রাজশাহীর বাঘায় চোখ বেঁধে ট্রেনের নিচে রেখে যুবককে হত্যা দ্বি-খন্ডিত লাশ উদ্ধার

BD News23

ফোনে আমার সাথে শেষ কথা হয়। সে আমাকে বলে, কে বা কারা আমার চোখ মুখ বেধে রেখেছে মা। আমাকে বাঁচাও মা। মা আমাকে বাঁচাও তারপর ফোন কেটে যায়…More

 

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানীর রেল লাইন থেকে মাহাফুজুর রহমান মিশন(২৫) নামের এক যুবকের দ্বিখন্ডিত লাশ উদ্ধার করছে পুলিশ।

 

আজ মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে আড়ানী রেল স্টেশনের পশ্চিম দিকে রেল লাইনের উপর থেকে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জিআরপি থানার পুলিশ ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করে। নিহত মাহবুর রহমান মিশন উপজেলার নওটিকা গ্রামের মৃত গাজিউর রহমানের ছেলে।

 

নিহত মাহাফুজুর রহমান মিশনের মা মুল্লিকা বেওয়া বলেন, আমার ছেলে রোববার বিকেলে বাড়ি থেকে পীরগাছা বাজারে নিজস্ব মোবাইল এজেন্ট ও ফ্ল্যাক্রিলোডের দোকানে যায়। প্রতিদিন রাত ৮টার দিকে দোকান থেকে বাড়িতে আসে। কিন্তু সে আর বাড়িতে না আসায়। তাকে বিভিন্নস্থানে খোঁজ করেও পাওয়া যায়নি। সোমবার রাত ৮টার দিকে মোবাইল ফোনে আমার সাথে শেষ কথা হয়। সে আমাকে বলে কে বা কারা আমার চোখ মুখ বেধে রেখে। আমাকে বাঁচাও মা। তারপর ফোন কেটে যায়।

 

মঙ্গলবার আড়ানী রেল স্টেশনের পশ্চিম দিকে রেল লাইনের উপর থেকে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জিআরপি থানার পুলিশ দ্বিখন্ডিত লাশ উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য প্রেরণ করেন।

মাহাফুজুর রহমান মিশনের ছোট ভাই রাসেল হোসেন বলেন, আমার ভাই ঢাকায় আম ও লিচুর ব্যবসা করেন। টাকা লেনদেনের বিষয়ে মাঝে মধ্যে ঢাকায় যায়। এ ছাড়া এলাকায় তার কিছু ঋণ ছিল। পাওনাদাররা চাপ দেওয়ার কারণে টাকা দিতে না পেরে তাকে কৌশলে ডেকে নিয়ে হত্যা করে রেললাইনের উপর রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে সুষ্ট তদন্ত করে হত্যাকারীদের বিচার দাবি করেন তিনি। 

 

এদিকে স্বামী মাহাফুজুর রহমান মিশনের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে স্ত্রী তুসি খাতুন তিন বছরের কন্যাসন্তান মেহেরীনকে কোলে নিয়ে নিথরভাবে বসে আছে। কিছুই বলছেনা। মুখ দিয়ে কী যেন বলছেন, বুঝা যাচ্ছিলনা।

 

এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে আটক করতেও পারেনি বা কাউকে সনাক্তও করতে পারেনি।

 

এ বিষয়ে আড়ানী রেল স্টেশনের মাষ্টার সদরুল হোসেন বলেন, ঢাকা, খুলনা, দিনাজপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিদিন রাজশাহীতে ২৪টি ট্রেন আপ ডাউন করে। কোন একটি ট্রেনের নিচে পড়ে এই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। আমার পয়েন্টম্যান সকালে লাইন ক্লিয়ার দিতে গেলে দ্বিখন্ড লাশ দেখতে পায়। পরে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জিআরপি থানার পুলিশকে অবগত করি। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুপুরে লাশ উদ্ধার করে।

 

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জিআরপি থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার কাছে একটি মোবাইল, মানি ব্যাগ, কিছু টাকা, তার ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তার মোবাইলের কল লিষ্ট ডিলেট করা ছিল।

 

উল্লেখ্য, ১২ জুলাই সকাল ৮টার দিকে উপজেলার আড়ানী রেলস্টেশনের পূর্ব দিকে রেললাইনের উপর অজ্ঞাত (২০) যুবকের দ্বিখন্ড লাশ উদ্ধার করে ঈশ্বর্দী রেলওয়ে জিআরপি থানার পুলিশ। ময়না তদন্ত শেষে ১৩ জুলাই একটি ইসলামি সংস্থা আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের উদ্দ্যোগে লাশ দাফন করা হয়। ৮ দিনেও তার পরিচয় সনাক্ত হয়নি। এধনের ঘটনা কেন ঘটছে, তাই এগুলো সুষ্ট তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয়রা দাবি করেছেন।

BD News23
বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানীর রেল লাইন থেকে মাহাফুজুর রহমান মিশন(২৫) নামের এক যুবকের দ্বিখন্ডিত লাশ উদ্ধার করছে পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে আড়ানী রেল স্টেশনের পশ্চিম দিকে রেল লাইনের উপর থেকে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জিআরপি থানার পুলিশ ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করে। নিহত মাহবুর রহমান মিশন উপজেলার নওটিকা গ্রামের মৃত গাজিউর রহমানের ছেলে।
নিহত মাহাফুজুর রহমান মিশনের মা মুল্লিকা বেওয়া বলেন, আমার ছেলে রোববার বিকেলে বাড়ি থেকে পীরগাছা বাজারে নিজস্ব মোবাইল এজেন্ট ও ফ্ল্যাক্রিলোডের দোকানে যায়। প্রতিদিন রাত ৮টার দিকে দোকান থেকে বাড়িতে আসে। কিন্তু সে আর বাড়িতে না আসায়। তাকে বিভিন্নস্থানে খোঁজ করেও পাওয়া যায়নি। সোমবার রাত ৮টার দিকে মোবাইল ফোনে আমার সাথে শেষ কথা হয়। সে আমাকে বলে কে বা কারা আমার চোখ মুখ বেধে রেখে। আমাকে বাঁচাও মা। তারপর ফোন কেটে যায়।
মঙ্গলবার আড়ানী রেল স্টেশনের পশ্চিম দিকে রেল লাইনের উপর থেকে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জিআরপি থানার পুলিশ দ্বিখন্ডিত লাশ উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য প্রেরণ করেন।
মাহাফুজুর রহমান মিশনের ছোট ভাই রাসেল হোসেন বলেন, আমার ভাই ঢাকায় আম ও লিচুর ব্যবসা করেন। টাকা লেনদেনের বিষয়ে মাঝে মধ্যে ঢাকায় যায়। এ ছাড়া এলাকায় তার কিছু ঋণ ছিল। পাওনাদাররা চাপ দেওয়ার কারণে টাকা দিতে না পেরে তাকে কৌশলে ডেকে নিয়ে হত্যা করে রেললাইনের উপর রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে সুষ্ট তদন্ত করে হত্যাকারীদের বিচার দাবি করেন তিনি।
এদিকে স্বামী মাহাফুজুর রহমান মিশনের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে স্ত্রী তুসি খাতুন তিন বছরের কন্যাসন্তান মেহেরীনকে কোলে নিয়ে নিথরভাবে বসে আছে। কিছুই বলছেনা। মুখ দিয়ে কী যেন বলছেন, বুঝা যাচ্ছিলনা।
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে আটক করতেও পারেনি বা কাউকে সনাক্তও করতে পারেনি।
এ বিষয়ে আড়ানী রেল স্টেশনের মাষ্টার সদরুল হোসেন বলেন, ঢাকা, খুলনা, দিনাজপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিদিন রাজশাহীতে ২৪টি ট্রেন আপ ডাউন করে। কোন একটি ট্রেনের নিচে পড়ে এই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। আমার পয়েন্টম্যান সকালে লাইন ক্লিয়ার দিতে গেলে দ্বিখন্ড লাশ দেখতে পায়। পরে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জিআরপি থানার পুলিশকে অবগত করি। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুপুরে লাশ উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জিআরপি থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার কাছে একটি মোবাইল, মানি ব্যাগ, কিছু টাকা, তার ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তার মোবাইলের কল লিষ্ট ডিলেট করা ছিল।
উল্লেখ্য, ১২ জুলাই সকাল ৮টার দিকে উপজেলার আড়ানী রেলস্টেশনের পূর্ব দিকে রেললাইনের উপর অজ্ঞাত (২০) যুবকের দ্বিখন্ড লাশ উদ্ধার করে ঈশ্বর্দী রেলওয়ে জিআরপি থানার পুলিশ। ময়না তদন্ত শেষে ১৩ জুলাই একটি ইসলামি সংস্থা আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের উদ্দ্যোগে লাশ দাফন করা হয়। ৮ দিনেও তার পরিচয় সনাক্ত হয়নি। এধনের ঘটনা কেন ঘটছে, তাই এগুলো সুষ্ট তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয়রা দাবি করেছেন।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related posts

Leave a Comment