রাজশাহীর দুর্গাপুরে ‘এমবি’র বিরুদ্ধে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পুকুর দখলের অভিযোগ

কৃষকদের ৫২ বিঘার ৪টি পুকুর ৩ বছর আগে প্রায় ৪২ জন কৃষকের কাছে থেকে ১০ বছরের জন্য এমবি লীজ নেয়।সেই সময় মাত্র ৩০ হাজার টাকা বিঘা প্রতি বছর চুক্তিতে ১০ বছরের জন্য এমদাদুল হক (এমবি) কৌশলে লীজ নিয়েছিলেন। পুকুর লীজ নেয়ার ৩ বছর হলেও তিনি কোন জমির মালিকদের লীজের একটি টাকাও প্রদান করেননি…More

বেলাল হোসেন (পুঠিয়া রাজশাহী) রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার কয়ামাজমপুর গ্রামের মৃত শফিউদ্দিনের বিদেশ ফেরৎ ছেলে এমদাদুল হক (এমবি)র বিরুদ্ধে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক পুকুর দখল করে কিসমত গণকৈড় ইউপির কয়ামাজমপুর বড় বিলের ৫২বিঘা ৪টি পুকুর জবর দখলের অভিযোগ উঠেছে।

 

গত ২৩ জুলাই বিদেশ ফেরৎ এমদাদুল হক (এমবি)র বিরুদ্ধে পুকুর মালিকরা দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপুর উপজেলার কয়ামাজমপুর গ্রামের বড় বিলে গ্রামের কৃষকদের ৫২ বিঘার ৪টি পুকুর ৩ বছর আগে প্রায় ৪২ জন কৃষকের কাছে থেকে ১০ বছরের জন্য এমবি লীজ নেয়।সেই সময় মাত্র ৩০ হাজার টাকা বিঘা প্রতি বছর চুক্তিতে ১০ বছরের জন্য এমবি কৌশলে লীজ নিয়েছিলেন। পুকুর লীজ নেয়ার ৩ বছর হলেও তিনি কোন জমির মালিকদের লীজের একটি টাকাও প্রদান করেননি।

 

কিন্তুু ডিডের কাগজে প্রতি বাংলা বছরের ৩০শে কার্তিক মাসের মধ্যে জমির মালিকদের টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও সে কোন টাকা পরিশোধ করেননি।

 

এদিকে,কৃষকরা জমি লীজের টাকা চাইতে গেলে প্রথম বছরের দিকে এমবি ভিন্ন কৌশল ব্যবহার করেন। তিনি শুরুর দিকে বলেন,আমি বিদেশ ফেরৎ আমার বিদেশের অনেক টাকা ব্যাংকে আটকে আছে।এমন কথার উপর জমির মালিকরা তাকে টাকার জন্য কিছুই বলেননি।

 

শুধু তাই নয়,বিদেশ থেকে আসার কারণে জমির অনেক মালিক এমবিকে ধার হিসেবে অনেক টাকা ও দিয়েছেন। সে সব টাকা ফেরৎ এখনো দেয়নি। টাকা ফেরৎ না দেওয়া নানান তাল তামাশা করে চলেছে এই বিদেশ ফেরৎ প্রতারক এমবি এমন অভিযোগ করেন কয়ামাজমপুর গ্রামের শত শত কৃষক।

 

এবার, চলতি বছরের শুরু থেকেই জমির মালিকরা এমবি’র কাছে লীজের টাকা চাইলে সে কৃষকদের অস্ত্র দেখিয়ে বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি দেখান।তারপরেও জমির মালিকরা এমবি কে বিভিন্নভাবে টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন।কোন কিছুর তোয়াক্কা না করেই এমবি জোরপূর্বক অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পুকুর জবর দখলে থাকবেন বলে ঘোষণাও দেন। এমনকি রাস্তাঘাটে কিছু জমির মালিককে অস্ত্র দেখিয়ে ভয়-ভীতি দেখান।যার কারণে এলাকার সাধারণ মানুষ এমবি’র ভয়ে আতঙ্কে বসবাস করছেন।যেখানে টাকার জন্য লীজ গ্রহীতা চাপের মুখেই থাকার কথা থাকলেও উল্টো চিত্র দেখা যায় এমবির ক্ষেত্রে।

 

২০২১ সালের এপ্রিল মাসের ৩ তারিখ বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে পুকুরের জমির মালিকদের সঙ্গে নিয়ে বসা হয়।সেখানেও লীজ প্রদানের টাকা দেওয়ার শুদ্ধ অঙ্গীকার করেন এমবি।কিন্তুু তার দেওয়া ওই অঙ্গীকার এক বছর ৪ মাস সময় অতিবাহিত হলেও তিনি এখন পর্যন্ত পুকুর দখল করে রেখেছেন।

 

কিন্তু তার অস্ত্রের ভয় এলাকার কোন ব্যক্তি আর ওই পুকুরে দায়দায়িত্ব নিতে চাচ্ছে না। যেখানেই পুকুর মালিকরা নিজের টাকার জন্য বিচার চাইতে যাচ্ছেন। সেখান থেকেই ভয়-ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দিচ্ছেন। এখন কার কাছে গিয়ে এ বিচার চাইবেন বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

 

আঃ সামাদ, আজাদ আলী,আজম আলী নজরুল ইসলাম, আবু বাক্কার সিদ্দক,মজিবর রহমান, আলতাব হোসেন, খোরশেদ আলী, বাবুল, আক্কাস, জেহেরসহ একাধিক ভুক্তভোগী পুকুর মালিকরা জানান,গত ৩বছর যাবত লীজের লিজের কোনরূপ টাকা না দিয়ে জোরপূর্বক দখল করে রয়েছেন।

 

এছাড়া বর্তমান বাজারে ৫০ হাজার টাকা বিঘা প্রতি বছর হিসাবে চুক্তি হচ্ছে এমন একাধিক পুকুর এলাকায়। প্রায় ৪২ জন কৃষকের জমি এমবি ও তার দুই ছেলে জালিয়াতি ও জবর দখল করে তার ক্ষমতার বলে দখল করে রেখেছে।

 

এমবি ও তার দুই ছেলের দখল থেকে মুক্ত ও গ্রামের ৪২ জন কৃষকের জমিতে পুকুর তার হাত থেকে উদ্ধার ও ন্যায্য পাওনার টাকা পুকুর মালিকদের বুঝিয়ে দিতে হবে বলে ৪২ জন পুকুরের জমির মালিক সাক্ষর দিয়ে এমবির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য দূর্গাপুর থানার অফিসার ইনর্চাজ বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন।

 

এতেও কোনো কাজ না হলে গত ৭আগস্ট ৪২পুকুরের জমির মালিকরা পুকুর দখল করে নিয়েছেন।পুকুর দখলের পরে তারা পুকুর পরিষ্কার করে ও মাছ ছেড়ে দেন।

 

এ বিষয় এমদাদুল হক এমবির মোবাইল ফোনে কল করা হলে,তার ছেলে শাহিন ফোনটি রিসিভ করেন।এমনকি তিনি পুকুরের জমির মালিকরা টাকা পাবে বলেও স্বীকার করেন।তবে এখন কিছু জমির মালিকদের টাকা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

 

এ বিষয়ে দুর্গাপুর অফিসার ইনর্চাজ নাজমুল হক লিখিতো অভিযোগে বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন,জমির মালিকদের কাছ হতে অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related posts

Leave a Comment