এবার রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাকিবুল ইসলাম রানার বিরুদ্ধে এবার প্রতারণার মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার(১৫ সেপ্টেম্বর) রাজশাহীর দুর্গাপুর থানার আমলি আদালতে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে মামলাটি করা হয়। আগামী ১২ ডিসেম্বর রানাকে হাজির হতে সমন জারি করেছেন আদালত।

 

মামলাটি করেছেন রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ আতিকুর রহমান।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আতিকুরকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে গত ৩১ মার্চ ১ লাখ টাকা নেন রানা। গত মে মাসের মধ্যে আতিকুরকে চাকরি দেওয়ার কথা ছিল রানার। নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলে রানার কাছে টাকা ফেরত চান আতিকুল।

 

দুই মাসের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন রানা। কিন্তু ওই দুই মাস পার হলেও তিনি আতিকুরকে টাকা ফেরত দেননি তিনি। গত শুক্রবার রানার সঙ্গে দেখা হলে টাকা চান আতিকুর। তখন রানা টাকা দেবেন না বলে জানান। পরে আজ রানার বিরুদ্ধে মামলা করেন আতিকুর।

 

আতিকুরের আইনজীবী মো. ইমরান কলিম খান বলেন, রাজশাহীর দুর্গাপুর থানার আমলী আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক মো. লিটন হোসেন মামলাটি গ্রহণ করেছেন। আগামী ১২ ডিসেম্বর আসামি সাকিবুল ইসলাম রানাকে আত্মসমর্পণের জন্য সশরীরে হাজির হতে সমন জারি করেছেন আদালত।

 

এ বিষয়ে জানতে সাকিবুল ইসলাম রানার মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি তা রিসিভ করেননি।

 

সম্প্রতি, রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাকিবুল ইসলাম রানার একটি অডিও ক্লিপ ফাঁস হয়েছে। চার মিনিট ২৯ সেকেন্ডের ওই অডিওতে শোনা যায়, এক নারী ছাত্রলীগ নেত্রীকে তার কাছে মেয়ে পাঠানোর কথা বলছেন রানা।

 

ওই অডিওতে রানাকে বলতে শোনা যায়, ‘তুমি আমার সাথে নাটক করিচ্ছো তাই না?’ মেয়েটি তাকে বলেন, ‘কিসের নাটক ভাইয়া?’ রানা বলেন, ‘তোমার কথা-কাজে মিল পাচ্ছি না। চিটারি করতে পারবা না। বহুত বড় চিটারি-বাটপারি কইরি আমি প্রেসিডেন্ট হইছি। সব চিটারের দলের সর্দার আমি। তুমি না হয়, আসতে চায়া আসলে না, কাকে যে পাঠাতে চাইলে সে কই? একজনের সাথে কইরি তুমি যদি বড় নেত্রী হও, সেটা মানুষ মাইনি লিতে পারে না, তুমি বুঝ না?’

 

মেয়েটি তাকে বলেন, ‘এগুলো তো ভাইয়া অবান্তর কথা, আর আমার ফাইন্যান্সিয়াল সাপোর্ট দরকার নাই। আমি যথেষ্ট ভালো আছি। সংগঠনটাকে ভালোবেসেই আসছিলাম।’ রানা তখন বলেন, ‘তাহলে শোন ঠিক আছে আর শান্ত-মান্তর কোনো বেল নাই।’ মেয়েটি বলেন, ‘তো ভাইয়া আপনি মেয়ের কথা কালকে বলছিলেন, তো আমি ছবি পাঠাইছিলাম।’

 

রানা বলেন, ‘দেখ দেখ পাঠাতে পারো নাকি?’ মেয়েটি বলেন, ‘উনিও তো ফ্যামিলির সঙ্গে থাকে।’ রানা তখন বলেন- ‘এখন আটটা বাজে। কী এমন রাত? দেখ দেখ ফোন দাও। পাঠাও। কেউ যেন না জানে।’ মেয়েটি তাকে বলেন, ‘কে জানবে, আপনি আমাকে ভরসা করতে পারেন।’

 

এর আগে এক নারীর সঙ্গে রানার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। অভিযোগ রয়েছে, রানা প্রথমদিকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী ছিলেন। ২০১৬ সালে রাজশাহী কলেজ মুসলিম হল শাখা ছাত্রদলের ৬ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক হন। টানা তিন বছর এই কমিটির সক্রিয় নেতা ছিলেন তিনি। তবে ২০১৯ সালের দিকে ছাত্রদলের কমিটিতে থাকা অবস্থায় তিনি ঢাকায় গিয়ে ছাত্রলীগ নেতা হওয়ার জন্য তদবির শুরু করেন। একসময় হয়ে যান রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related posts

Leave a Comment