পুঠিয়ায় ভূমি অফিসে অবহেলিত জাতীয় পতাকা যেনো স্টাফদের বসার জন্যই তৈরি

পুঠিয়ায় ভূমি অফিসে অবহেলিত জাতীয় পতাকা যেনো স্টাফদের বসার জন্যই তৈরি

শাহাদত হোসাইন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: রাজশাহীর পুঠিয়ায় এক সরকারি ভূমি অফিসে জাতীয় পতাকা নিয়মিত উত্তোলন করা হয় না। চেয়ারে বিছিয়ে কাজ করেন স্টাফরা।

 

ঘটনাটি ঘটেছে, রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার, ধোপাপাড়া, পাইকপাড়া সরকারি ভূমি অফিসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করে, অফিসর চেয়ারে বিছিয়ে রেখে তার উপর বসে থেকে অফিস কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়, এমনটাই অভিযোগ উঠেছে।

 

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে এই প্রতিবেদক সরেজমিনে গত বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০ টা ও ১১ টায় দুবার যান। সকাল দশটার সময় গিয়ে তখনও পতাকা উত্তোলন করতে দেখা যায়নি, এমনকি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা জুলেখা খাতুন তিনিও অফিসে অনুপস্থিত। পতাকা উত্তোলনের বিষয়ে বলে আসার পর প্রায় এক ঘন্টা অতিবাহিত হলেও, আবারও গিয়ে দেখা যায় অফিসের একজন মহিলা স্টাফ তোয়ালে এর পরিবর্তে জাতীয় পতাকাটি চেয়ারে বিছিয়ে সেখানে বসে থেকে অফিসের কাজ করছেন। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদেরকে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা কোন সদুত্তর দিতে পারেননি ইউনিয়ন ভূমি উপ সহকারী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান। এছাড়াও একটু বৃষ্টি বাদল হলেই তৈরি হয় দারুন রকম জলাবদ্ধতা। ময়লাযুক্ত পানির নিচে ডুবে থাকে ভূমি অফিসের সামনের ও সাইডের একটা অংশ। তাতে করে সেবা গ্রহীতাদের অনেকে, সেবা না নিয়েই ফিরে যেতে দেখা গেছে।

 

সরেজমিনে গিয়ে আরো দেখা যায়, ভূমি অফিসের চাল দিয়ে অফিসের মধ্যে পানি পড়তে। বাটি নিয়ে কেউ কেউ পানি পরিষ্কার করছে। বোঝা যাচ্ছে বৃষ্টির পানি পড়ে সাধারণ মানুষের জমির কাগজ পত্র নষ্ট হয়ে যাওয়ার অনেকটাই সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে তাদের জিজ্ঞাসা করা হলে তারা বলেন, কোন সদুত্তর দিতে দিতে পারেননি। কেউ কেউ আবার ঘুষ গ্রহণের মত মারাত্মক অভিযোগও তুলছেন। সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষদের মধ্যে দেখা গেছে ক্ষোভ।

 

এই বিষয় নিয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয় আরাফাত আমান আজিজ পুঠিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে ডিউটি করছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

 

পুঠিয়া-দুর্গাপুরের সাংসদ প্রফেসর, ডাঃ মনসুর রহমান এর সাথে মুঠোপনে এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করা একটি গর্হিত কাজ। আর জাতীয় পতাকা চেয়ারের উপর বিছিয়ে তার ওপর বসে থেকে কাজ করা আমার দৃষ্টিকোণ থেকে শহীদদের রক্তের সাথে বেইমানি করার সমতুল্য। এঘটনা সুস্থ তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related posts

Leave a Comment