রাজশাহীর বাগমারায় এমপি এনামুুলের প্রতিশ্রুতি ৭ দিনেই বাস্তবায়ন

বাগমারা প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর বাগমারা আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হল ১ সপ্তাহের মাথায়। চিকাবাড়ি নন্দনপুর বাজার সংলগ্ন একটি স্থানে প্রায় ৯ বছর আগে বয়স্কদের ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করতে প্রতিষ্ঠিত হয় বয়স্ক মাদ্রাসা। নিজেদের অর্থায়নে দীর্ঘ সময় নন্দনপুর সহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের বয়স্ক নারী এবং পুরুষরা ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করে আসছিলেন।

 

এরই মধ্যে সকলের সহযোগিতায় একটি পাকা রুম নির্মাণ করা হয়েছে ওই মাদ্রাসায়। বয়স্ক ব্যক্তিদের ইসলামিক শিক্ষা প্রদান করে আসছেন নন্দনপুর গ্রামের আব্দুল করিম। দীর্ঘ সময় শতশত বয়স্ক নারী-পুরুষকে ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান করা হলেও কোন বেতন ছিল না তার। বিভিন্ন স্থানে লোকজনের নিকট থেকে সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে নিজেকেই সংগ্রহ করতে হতো মাসে ১৫ শত টাকার সম্মানী। 

দুনিয়া এবং পরকালের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রদান করলেও নেই মান সম্পন্ন কোন ভাতা বা সম্মানীর ব্যবস্থা। 

 

বিনা বেতনে বয়স্ক নারী-পুরুষকে ইসলামিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা হচ্ছে এমন খবর পেয়ে গত সপ্তাহে ফজরের নামাজ শেষে নন্দনপুর বাজারের বয়স্কদের ধর্মীয় শিক্ষার ওই মাদ্রাসায় উপস্থিত হয় ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক এমপি। সেখানেই শতাধিক বয়স্ক ছাত্রের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। সেই সাথে ওই মাদ্রাসার ছাত্র হিসেবে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন। 

 

এদিকে বিনা বেতনে শতশত বয়স্ক নারী-পুরুষকে ধর্মীয় শিক্ষা প্রদানে নিয়োজিত হুজুর আব্দুল করিমকে নিজের সালেহা ইমারত কোল্ড স্টোরেজে চাকরীর ব্যবস্থা করে দেন। সেখান থেকেই তিনি প্রতিষ্ঠানের অন্যদের মতো মাসিক বেতন পাবেন। তবে ওই হুজুরকে ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের প্রতিষ্ঠানে চাকরী করতে হবে না। মাসিক বেতন প্রদানের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী নিয়োগ প্রদান করেন তিনি। 

বয়স্ক ওই মাদ্রাসায় দেয়া প্রতিশ্রুতি এক সপ্তাহ পরেই কার্যকর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একটি নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়েছে মাদ্রাসার হুজুর আব্দুল করিমের হাতে। 

 

হুজুর আব্দুল করিম বলেন, বিনা বেতনে দীর্ঘ সময় ধরে বয়স্কদের ধর্মীয় শিক্ষা দিয়ে আসছিলাম। এমপি মহোদয়ের কারনে এখন থেকে প্রতি মাসে বেতন পাবো। মহান আল্লাহ পাক যেন তাঁর এবং তাঁর পরিবারের মঙ্গল কামনা করেন। 

 

নন্দনপুর বয়স্ক মাদ্রাসার সভাপতি উপাধ্যক্ষ আব্দুল বারীক বলেন, আমরা স্থানীয় লোকজন উদ্যোগ নিয়ে ধর্মীয় শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে বয়স্ক মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছি। বয়স্ক লোকজন হওয়ার কারনে তাদেরকে বিনা বেতনে ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান করা হয়ে থাকে। মাদ্রাসার পক্ষ থেকে এমপি মহোদয়কে জানালে তিনিই হুজুরের মাসিক বেতনের ব্যবস্থা করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *