্ত্রী জলি খাতুন জানান, তিনি ডায়াবেটিক রোগে আক্রান্ত না হলেও ঐ প্রতিষ্ঠানে করা পরীক্ষার রিপোর্টে ডায়াবেটিক রোগ দেখানো হয়। এবং সেই রোগের জন্য তাকে চিকিৎসা নিতে বলা হয়। পরে তিনি অন্য একাধিক প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হোন তার ডায়াবেটিক রোগ নেই।

 

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে ভবানীগঞ্জ ডায়াবেটিক সেন্টারের মালিক ডাঃ রিয়াশাত উল লতিফ মামুনের নিকট মুঠোফোনের মাধ্যমে জানতে চাওয়া হলে তিনি ভোক্তা অধিকারে তলবের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে অভিযোগ নিয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, যা বলার ২৭ তারিখের শুনানিতে বলা হবে।

 

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ গোলাম রাব্বানী জানান, ডায়াবেটিক চিকিৎসায় তাদের কোন অনুমতি আছে কি না আমার জানা নেই, এটা তারাই ভালো বলতে পারবেন। তবে বিধি বহির্ভূত কিছু হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *