পটুয়াখালী ও পঞ্চগড়ে শিক্ষার্থী নেই তবুও এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়!

বিডি নিউজ২৩

বিডি নিউজ২৩/BD News23: পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় ক্লাসে আসে না কোন শিক্ষার্থী তবুও এমপিওভুক্ত হয়েছে আদর্শ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। 

 

৬ জুলাই প্রকাশিত এমপিওভক্তি তালিকা নাম এসেছে এই নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের। এমন খবরে  বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আনন্দিত হলেও বিস্মিত এলাকার সচেতন সমাজ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় মাঝে মাঝে এর অফিস খোলা হলেও আসে না কোন শিক্ষার্থী। তারপরও কিভাবে এমপিওভূক্ত হয় এই বিদ্যালয়টি প্রশ্ন এলাকাবাসীর।

 

সরে জমিনে মঙ্গলবার দুপুর ২ঃ২০ মিনিটে গিয়ে দেখা যায় বিদ্যালয়টি খোলা থাকলেও কোনো শিক্ষার্থী ছিলনা। প্রতিবেদক বিদ্যালয় যাওয়ার পরে অফিস সহায়ক মোঃ আইনুল ইসলাম থেকে তিনজন শিশু কিশোরকে বিদ্যালয়ে ধরে আনে। পরে ষষ্ঠ সপ্তম অষ্টম শ্রেণীর বই দিয়ে ক্লাসে বসিয়ে দেওয়া হয় তাদের। তাদের কাছে খাতা-কলম সহ একজন‌ শিক্ষার্থীর প্রয়োজনীয় কোন জিনিসপত্র ছিল না।

 

উপস্থিত তিনজনের মধ্যে বাঁধন নামের এক কিশোর বলেন আমি স্কুলের পাশে খেলা করতে ছিলাম স্যার আমাকে ক্লাসে বসতে বলে।

 

বিদ্যালয়ের পাশের বাড়ির জীবন নামের এক ব্যক্তি প্রতিবেদককে বলেন এই স্কুলে মাত্র কয়েক জন ছাত্র-ছাত্রী ছিল, তারা অন্য স্কুলে ভর্তি হয়ে লেখাপড়া করছে।

 

এ সময় বিদ্যালয়ের দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষক ইসমাইল হোসেন বলেন আমরা স্কুলে টিফিন দিয়েছি, সবাই বাড়িতে গিয়েছে। তখন টিফিন দিয়েছেন জানতে চাওয়া হলে এ বিষয়ে কোনো সদূত্তর দিতে পারেননি দেখতে থাকা এই সহকারী শিক্ষক। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমান মুঠোফোনে জানান আমি বাইরে আছি, আপনারা কি করেন লিখেন।

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ শাহীন আকতার, বলেন বিষয়টি আমি তদন্ত করে দেখবো।

 

এদিকে, পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়ন বালিকা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী না থাকলেও গত জুন মাসে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। একটি ভূতুড়ে প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বগা ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক অসিত বরন হাওলাদার কয়েকবছর ধরে বগা ইউনিয়ন বালিকা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। নিয়মানুযায়ী অন্য কোনো বিদ্যালয়ের ৩ কিলোমিটারের মধ্যে নতুন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করার বিধান নেই। নতুন ওই বিদ্যালয়ে তার স্ত্রী বিথিকা রানী হাওলাদারকে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।

 

বুধবার সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের প্রতিটি শ্রেণি কক্ষে ৪-৫ জন করে শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়াচ্ছেন শিক্ষকরা। অষ্টম শ্রেণির ক্লাশে দেখা যায়, অন্য বিদ্যালয়ের নবম ও দশম শ্রেণির ৮ জন শিক্ষার্থীকে একত্রে প্রাইভেট পড়াচ্ছেন এক শিক্ষক। এমপিওভুক্ত হওয়ার শর্ত হলো প্রত্যেক শ্রেণিতে কমপক্ষে ৩০ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। আর পাবলিক পরীক্ষায় কমপক্ষে ২৫ জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। 

 

অভিযোগ রয়েছে- গত জুন মাসে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হওয়ার পর থেকে গ্রামের কিছু দরিদ্র শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিনা পয়সায় প্রাইভেট পড়ানোর নামে শ্রেণি কার্যক্রম সচল দেখানো হচ্ছে। যদিও শিক্ষকরা দাবি করেছেন, এসব শিক্ষার্থী তাদের বিদ্যালয়ের। অবশ্য তখন শিক্ষার্থীদের হাজিরা খাতা দেখতে চাইলে শিক্ষকরা তা দেখাতে পারেননি। 

 

এছাড়া এমপিওভুক্ত হওয়ার শর্ত হল বিদ্যালয়ে একটি খেলার মাঠ থাকতে হবে। নিজস্ব জমি থাকতে হবে। কাগজে কলমে জমি থাকলেও বাস্তবে এই বিদ্যালয়ের দখলে নির্দিষ্ট পরিমাণ জমি নেই। এসব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক ও বগা ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক অসিত বরণ হাওলাদার বলেন, আমরা নিয়ম মেনেই বিদ্যালয় পরিচালনা করছি।  

 

বাউফল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুল হক বলেন, অনলাইনে সব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়। এখানে আমাদের কোনো হাত নেই। তবে নিয়মানুযায়ী সকল কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।ব

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related posts

Leave a Comment