রাজশাহীর পুঠিয়ায় ৭ বছরের শিশুকে কু-প্রস্তাব সালিশে ৮০ হাজার জরিমানা

বিডি নিউজ২৩

মোস্তাফিজুর রহমান জীবন রাজশাহীঃ পুঠিয়ার ভালুকগাছী ইউনিয়নে ৭ বছরের এক শিশুকে কু প্রস্তাব দেওয়ার গ্রাম্য সালিশে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। 

 

ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ভালুকগাছী ইউনিয়নের খামারপাড়া (কারিকর পাড়া) গ্রামে।

 

ভিকটিমের পিতার দেওয়া তথ্য মতে গত ১৪ জুলাই বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১০ ঘটিকার সময় বাড়ির পাশে পুকুরের মাছ ধরছিলেন। এসময় মেয়েকে বাড়িতে মাছ রেখে আসতে বলেন। মাছ রেখে মেয়ে আসতে দেরি করলে ভিকটিমের পিতার মেয়ের খোঁজে বাহির হলে কাবুলের বাড়ির পিছনে পানের বরজের পাশে মৃত কপির কারিগরের ছেলে অপির কারিগর(৪৫) তার মেয়েকে নিয়ে বসে থাকতে দেখেন। মেয়েকে জিঙ্গাসা করলে তুমি কেন এখানে আসছো মেয়েটি তখন চাচা ডেকে এনে প্যান্ট খুলে যৌনাঙ্গ দেখতে চায় বলে জানান।

মেয়েকে নিয়ে বাড়ি এসে গ্রামের প্রধানদেরকে জানালে চেয়ারম্যান তাকবির হাসানকে জানাতে বলে। ভিকটিমের পিতা মুঠোফোনে চেয়ারম্যানকে জানালে চেয়ারম্যান থানার আশ্রয় নিতে বলেন। এসময় ভিকটিমের পিতা থানায় না গিয়ে গ্রামের লোকজন নিয়ে বিষয় টি সমাধান করার জন্য বলেন। অভিযুক্ত অপির এর আগেও এমন ঘটনার সাথে জড়িয়েছিলো।

সে সময় গ্রাম্য শালিশে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয় সেজন্য কঠোর আইন গ্রাম্য সালিশে নেওয়া হয়েছিলো। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ জুলাই অপির আবারো পুনরাবৃত্তি এমন ঘটনা ঘটায়। 

 

১৫ জুলাই শুক্রবার রাত ৯ টার সময় সমাজের গন্যমান্য প্রধানদের নিয়ে তকদির চেয়ারম্যান এর বাড়িতে উভয় পক্ষ কে হাজির হবার জন্য বলেন।

 

উভয় পক্ষের উপস্থিত ও কথাগুলো শুনে এমন ঘটনা যেন কেউ না ঘটাতে পারে সেজন্য অপির কে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা, ৫ টি জুতার বাড়ি ও সকলের কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চাওয়ার সিন্ধান্ত গ্রহন করে গ্রাম্য সালিশ বোর্ড।অপির ও ভিকটিমের পিতা গ্রাম্য শালিশের দেওয়া রায় মেনে নেন। অপির ৮০ হাজার টাকা জরিমানা দেন,৫ টি জুতার বাড়ি ও সকলের কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চান।

 

সালিশের জরিমানার ৮০ হাজার টাকা বিভিন্ন এতিম খানা ও মাদ্রাসায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

অভিযুক্ত অপির সালিশে ঘটনার সত্যতা স্বীকার বলেন, আমাকে নিয়ে সালিশ বসেছিলো। সালিশে আমার ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার টাকা তিনি সালিশে বুঝিয়ে দেন। আমি ভুল করেছি আমি সকলের কাছে হাত জোড় ক্ষমা চাই। এমন কাজ যেন কেউ না করে।

 

ঘটনার বিষয় জানতে চাইলে চেয়ারম্যান তাকবির হাসান ঘটনার সত্যতা শিকার করে বলেন,৭ বছরে এক শিশুকে কু-প্রস্তাব দিয়ে ছিলো লম্পট অপির। 

 

সে এর আগে এমন ঘটনা ঘটিয়ে ছিলো।তাই 

গ্রাম্য সালিশ বোর্ডে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা ও ৫ টি জুতার বাড়ি দেওয়ার সিন্ধান্ত নেন বোর্ডের সদস্যরা। গ্রাম্য সালিশের দেওয়া রায় উভয় পক্ষ মেনে নেন। ৮০ হাজার টাকা বিভিন্ন এতিম খানা ও মাদ্রসায় দেওয়া হয়েছে। কোথায় কত টাকা দেওয়া হয়েছে তার তালিকা তৈরি আছে। আপনারা চাইলে দেখতে পারেন।

 

বিষয় জানতে চাইলে ভিকটিমের পিতা বলেন, 

আমার মেয়েকে হয়তো খারাপ করার জন্য নিয়ে গিয়েছিল কিন্তু খারাপ কিছু করতে পারেনি। আমার মেয়েকে যেহেতু কু-প্রস্তাব দিয়েছে তাই গ্রাম্য সালিশে তার বিচার হয়েছে। আমি চাইনা আমার মেয়ের কোন সন্মানের হানি ঘটুক। 

কোন কলঙ্ক নিয়ে বড়ো হোক তাই মামলা করতে চাইনি। গ্রাম্য শালিশে সমাধান হয়ে গেছে।

 

এ বিষয়ে পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহরাওয়ার্দী জানান,বিষয় টি আমি শুনেছি তবে ধর্ষনের মতো তেমন ঘটনা শুনিনি। এবিষয়ে কেউ কোন অভিযোগ করেন নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related posts

Leave a Comment