রাজশাহীতে জাল সনদে ৪২ শিক্ষকের চাকুরিচ্যুত, টাকা ফেরত দিতেই হচ্ছে

রাজশাহীতে জাল সনদে ৪২ শিক্ষকের চাকুরিচ্যুত, টাকা ফেরত দিতেই হচ্ছে

হাবিল উদ্দিন, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শুদ্ধি অভিযানে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা বিভাগ (ডিআইএ) সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাল সনদে চাকরি নেয়া শিক্ষকদের নামের তালিকা প্রকাশ করেছেন। সেই তালিকায় রাজশাহীর ৪২ শিক্ষকের নাম রয়েছে।

 

জাল সনদে চাকুরি নেওয়া ব্যক্তিদের চাকরিচ্যুতসহ সরকারি কোষাগার থেকে প্রাপ্ত বেতন-ভাতা ফেরতসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানা গেছে। এ অভিযানে রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাল সনদে চাকরি নেওয়া প্রথম পর্বের তালিকা থেকে রাজশাহী জেলায় ৪২ জনের নাম পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি এই প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব প্রকাশ হলে রাজশাহী জেলার মহানগরসহ ৯ উপজেলার ৪২ জন শিক্ষকের নাম পাওয়া যায়। তারা জাল সনদে চাকরি করে আসছেন। এদের মধ্যে এমপিওভুক্ত ২৩ জন শিক্ষক ও ননএমপিও ১৯ জন। এমপিওভুক্ত হতে এই ১৯ জন তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

 

এ তালিকায় পবা উপজেলার তিনজনের নাম রয়েছে। এরা হলেন, নওহাটা ডিগ্রী কলেজ মো. শহিদুল ইসলাম সরকার (রাষ্ট্রবি) ও মিরাজ উদ্দিন (ইস.শিক্ষা) নন এমপিও, কাশিয়াডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের আব্দুর রহমান শাহ (কৃষি)-অর্থদণ্ড ২লাখ ৫৯ হাজার ৫৫০ টাকা।

মোহনপুর উপজেলায় ১০ জনের নাম রয়েছে। এরা হচ্ছেন, মোহনপুর সরকারি ডিগ্রী কলেজের আবু বকর (রাষ্ট্রবি), পরিমল কুমার (বাংলা), কামরুন নাহার লাভলী (রাষ্ট্রবি), মিলন কুমার সরকার (রাষ্ট্রবি), আমজাদ হোসেন (ব্যবস্থাপনা)-নন এমপিও। পাকুড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সুনীতা রানী সাহা, অর্থদণ্ড ৩লাখ ১ হাজার ৪৫ টাকা, মাসুদ রানা অর্থদণ্ড ৩লাখ ১ হাজার ৪৫ টাকা, রেজাউল করিম (সমাজ), অর্থদণ্ড ৬ লাখ ৩৭ হাজার ৫১০ টাকা ও তাজ উল ইসলাম-নন এমপিও এবং মোহনপুর মহিলা ডিগ্রী কলেজের খাদিজা তুজ তাহেরা (কম্পিউটার), অর্থদণ্ড ১৩লাখ ৮৭ হাজার ৭২৫ টাকা।

 

বাগমারা উপজেলায় চারজন। এরা হলেন, ভটখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের মোছা. আনজুমান আরা (সমাজ)-অর্থদণ্ড ২ লাখ ৮ হাজার ১৫০ টাকা, মচমইল দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের আমুদী রানী (হিন্দু ধর্ম), অর্থদণ্ড ১লাখ ৮হাজার ৩৬৬ টাকা, ছালেহা ইমারত ডিগ্রী কলেজের মোসা. কামরুন নাহার (প্রভাষক), অর্থদণ্ড ৬লাখ ২ হাজার ৯৭৫ টাকা ও বাগমারা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মো. আব্দুর রহমান (বিজ্ঞান)-অর্থদণ্ড ৪লাখ ১৭হাজার ৭১৫ টাকা।

 

বাঘা উপজেলায় ৫ জন। এরা হলেন, আড়ানী মনোমোহনী উচ্চ বিদ্যালয় মো. কামরুজ্জামান (শরীরচর্চা)-নন এমপিও, চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মোসা. জেসমিন আকতারী(সমাজ বিজ্ঞান)-অর্থদণ্ড ৭৯ হাজার ৮০০টাকা, বাঘা উচ্চ বিদ্যালয়ের মো. জাফর ইকবাল (শ.চ.শি)-অর্থদণ্ড ৯লাখ ৬১ হাজার ২৮০ টাকা, অনুপ কুমার সরকার (হি.ধর্ম)অর্থদণ্ড ৩ লাখ ৫২ হাজার ৮০০ টাকা ও আশরাফুল ইসলাম (সমাজ) -অর্থদণ্ড ৯লাখ ৬১হাজার ২৮০ টাকা।

তানোর উপজেলায় ৩ জন। এরা হলেন, কলমা উচ্চ বিদ্যালয়ের আলমগীর কবির, (শরীরচর্চা)-অর্থদণ্ড ৫ লাখ ৫২ হাজার ৯০ টাকা, কোয়েল আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের কামাল উদ্দিন, (প্রদর্শক শারীরিক)-অর্থদণ্ড ৭ লাখ ৬ হাজার ৬০০টাকা ও নারায়নপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবীউল ইসলাম (কৃষি)-অর্থদণ্ড ২লাখ ২৫ হাজার ৮৫৫ টাকা।

 

পুঠিয়া উপজেলায় ৬ জন। এরা হলেন, ভালুকগাছী গোয়ালপাড়ার হাফিজুর রহমান (কম্পিউটার) নন এমপিও, শিবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মিস শামিম আরা খাতুন-অর্থদণ্ড ৯লাখ ১৯হাজার ৪১০ টাকা, ধোকড়াকুল উচ্চ বিদ্যালয়ের সাইদুর রহমান-অর্থদণ্ড ৩ লাখ ৫১ হাজার ৩৩০ টাকা ও সুশীলা রানী (খী:ধর্ম)-২লাখ ৮৩ হাজার ৭১০ টাকা, বিলমাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মো. জয় (কৃষি)- ১লাখ ৭৮হাজার ৭৫৫টাকা ও পচামাড়িয়া ডিগ্রী মহাবিদ্যালয়ের দুলাল আহমেদ (কৃষি)-নন এমপিও।

 

চারঘাট উপজেলায় ১ জন। ইউসুফপুর মহাবিদ্যালয়ের মাজেদুর রহমান (পদার্থ)। দুর্গাপুর উপজেলা চারজন। এরা হলেন, দাউকান্দি সরকারি ডিগ্রী কলেজের সানজিদা খাতুন (বিজ্ঞান) ও মিজানুর রহমান-ননএমপিও এবং বখতিয়াপুর ডিগ্রী কলেজের কামরুল ইসলাম (হিসাব বি)-ননএমপিও। হাটকানপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মো. ইস্রাফিল হোসেন- অর্থদণ্ড ৫লাখ ৯০হাজার ৭৫০টাকা।

 

রাজশাহী সদরের মহানগর মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক (আরবি) জাবিরুল ইসলাম-ননএমপিও এবং খাদেমুল ইসলাম বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের খোদেজা খাতুন মৌসুমী-অর্থদণ্ড ৩ লাখ ৩৬ হাাজর ১৬০ টাকা এবং মোসা. মেট্রোপলিটন ডিগ্রী কলেজের মাহফুজা বেগম (রাষ্ট্রবি) অর্থদণ্ড ৬ লাখ ৮ হাজার ২০০ টাকা।

 

ডিআইএ প্রকাশিত তথ্য মতে, ২০১৩ সাল থেকে চলতি বছরের ২৫ মে পর্যন্ত দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শুদ্ধি অভিযানে ১ হাজার ১৫৬ জন শিক্ষকের শিক্ষাগত ও যোগ্যতার সনদ ভুয়া পেয়েছে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা বিভাগ (ডিআইএ)। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে জাল সনদধারী শিক্ষক রয়েছেন ৪৪৩ জন। এই দুই অঞ্চলের প্রথম পর্বের তালিকায় ১৯৩ জন শিক্ষকের নাম প্রকাশ পেয়েছে।

 

পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (ডিআইএ) প্রফেসর অলিউল্লাহ্ মো. আজমতগীর বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ বিষয়ে আমাদের কাছে ১০ বছরের একটি হিসাব চেয়েছেন। এজন্য তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে এনটিআরসি সনদ, কম্পিউটার সনদ, গ্রন্থাগার সনদসহ এ রকম কিছু বিষয়ে ওই শিক্ষকদের সনদ ঠিক পাওয়া যায়নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related posts

Leave a Comment