রাজশাহীতে জব্দ হলো মোটরসাইকেল, ল্যাপটপ, টাকা, সামনে দিয়ে পালালো হ্যাকার

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর বাঘায় দিনের আলোয় পুলিশের সামনে দিয়ে পালিয়ে গেল সায়েদ হোসেন নামে একজন বিকাশ হ্যাকার। অবশেষে তার ঘর থেকে পুলিশ জব্দ করলো একটি নতুন এ্যাপাসি মোটর সাইকেল, একটি ল্যাপটপ, দুই সিম বিশিষ্ট একটি দামি মোবাইল ও নগদ 2 লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা। 

 

সোমবার (৮আগষ্ট) বিকেলে উপজেলার চকছাতারি এলাকায় পুলিশ এ অভিযান চালায়।

 

বাঘা থানা পুলিশের একটি মুখপত্র জানান, সোমবার বিকেল সাড়ে ৪ টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার চকছাতারী গ্রামের বিকাশ হ্যাকার সায়েদ হোসেন(২৬) এর বাড়িতে অভিযান চালায় বাঘা থানা পুলিশ। এ অভিযানে উপস্থিত ছিলেন, ইন্সেপেক্টর(তদন্ত)আব্দুল করিম, উপ-পরিদর্শক নুরুল আফসার ও তৈয়ব আলী-সহ প্রায় ৬-৭ জন সঙ্গীয় ফোর্স।

 

এদিকে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘরের জানালা দিয়ে পালিয়ে যায় বিকাশ হ্যাকার সায়েদ হোসেন । এ সময় তাকে ধাওয়া করে ধরতে না পারার এক পর্যায় তার ঘর তল্লাশি করে একটি নতুন এ্যাপাসি মোটরসাইকেল,একটি ল্যাপটপ , দুই সিম বিশিষ্ট একটি দামি মোবাইল ও ২ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা জব্দ করে পুলিশ । স্থানীয় লোকজনের উক্তি, পুলিশ একটু চেষ্টা করলে সায়েদকে আটক করতে সক্ষম হতো ।

 

বাঘা থানার উপ-পরিদর্শক(এস.আই)তৈয়ব আলী জানান, মাত্র হাফ মিনিটের ব্যবধানে আমরা ঐ হ্যাকারকে ধরতে পারিনি। সে তার শয়ন কক্ষের পেছনের জানালা দিয়ে পালিয়ে গেছে। এ সময় তার হাতে একটি ব্যাগ ছিলো বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

 

বাঘার সুশীল সমাজের লোকজন বলেন , বর্তমানে ইমো-বিকাশ হ্যাকারদের ফাঁদে পড়ে প্রতারিত হচ্ছে শত-শত মানুষ। একদল সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে প্রবাসী-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের “ইমো”ব্যবহারকারীদের ইমো হ্যাক এবং পরবর্তীতে ভিকটিমের পরিচিতজনদের নিকট হতে প্রতারণা পূর্বক মোবাইল ফিন্যান্সিং সার্ভিস (বিকাশ) এর মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। এ সব ঘটনায় বিত্তশালী থেকে শুরু করে গরীব-দীন মজুর কেউ ছাড় পাচ্ছে না প্রতারক চক্রের হাত থেকে। অথচ, এ বিষয়ে উদাসীন সংশ্লিষ্ট কোম্পানী এবং মোবাইল ব্যাংকিং কর্তৃপক্ষ।

 

বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ(ওসি)সাজ্জাদ হোসেন জানান, উপজেলার চকছাতারী গ্রামের জিবরাই হোসেনের ছেলে সায়েদ হোসেন । তার নামে বাঘা থানায় মাদক, বিকাশ হ্যাক ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড মামলা রয়েছে। আমরা সর্বশেষ অভিযানে তাকে আটক করতে না পারলেও তার ঘর থেকে যা কিছু আলামত সংগ্রহ করেছি তাতে সে আবারও বিকাশ হ্যাকার হিসাবে শনাক্ত হয়েছে। আমরা তাকে আটকের চেষ্টা চালাচ্ছি।

 

উল্লেখ্য এর আগে গত ১৬ ফেব্রুয়ারী বিকাশ হ্যাকের সাথে সম্পৃক্ত চার যুবককে ৭ টি মোবাইল এবং ২২ টি সিমকাড-সহ উপজেলার সরের হাট স্কুল মাঠ থেকে আটক করে প্রশংশিত হন বাঘা থানা পুলিশ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related posts

Leave a Comment