সঞ্চয় ভেঙে জনগণকে তেল দিচ্ছে বিপিসি দাম বাড়িয়েও লিটারে ৬ টাকা লোকসান

BD News23

কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান বলছেন, দাম বাড়ানোর পরেও প্রতি লিটার ডিজেলে লোকসান হচ্ছে ৬ টাকা। আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ হয়েছে যে, দুই মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো পর্যাপ্ত টাকা নেই (বিপিসি) সংস্থার হাতে। তাই উপায় ছিল না দাম না বাড়িয়ে…More

 

বিডি নিউজ২৩/BD News23: এফডিআর ভেঙে তেল কিনেছে বিপিসি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) ব্যাংক হিসাবের তথ্যে গোজামিল দিয়ে তা প্রকাশ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠানটি।

 

বুধবার (১০ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে বিপিসির তরফে বলা হয়, এ ধরনের সংকটের সময় এমন বিভ্রান্তি ছড়ানো রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর। বিপিসি বলছে, তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা ফিক্সড ডিপোজিট বা এফডিআর ভেঙে তেল কিনেছে। এখনও ডিজেলে ৬ টাকা লোকশান দিচ্ছে। তবে পেট্রোল এবং অকটেনে ৫ টাকার কাছাকাছি লাভ করার কথাও জানায় বিপিসি। একইসঙ্গে তেলের দাম না বাড়ালে প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই বিশাল ভর্তুকির বোঝা সামাল দেওয়া কঠিন হতো।

 

বিপিসি বলছে, সম্প্রতি দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার পর একটি পত্রিকায় ‘দেশের সবচেয়ে ধনী ব্যাংকগ্রাহক প্রতিষ্ঠান বিপিসি’ শিরোনামে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া বিপিসি নিয়ে নানা ধরনের নেতিবাচক খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ট্রলের শিকার হচ্ছে। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি মনে করে— এতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে।

 

বুধবার বিকালে সংবাদ সম্মেলনে বিপিসির চেয়ারম্যান এবিএম আজাদ বলেন, ‘জ্বালানি তেলের আমদানি মূল্যের সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে বিক্রয় মূল্য সামঞ্জস্যপূর্ণ না থাকার কারণে বিপিসিকে ১৯৯৯-২০০০ থেকে ২০১৩-১৪ পর্যন্ত ক্রমাগত লোকসানের মুখোমুখি হতে হয়, যার মোট পরিমাণ প্রায় ৫৩ হাজার কোটি টাকা। লোকসানের সময় জ্বালানি খাতে ভর্তুকির বিপরীতে সরকার বিভিন্ন সময়ে মোট ৪৪ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা বিপিসিকে ভর্তুকি হিসেবে দিয়েছে। সুতরাং, ওই সময়ে আরও প্রায় ৮ হাজার ১২৭ কোটি টাকা ঘাটতি ছিল। পরবর্তী সময়ে বিপিসির মুনাফার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। দীর্ঘদিন লোকসানের থাকার পর ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে বিপিসি মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হয় এবং ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত তা বহাল ছিল। ২০২১-২২ অর্থবছরে পুনরায় বিপিসির লোকসান শুরু হয়।’

 

সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান জানান, বিপিসি’র বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। দেশে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে বিপিসি কর্তৃক ইআরএল ইউনিট-২, এসপিএম, ঢাকা চট্টগ্রাম পাইপ লাইন, জেট এ-১ পাইপ লাইন, ইন্ডিয়া- বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপ লাইনসহ ১১টি প্রকল্প প্রায় ৩৪ হাজার ২৬১ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এরমধ্যে সরকার ইআরএল ইউনিট-২ প্রকল্পটি বিপিসির নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের অনুমোদন দিয়েছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে এবিএম আজাদ বলেন, ‘জ্বালানি তেলের মূল্য পরিশোধ অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে বিপিসিকে ২ মাসের জ্বালানি তেলের মূল্যের সমপরিমাণ অর্থ (২৫ শতাংশ বৃদ্ধিসহ) চলতি মূলধন হিসেবে রাখতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পেলে বিপিসি’র চলতি মূলধনও বৃদ্ধি করতে হয়। ২০২০-২১ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য তুলনামূলকভাবে সহনশীল ছিল। ফলে ওই সময় বিপিসি কর্তৃক কম-বেশি প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা চলতি মূলধন রাখা হতো। পরবর্তীকালে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেলে বিপিসি’র চলতি মূলধনের ওপরে চাপ পড়ে।’

 

বিপিসির দেওয়া তথ্যমতে, মূল্য সমন্বয়ের আগ পর্যন্ত জ্বালানি তেল বিক্রয় ও অন্যান্য খাতে বিপিসির মাসিক গড় জমা ছিল প্রায় ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। অপরদিকে ২০২২ সালের জুন মাসে বিপিসি’র পেমেন্ট ছিল ৭১৭১ হাজার কোটি কোটি টাকা, জুলাইতে পেমেন্ট ছিল ১০ হাজার ৩১২ কোটি টাকা এবং আগস্টে পেমেন্ট প্রক্ষেপণ ৯ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা। সে হিসাবে বিপিসি’র চলতি মূলধন প্রয়োজন প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা।

 

আন্তর্জাতিক বাজারে অব্যাহত দাম বৃদ্ধির সময় বিভিন্ন প্রকল্পের নামে থাকা অর্থ সহায়ক ভূমিকা পালন করে। ফলে সরকারের কাছ থেকে কোনও অর্থ না নিয়ে এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি-জুলাই পর্যন্ত দীর্ঘ ৬ মাস জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় না করেই বিপিসি এফডিআরগুলো নগদায়ন করে জ্বালানি তেলের পেমেন্ট নিশ্চিত করে।

 

সর্বশেষ আগস্ট মাসের পেমেন্ট নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইআরএল ইউনিট-২ প্রকল্পের অবশিষ্ট ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকার এফডিআর উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা আগস্ট মাসের মধ্যেই নগদায়ন হবে। অর্থাৎ দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং পেমেন্ট অবিঘ্নিত রাখার জন্য প্রকল্পের নামে খোলা প্রায় সব এফডিআর ইতোমধ্যে নগদায়নের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ গত বছরের জুন পর্যন্ত তথ্যের ভিত্তিতে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তার সঙ্গে বাস্তব অবস্থার কোনও মিল নেই।

 

বিপিসি বলছে, সরকারি ব্যাংকের মধ্যে জনতা, সোনালি, অগ্রণী, রূপালি ব্যাংকে মোট ১৩ হাজার ৬৫ কোটি টাকা এফডিআর রয়েছে বলে প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু ওই সব ব্যাংকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ও শেয়ার অফলোড/রিজার্ভ ফান্ড হিসেবে ৪ হাজার ৮২২ কোটি টাকা এফডিআর রয়েছে। আইসিবি ইসলামি ব্যাংকে বিপিসি’র কোনও ফান্ড নেই। তবে আরসিবি-তে ২৫৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা এফডিআর আছে।  

 

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বিপিসি লাভে থাকলে যেমন আর্থিক অবস্থা ভালো থাকে, তেমনই লোকসান শুরু হলে তহবিলে ঘাটতি দেখা দেয়। (সুত্র: সময় সংবাদ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related posts

Leave a Comment