গরুর গোশত ৭০০ টাকা কেজি হুজুর সম্মানী পায় ৪০০০

Prothom alo news

বিডি নিউজ২৩/BD News23: বর্তমানে এক কেজি গরুর গোশত ৭০০ টাকা, একজন মুয়াজ্জিনের মাসিক সম্মানী ৪০০০৳, হুজুরের বাড়িতে অনুষ্ঠানে মেহমান আসলো ১৬-১৭ জন।

 

গরুর গোশত ৩ কেজি, ভালো কোনো মাছ ক্রয়, এবং অন্যান্য খরচ সহ, খরচ আসে কমপক্ষে ৫০০০ টাকা। মাসের বাকি দিনগুলোর কি অবস্থা হয় ইমাম – মুয়াজ্জিনের? মাসজিদের কমিটির লোকজন কি জবাব দিবেন আল্লাহর নিকট? বছরের শেষে হিশাব দেন এ-বছর আমাদের খরচ বাদে, বছর  গিয়ে  তিনলক্ষ টাকা ব্যাংকে মওজুদ আছে। বাকি মুসুল্লিরাও বলে উঠে আলহামদুলিল্লাহ!ৎকি হবে এ হিশাব দিয়ে আর কি হবে এই আলহামদুলিল্লাহ বলে?

 

অপর দিকে সভাপতি/সেক্রেটারি/কেশিয়ার বা অন্য সদস্যদের কিংবা তাদের সন্তানদের মাসিক ইনকাম ত্রিশ হাজার-চল্লিশ হাজার টাকা বা এর চেয়েও বেশি। আপনি ৩০,০০০-৪০,০০০ টাকা দিয়ে আপনার সংসারের জন্য যে রেটে সয়াবিন তৈল ক্রয় করেন  মুয়াজ্জিন ৪০০০ বেতনে ঐ সয়াবিন তৈল ক্রয় করে। আপনার হাসপাতালে খরচ এসেছে ২০০০ /৩০০০টাকা ঐ একই খরচ এসেছে মুয়াজ্জিনেরও।

 

তাছাড়া বাচ্চাদের লালন-পালনের, পিতা মাতাদের খরচ,, স্ত্রী, ভাই বোনদের  খরচ তো আছেই। এগুলোর কারণে হয়তো আগামী কয়েক বছর পরে ইমাম – মুয়াজ্জিন এবং মসজিদের খাদেম পেতে কস্ট হয়ে যাবে।

 

আপনি যতই খেদমত বলেন আর তাকওয়া বলেন,পেটে যখন ভাত পরবেনা, পরিবার যখন চালাতে পারবেন না, তখন আর এগুলো থাকবেনা। বর্তমানে ইমাম মুয়াজ্জিন ও মাদ্রাসার বেতনের চেয়ে কম টাকা বেতন মনে হয় আর কোন সেক্টরে নেই।

 

যে কোন কাজ করলেও দৈনিক ৫০০ থেকে ৮০০৳ ইনকাম করা যায়। এখন অনেকে বলবে যে হুজুর! আপনারা খেদমতের পাশাপাশি অন্য কিছু করলেই তো হয়? তাদেরকে বলছি, প্রথম কথা হল আপনি মাত্র একমাস দায়িত্ব পালন করে আসেন, দেখবেন কত মজা। আপনি যত সহজ দেখছেন আর ভাবছেন আসলে কিন্তু ততটা সহজ নয়। নিয়মিত দৈনিক টাইম টু টাইম দায়িত্ব পালন করা খুবই কঠিন।

 

দ্বিতীয় কথা হল যদি হুজুর পাশাপাশি অন্য কোন কাজ করে তাহলে আজান কিংবা ইমামতিতে দেরি হবে অথবা সময় মতো আসতে পারবেনা, তখন কি চাকরি থাকবে? আপনারাই তখন বলবেন যে হুজুর ঠিক নেই, উনি দায়িত্ব ঠিক মতো পালন করে না, উনাকে বিদায় করে দিতে মুটেও দেরি করবেন না। তাহলে বলেন ওরা যাবে কোথায়?

 

এরপরে সুযোগ সুবিধা তো থাকেই না। মাসে ছুটি দিতে চায় না,যদি ছুটি নিতে চায় তাহলে অন্য একজনকে তার জায়গায় দিয়ে যেতে হবে। কেন ভাই? যদি একজনকে দিয়েই যেতে হয় তাহলে আর ছুটি হলো কিভাবে? আর আপনি যদি ইমামের অনুপস্থিতিতে নামাজ পড়াতে না পারেন তাহলে আপনাকে দায়িত্বে আসতে কে বলেছে?

 

এগুলোর কারণে আগামী ৫ থেকে ১০ বছর পর দেখা যাবে কেউ আর খেদমত করতে রাজি হবেনা প্রয়োজনে ব্যাবসা কিংবা অন্য কোন কাজ করবে। যা বর্তমানেই শুরু হয়ে গেছে, এখন প্রায় ইমাম মুয়াজ্জিন কিংবা মাদ্রাসা শিক্ষক চাকরি ছেড়ে ভিন্ন কর্ম বেছে নিচ্ছে।

আর মসজিদ মাদ্রাসা গুলো অযোগ্যরা দখল করে নিচ্ছে। কমিটি মনে করতেছে কম টাকায় হুজুর পাচ্ছি বেশি টাকায় রাখার কি দরকার?

অথচ এতোগুলো বাচ্চা মকতবে সহীহ শুদ্ধ ভাবে কোরআন ও মাস আলা শিখতে পারছেনা, হুজুর নিজেও পড়তে পারেনা।

 

নামাজ হচ্ছে কিনা হুজুর নিজেও জানেনা। মুসল্লীর কথা আর কি বলবো? হিফয মাদ্রাসাগুলো শিক্ষক শূন্য হয়ে যাচ্ছে এ-সব কারণে, এখন বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়  ১২০০০-১৫০০০ টাকা দিবে,এর পরে-ও হাফেজ পাওয়া দুষ্কর হয়ে যায়।

 

একদিন এভাবেই বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে কিন্তু ইমাম মোয়াজ্জেন পাওয়া দুষ্কর হয়ে যাবে।

আল্লাহ সকলকে সহীহ বুঝ দান করুন, আমীন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related posts

Leave a Comment