পুঠিয়ায় যুবলীগ নেতাকে পিটিয়েছে ছাত্রলীগ, এমপির অবাঞ্চিত ঘোষণা

পুঠিয়ায় যুবলীগ নেতাকে পিটিয়েছে ছাত্রলীগ, এমপির অবাঞ্চিত ঘোষণা

শাহাদত হোসাইন, বিডি নিউজ২৩: (পুঠিয়া, রাজশাহী) রাজশাহীর পুঠিয়ায় এক যুবলীগ নেতাকে পিটিয়ে জখম করেছে কিছু ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

 

গত ২১ আগস্ট বিকেলে পুঠিয়া উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়নের বিলমাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত আওয়ামী লীগের শোক সভা ও দোয়া মাহফিলের অনুষ্ঠান শেষে এমপিসহ অতিথিরা চলে যাবার পরে খাবার বিতরণের সময় এ ঘটনা ঘটে।

 

জানা যায় যে, মারধরের শিকার ওই যুবলীগ নেতার নাম শরিফুল ইসলাম। তিনি পুঠিয়ার জিউপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। শরিফুল ইসলাম, ছাত্রলীগের মারধরের শিকার হবার পর প্রাথমিকভাবে তাকে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে, তাকে রাজশাহীতে উন্নত চিকিৎসা জন্য পাঠানো হয়।

 

আরো জানা যায় যে, সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাকিবুর রহমান মিঠু ও তার সাথে থাকা বখাটে-উশৃংখল ১০-১২ জন মিলে শরিফুলকে মারধরের সময় ডেকোরেটরের মূল্যবান জিনিসপত্র সহ বেশ কিছু চেয়ার ভাঙচুর করে।

 

এদিকে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট, মারামারি করা, শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে, গত ২২শে আগস্ট সোমবার স্থানীয় এমপি এবং নেতাকর্মীরা বসে সিদ্ধান্ত নেয় যে, সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাকিবুর রহমান মিঠুসহ তাদেরকে দল থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।

 

যুবলীগ নেতা শরিফুল জানান, ঘটনার দিন জিউপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে ২১শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলা ও ১৫ই আগষ্ট জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল চলছিল। আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য প্রফেসর ডা.মনসুর রহমান। শরিফুলের ভাষ্যমতে, তিনি সেদিন উপস্থিত নেতাকর্মীদের খাবার সরবরাহের দ্বায়িত্বে ছিলেন। সভা শেষে খাবার বিতরণ চলাকালীন অবস্থায় হঠাৎ করেই উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাকিবুর রহমান মিঠুর নেতৃত্বে অন্তত ১০ থেকে ১২ জন শরিফুলের কাছ থেকে খাবার ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন, এতে বাধা দিলে, লাঠি হাতে তার উপর হামলা করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় তাকে পিটিয়ে জখম করে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

 

শরিফুল বলেন, পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসকরা আমার প্রাথমিক চিকিৎসা করে। এ সময় তারা উন্নত চিকিৎসার জন্য নিউরোলজির ভালো চিকিৎসক দেখানোর পরামর্শ দিয়েছেন। পরে রাজশাহীতে গিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি। চিকিৎসা শেষে আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব। বর্তমানে আমি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছি।

 

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাকিবুর রহমান মিঠু বলেন, আমি কিছু করিনি, তারপরও আমার দোষ কেন হচ্ছে বুঝতে পারছি না।

 

রাজশাহীর পুঠিয়া থানার ওসি সোহরাওয়ার্দী জানান, ওই আয়োজনে এমপি সাহেব ছিলেন । সেখানে খাবার বিতরণ নিয়ে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। তবে কোন পক্ষই এখনো থানায় অভিযোগ বা মামলা করেনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related posts

Leave a Comment