লোডশেডিং এর কারণ জানালেন প্রধানমন্ত্রী

বিডি নিউজ২৩

লোডশেডিং এর কারণ জানালেন প্রধানমন্ত্রী

বিডি নিউজ২৩: বিদ্যুৎ আমরা সবার ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলাম এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সবাই পাচ্ছিল। কিন্তু এখন আন্তর্জাতিক বাজারে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে উপকরণগুলো সেগুলোর দাম অত্যধিক বৃদ্ধি পেয়ে গেছে। যেমন ডিজেলের দাম বেড়েছে, তেলের দাম বেড়েছে, এলএনজির দামসহ সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। কয়লা এখন প্রায় পাওয়াই যায় না।

 

গত এক যুগে বিদ্যুৎ খাতে নানা পদক্ষেপের পরও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতির কারণে লোডশেডিং ফিরে আসার পর তীব্র ক্ষোভের মধ্যে এই সংকটের কারণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

সরকারপ্রধান বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল, গ্যাসসহ বিদ্যুৎ তৈরির উপকরণের দাম বেড়ে গেছে। সেই সঙ্গে পরিবহনব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশেই বিদ্যুতের জন্য হাহাকার তৈরি হয়েছে।

 

অনেক উন্নত দেশে দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে জানিয়ে এমন পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে মিতব্যয়ী ও সঞ্চয়মুখী হওয়ার আহ্বানও রাখেন সরকারপ্রধান। সঞ্চয়ী হওয়া ও আবাদি জমিগুলোতে কিছু না কিছু পণ্য উৎপাদন করা হলে সংকট মোকাবিলা সম্ভব হবে বলেও মনে করছেন তিনি।

 

ঢাকা সেনানিবাসের পিজিআর সদরদপ্তরে মঙ্গলবার সকালে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

 

গণভবন প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন সরকারপ্রধান।

 

পিজিআর সদরদপ্তরে মঙ্গলবার সকালে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণভবন প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিএমও

 

শেখ হাসিনা বলেন, ‘একদিকে করোনার একটা অভিঘাত, তার ওপরে এসেছে রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ। যার ফলে আজকে সমগ্র বিশ্বে যেমন তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, অনেক দেশে এখন বিদ্যুতের জন্য হাহাকার

 

আর সেই ক্ষেত্রে আমি আজকের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমগ্র দেশবাসীকে অনুরোধ করব, বিদ্যুৎ আমরা সবার ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলাম এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সবাই পাচ্ছিল। কিন্তু এখন আন্তর্জাতিক বাজারে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে উপকরণগুলো, সেগুলোর দাম অত্যধিক বৃদ্ধি পেয়ে গেছে। যেমন ডিজেলের দাম বেড়েছে, তেলের দাম বেড়েছে, এলএনজির দামসহ সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। কয়লা এখন প্রায় পাওয়াই যায় না।’

 

বিদ্যুৎ বিভাগ গত কয়েক বছরে লোডশেডিং শব্দটা ব্যবহার করত না। তারাই এখন লোডশেডিংয়ের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছে। দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আর না কেনার কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। এ জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হবে জানিয়ে তিনি দুঃখও প্রকাশ করেছেন। ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে সরবরাহ সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আগের মতো জাহাজ চলাচল করতে পারছে না। বা সমস্ত উৎপাদন, আমাদের দেশে না সব দেশের প্রত্যেকটা জিনিসের এখন ঘাটতি, এই সমস্যাটা দেখা দিয়েছে।’

 

এক সপ্তাহ ধরেই সারা দেশেই বিদ্যুতের যাওয়া-আসা বেড়েছে। রাজধানীতেও দিনে কয়েক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং হচ্ছে। জেলা শহরগুলোতে সমস্যা আরও প্রকট।

 

যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, সেটির ভার সবাই মিলে ভাগ করে নেয়ার অনুরোধও করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘সেখানে আমরা যদি একটু সাশ্রয় করে চলি, মিতব্যয়ী হই এবং নিজেরা নিজেদের সঞ্চয়টা বাড়াতে পারি, তাতে যেকোনো সমস্যা মোকাবিলা করা যাবে।

 

উৎপাদন-সঞ্চয় বাড়ান। কোনো জমিও যেন অনাবাদি না থাকে তার ওপরও জোর দেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘সেখানে আমরা যদি একটু সাশ্রয় করে চলি, মিতব্যয়ী হই এবং নিজেরা নিজেদের সঞ্চয়টা বাড়াতে পারি, তাতে যেকোনো সমস্যা মোকাবিলা করা যাবে।

 

কোনো জমিও যেন অনাবাদি না থাকে তার ওপরও জোর দেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে, কোনো জলাধার যেন খালি না থাকে। যার যেখানে যতটুকু জায়গা আছে, প্রতিষ্ঠানভিত্তিকও যেখানে যতটুকু খালি জায়গা আছে, যে যা পারবেন কিছু উৎপাদন করবেন। আমার এটাই কথা।

 

‘উৎপাদন করে অন্তত নিজেদের খাদ্যটা নিজেরা জোগাড় করার চেষ্টা করা, যাতে বাজারের ওপর চাপ না পড়ে, উদ্বৃত্তটা বিক্রি করে যাতে আপনি লাভবান হতে পারেন। এই ব্যবস্থাটা সকলকে নিতে হবে।

 

‘অর্থাৎ প্রতিটি পরিবার যদি সঞ্চয়মুখী হয় যেন আমরা নিজেরা কিছু করব…আর তা ছাড়া যার যতটুকু জমি আছে, আমি ইতোমধ্যে আহ্বান করেছি, আবার আমি আহ্বান করি, অনেক উন্নত দেশে কিন্তু দুর্ভিক্ষ শুরু হয়ে গেছে।

 

বিদ্যুৎ বিভাগ গত কয়েক বছরে লোডশেডিং শব্দটা ব্যবহার করত না। তারাই এখন লোডশেডিংয়ের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছে।

 

দুর্নীতির ‘মিথ্যে অভিযোগ’ এনে বাংলাদেশকে যারা হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেছিল, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে তার ‘উপযুক্ত জবাব’ দেয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

তিনি বলেন, ‘আজকের বাংলাদেশ, আমরা অনেক সক্ষমতা অর্জন করেছি। নিজেদের টাকায় আমরা পদ্মা সেতু নির্মাণ করে, বাংলাদেশকে যারা হেয়প্রতিপন্ন করতে চেয়েছিল বা আমাকে, আমার পরিবারকে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত করে এবং আমার মন্ত্রী, সচিব, উপদেষ্টাকে দুর্নীতিতে অভিযুক্ত করে যারা অসম্মান করতে চেয়েছিল, তার উপযুক্ত জবাব আমরা দিয়েছি নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের মাধ্যমে।

 

তিনি বলেন, ‘এটি শুধুই পদ্মা সেতু না, পদ্মা সেতু আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব এবং আমরা যে একটা স্বতন্ত্র জাতিসত্তা সেই স্বতন্ত্র জাতিসত্তার সেটারই বহিঃপ্রকাশ। আর এই একটা সিদ্ধান্ত আজকে বাংলাদেশ সম্পর্কে সারা বিশ্ববাসীর মনোভাবও বদলে গেছে।

 

‘যারা আগে মনে করত বাংলাদেশ শুধু ভিক্ষা চায়, অনুদান চায়, বাংলাদেশ হাত পেতে চলে, আজকে আমরা এটা প্রমাণ করেছি যে বাংলাদেশ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে যুদ্ধ করে বিজয় অর্জনকারী একটি দেশ এবং বাঙালি জাতি একটি জাতি, সে জাতি কারও কাছে মাথা নোয়াবে না, নোয়ায় না, কারও কাছে হাত পেতে চলবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related posts

Leave a Comment