আওয়ামী লীগের প্রতি পুলিশের দুর্বলতা সব সময় দেখেছি : ভূমিমন্ত্রী

আওয়ামী লীগের প্রতি পুলিশের দুর্বলতা সব সময় দেখেছি : ভূমিমন্ত্রী

বিডি নিউজ২৩: ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, পুলিশকে সাধারণত তার দিক নির্দেশনায় কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগের প্রতি পুলিশের এক ধরনের দুর্বলতা সব সময়ই দেখেছি।

 

শনিবার (২০ আগস্ট) চট্টগ্রাম নগরীর দামপাড়ায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির তিনি এসব কথা বলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

 

সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, আমি রাজনৈতিক পরিবারে বড় হয়েছি। আমি সংগ্রাম দেখেছি। আমাদের বাড়ি অনেক কিছুর সাক্ষী। ৭৫ পরবর্তী সমস্ত মিটিং, আলাপ আলোচনা আমাদের বাড়িতে হতো। তখন ঢাকা থেকে বড় নেতারাও আমার বাবার সঙ্গে আলোচনা করতে চট্টগ্রামে আসতেন। আমার বাবাকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল।

 

পুলিশ আওয়ামী লীগের সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ক্ষমতায় যেই থাকুক না কেন, পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাদের সবসময় আন্ডারস্ট্যান্ডিং ছিল। সব সময় শেল্টার দেওয়া বা সহযোগিতা করার প্রবণতা বেশি বলেই আমি দেখেছি। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তখন পুলিশ প্রশাসন যদি কঠিন হতো কিংবা আরো মারমুখী হতো, আওয়ামী লীগের টিকে থাকাই কঠিন হয়ে যেত। সেই কারণে আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ। খারাপ সময়ে আপনারা প্রমাণ করেছেন।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অকৃতজ্ঞ নন উল্লেখ করে ভূমিমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে পুলিশ অনেক পিছিয়ে ছিল। বিগত কোনো সরকার পুলিশকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করেনি। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার পুলিশ বাহিনীর খেয়াল রেখেছে। তাদের বেতন কাঠামোসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুলিশ বাহিনীকে যে উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তাতে পুলিশকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না।

 

কিছু কিছু কর্মকাণ্ডে পুলিশের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনাদের অনেক ভালো কাজ আছে, যেগুলো নিয়ে আমরা গর্ব করি। কিন্তু থানায় গেলে সাধারণ মানুষ এখনো হয়রানির শিকার হচ্ছে। এর থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। মানুষকে সঠিকভাবে সেবা দিতে হবে।

 

পুলিশের কাছ থেকে আমরা সব সময় সহযোগিতা পেয়েছি মন্তব্য করে এই নেতা বলেন, সামনের দিনগুলোতেও আপনাদের সহযোগিতা চাই। তবে আমি কোনো অন্যায় সহযোগিতা চাই না। জনগণকে একটু ভালো সেবা দিন। জনগণ যেন ভালোভাবে থাকতে পারে।

 

আগামী প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানাতে আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আগামী প্রজন্ম জাতির পিতাকে অন্তরে ধারণ করে চলবে। কারণ তারা বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে সঠিক ইতিহাস জানছে।

 

তিনি বলেন, ৫২ এর ভাষা আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার বীজ বপন করেছিলেন। পরবর্তীতে অনেক আন্দোলন সংগ্রাম হয়েছে। সবশেষ ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণে তিনি স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। স্বাধীনতাবিরোধী চক্র নানাভাবে অনেক কিছু বিকৃত করতে চেয়েছিল। সেই ৭ই মার্চের ভাষণটিও তারা বিকৃত করতে চেয়েছিল।

 

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল ১৫ আগস্ট। বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে জড়িতদের জাতি কখনোই ক্ষমা করবে না। তাদের অনেকেই আওয়ামী লীগ ছিলেন, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর রক্তের সঙ্গে মীরজাফরি করেছেন, বেইমানি করেছেন।

 

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরিন আখতার, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিটের কমান্ডার মোজাফফর আহমদ, চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার এ কে এম সরোয়ার কামাল, সিএমপি কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব এম এ মাসুদ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related posts

Leave a Comment