জ্ঞান হবার পর ৬ টা সরকার বদলাতে দেখেছি দেখিনি সাধারন মানুষের ভাগ্য বদলাতে

প্রথম আলো নিউজ

মোহাম্মদ ইমাম হোসাইন, চিফ এডিটর: বিডি নিউজ২৩/BD News23: জ্ঞান হবার পর ৬টা সরকার দেখেছি, ৩০০শ টা এমপি দেখেছি, হাজার হাজার মানুষের টাকা বাড়তি দেখেছি, বিদেশি ব্যাংকগুলোতে টাকা বাড়তে দেখেছি, দেশের উন্নয়ন, চেহারা পাল্টাতে দেখেছি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি দেখেছি,

 

হাজার হাজার লোক বদলাতে দেখেছি, এদের সময়ে জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে, দুর্নীতি বেড়েছে, আর এই করে এদের টাকার পরিমাণ বেড়েছে, বিদেশি ব্যাংকগুলোতে। কিন্তু জনতার একজন ভালো নেতা এলে, জনতার হাল পরিবর্তন হবে। এতোগুলো বছর ধরে আমিও এটাই ভেবে এসেছি। কিন্তু কেউ আসেনি। সবাই ভালো থাকবে আর কিছু বদলাবে এই চিন্তাটা মাথায় রেখেই আমি একটা পঞ্চসূত্র ধারণা তৈরি দিচ্ছি।

 

সেটা কি রকম?

 

দেশের জনগণের জন্য ১০০% ভোটিং, যে কাজের জন্য আমরা শাস্তি পাই না, সেই কাজ আমরা করতে চাই না। ধরুন ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করলে ৫০ টাকা জরিমানা আমরা ঠিকই ট্রাফিক সিগনাল মানে চেষ্টা করি। গাড়ি ড্রাইভ করার সময় সাথে কাগজপত্র না থাকলে, জরিমানার বিধান আছে। তাই আমরা কাগজপত্র সাথে নিয়ে গাড়ি ড্রাইভ করি। তাই জনগণকে ১০০% ভোট দিতে বাধ্য করা যাবে। ভোট দিতে না আসলে জন্ম নিবন্ধন/ভোটার আইডি কার্ড বাতিল করে দেওয়ার বিধান থাকলে অবশ্যই সম্ভব।

 

কিছুদিন আগে জন্ম নিবন্ধন/ভোটার আইডি কার্ড এতো জরুরি হবে কেউ জানতোনা। গ্যাস কানেকশন, বিদ্যুৎ কানেকশন বাচ্চাকে স্কুলে ভর্তি করানোর জন্য জন্ম নিবন্ধন/ভোটার আইডি কার্ড কম্পালসারি হওয়াতে জন্ম নিবন্ধন/ভোটার আইডি কার্ডের জন্য সবাই লাইনে তো দাঁড়িয়েছি। এভাবে কেউ ভোট না দিলে তা বাতিল করে দেওয়া যায়, তাহলে আমি নিশ্চিত ভাবে বলতে পারি সবাই ভোট দেবে।

 

যখন নিজের পছন্দে সরকার আনবে, তখন তারা প্রশ্ন করতে পারবেন। আর যখন প্রশ্ন উঠবে, তখন উন্নতি অবশ্যই হবে। শুধু চারটি জিনিস দরকার বেঁচে থাকার জন্য জিনিসপত্র, পড়াশোনার জন্য স্কুল, অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল, সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য ন্যায়।

 

এখানে সব থেকে আগে জনতা জরুরী জিনিস পাবে কি করে তার উপায়।

 

সরকারের কাছে এখানে ওখানে অনেক জমি খালি পড়ে রয়েছে। এই খালি জায়গা গুলো কৃষকদের জন্য গ্রামে গ্রামে ভাগ করে দেওয়া হোক ফসল ফলানোর জন্য, গ্রামে গ্রামে দল বানিয়ে জমি পদের ভাগ করে দেওয়া যেতে পারে, এইসব জমিতে চাষ হবে ফসল হবে, আর সরকারের জন্ম নিবন্ধন/ভোটার আইডি কার্ডের মাধ্যমে, জনতাকে বিলি করে দেবে। তাহলেই তো সাধারন মানুষের জীবন সহজ হয়ে যাবে।

 

এবার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, সাধারন জনতা এখানে বোকা হয়ে যায়। আমাদের দেশে বড় বড় ব্যবসায়ীরা এটাকে একটা ব্যবসায় পরিণত করেছে। বেসরকারি স্কুলে ভর্তির জন্য লক্ষ টাকা অনুদান নেওয়া স্কুলগুলোকে আরেকটা ছোট টেস্ট করার জন্য অনেকটা বিল বানানো হাসপাতালগুলোকে আমাদের বন্ধ করতে হবে। সরকারকে এই সুবিধাগুলো কম খরচে সাধারণ মানুষকে দিতে হবে।

 

যে লাভ সরকারের পাওয়ার কথা সেটা যদি প্রাইভেট সংস্থায় যায়, তাহলে এটা সত্যিই দুর্ভাগ্য। সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যাতে এই সমস্ত কাজ গুলোর অধিকার প্রাইভেট সংস্থার হাতে না যায়। যদি কোথাও কিছু ভুল হচ্ছে তাহলে জনতার সেখানে প্রশ্ন করার অধিকার থাকা উচিত। যেমন সংসদ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়, তেমনই প্রতিটা থানার সরকারি অফিসগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো উচিত। যাতে ফুটেজ টা দেখার পর সত্যিটা জানতে সবার সুবিধা হয়।

 

এই ব্যবস্থায় জনতার যেমন অনেকটা সময় বাঁচবে আমি সরকারের ঝামেলা হবেনা। এটাই হলো পঞ্চসূত্র।

 

এগুলো করার জন্য হাজার কোটি টাকার বাজেট, ব্যাংকের লোন দরকার নেই। আমাদের শুধু দরকার একটু ভালোভাবে চিন্তা করার। আমাদের দেশে সবাই নিজের দায়িত্ব পালন করলে আর আনন্দের সাথে থাকলেই সারা পৃথিবীতে আমাদের বাংলাদেশ মহান হয়ে উঠবে।

 

যেদিন থেকে সবাই নিজের বাড়ির মতো, দেশকে নিজের মনে করবে, ঠিক সেদিন থেকেই মানুষের ভোগান্তি আর পরিপূর্ণ উন্নয়ন হবে। আর সবাই যেদিন নিজেদের অধিকারটা বুঝতে পারবে আর সেদিনই দেশের ভালো হবে।

 

মোহাম্মদ ইমাম হোসাইন, চিফ এডিটরঃ (www.bdnews23.com)

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related posts

Leave a Comment