• মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০২৫, ০৪:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ভুয়া জমি রেজিষ্ট্রি দিতে গিয়ে প্রতারক আটক, মুচলেকায় ছাড়লেন ইউএনও ভবানীগঞ্জ পৌর ছাত্রদলের নের্তৃবৃন্দের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত রাজশাহীতে জোরপূর্বক বসতবাড়ি দখলের অভিযোগ রাজশাহীর তানোরে বিএনপির দু-গ্রুপে সংঘর্ষে  নিহত-১, আহত-৪ রাজশাহী মেডিকেলে চিকিৎসা সেবা বন্ধে চড়ম ভোগান্তিতে রোগীরা রাজশাহীর পুঠিয়া জিয়া পরিষদের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহাফিল অনুষ্ঠিত পুঠিয়ায় ভাগ্নিকে ধর্ষণ চেষ্টাকারী সিহাবকে নাটোর হতে গ্রেফতার সেচ্ছাসেবী সংগঠন ভলেন্টিয়ার অফ রাজশাহী গ্রুপ থেকে ইফতার বিতরণ রাজশাহীতে বিএনপি নেতার ভাইয়ের গলাকাটা লাশ উদ্ধার রাজশাহীর মোহনপুরে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধণা ও শিক্ষাবৃত্তির চেক প্রদান

যৌতুক দিতে না পারায় গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ

সংবাদদাতা:
সংবাদ প্রকাশ: শনিবার, ২৫ জুন, ২০২২

মোস্তাফিজুর রহমান জীবন রাজশাহীঃ ৫ লক্ষ টাকা যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূ কে 

অমানবিক নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে স্বামী, শ্বশুর ও শ্বাশুড়ির বিরুদ্ধে। 

 

ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর দূর্গাপুর উপজেলায় জয়নগর ইউনিয়নের আনুলিয়া গ্রামে। আনুলিয়া গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে আবু বক্কর এর সাথে গত ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে তাহেরপুর পৌর সভার ৯ নং খয়রা মহল্লার সাহেব আলীর মেয়ে শিখা খাতুন এর সাথে মহা ধুমধাম করে বিয়ে দেন উভয় পরিবার।

 

বিয়ের সময় সাহেব আলী জামাই ও মেয়ের সুখের জন্য একটি পালসার ১৫০ সিসি মটর সাইকেল, একটি ফ্রিজ সহ ঘর সাজানোর জন্য প্রায় ৬ লক্ষ টাকার আসবাবপত্র দেন।

 

বিয়ের পর কিছু দিন ভালোই চলছিলো আবু বক্কর ও শিখার দাম্পত্য জীবন। হঠাৎ গত ২১ সালের ডিসেম্বর মাসে আবার ৫ লক্ষ টাকা যৌতুকের জন্য দাবি করেন আবু বক্কর এর পিতা আজাহার আলী। এছাড়াও যৌতুকের টাকা পিতার কাছ থেকে আনার জন্য শিখা খাতুন কে মারধর করে পিতার বাড়ি তাহেরপুর পৌর সভায় পাঠিয়ে দেন।গরীব পিতা এতো টাকা দিতে না চাইলে আবু বক্কর স্ত্রী কে ডিভোর্স দেন। ডিভোর্স এর কারনে উভয় পরিবার একে অপরের উপর মামলা দায়ের করেন।এবং মামলা চলমান থাকতে ৭ নং জয়নগর ইউপি চেয়ারম্যান দুই পরিবার কে উভয়ের মামলা তুলে নিয়ে সংসার করার প্রস্তাব দিলে দুই পরিবার মেনে নিয়ে আবার দুই জন কে বিবাহ দেন।

 

বিয়ের পর মেয়ের পিতা মামলা তুলে নিলেও মামলা তুলেন না ছেলের পিতা। এবিষয়টি নিয়ে প্রায় উভয় পরিবারে সাথে কথা কাটাকাটি হয়ে আসছিলো। 

 

শিখা খাতুনের দেওয়া তথ্য মতে, গত ২৪ শে জুন বাদ জুম্মার নামাজ পর স্বামী আবু বক্কর,শ্বশুর আজাহার ও শ্বাশুড়ি জাহেদা বিবি শিখা খাতুনের গলায় গামছা পেঁচিয়ে অমানবিক নির্যাতন করতে থাকে।

 

এসময় চিৎকার চেঁচামেচি করলেও আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে শিখা খাতুন প্রানে বেঁচে যায়। এভাবে চলতো মাঝে মাঝে নির্যাতন। আবু বক্কর কৌশলে শ্বশুর কে ডেকে নেয় এবং ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে জোর পূর্বক ফাঁকা ৩০০ টাকা স্টাম্পে সই করাতে বাধ্য করেন।

 

প্রাণের ভয়ে মেয়েকে নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করতে মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে আসেন মেয়ের পিতা। এবিষয়ে দূর্গাপুর থানায় স্টাম্প উদ্ধারের জন্য লিখিত অভিযোগ করেন সাহেব আলী। 

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিখা খাতুন বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি আছেন।স্বামী, শ্বশুর আর শ্বাশুড়ীর কঠোর নির্যাতনের কারনে তাকে মেডিকেল ভর্তি হতে হয়েছেন।এদিকে গলায় গামছা পেচানোর কালোদাগ,হাতে সেলাই সহ অসংখ্য জায়গায় আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।মেডিকেল বেডের এক কোনে দাঁড়িয়ে পিতা সাহেব আলী বলেন আমার আদরের সন্তান কলিজার টুকরার স্বামী,শ্বশুর ও শ্বাশুড়ির দ্বারা নির্যাতনের বিচার চান।

 

এবিষয়ে জানতে চাইলে ৭ নং জয়নগর ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন আমি একটু গুরুত্বপূর্ণ মিটিং এ আছি ১ ঘন্টা পরে কল করেন বলে কেটে দেন।

 

এবিষয়ে জানতে চাইলে দূর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হক বলেন, জোর করে কাউকে থেকে ফাঁকা স্টাম্পের উপর সাক্ষার করে নিয়ে কোন ফায়দা নিতে পারবে না। কেন এমন ঘটনা ঘটেছে তদন্ত করে আইনি ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান।

সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

Recent Comments

No comments to show.