গরীবের কতো কষ্ট তা আমি বুঝি, তাই গরীবের জন্য ডাক্তার হতে চাই

BD News23

বিডি নিউজ২৩/BD News23: বাবা সিএনজি চালানোর ফাঁকে ফাঁকে গরু লালন-পালন ও ঘাস কাটতো। গরুর দুধ বিক্রি করতো। আবার মা হাঁস-মুরগির ডিম বিক্রি করে আমার পড়াশোনার খরচ দিতেন। আমি যখন ৯ম-১০ম শ্রেনিতে পড়ি তখন আমার বাবা-মা পড়নের কাপড়ও ঠিকমতো কিনতে পারেননি আমার জন্য। শুধু পড়াশোনায় ব্যায় করেছে। মা-বাবা আমার জন্য খুবই কষ্ট করেছেন। গরীবের যে কত কষ্ট তা আমি বুঝি, এ জন্যই আমি গরীবের ডাক্তার হতে চাই।

কষ্টের মাঝে সাফল্যের কথাগুলো বলছিলেন, সদ্য মেডিকেলে চান্স পাওয়া টাঙ্গাইলের বাসাইলের উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের আদাজান পশ্চিম পাড়া গ্রামের হতদরিদ্র সিএনজি চালক আব্দুল আউয়াল মিয়ার ছেলে সাগর মিয়া। শত কষ্টের বাঁধা পেরিয়ে পরিবার ও স্বজনদের মাঝে আলো ছড়ানো সাগরের মাঝেও লুকিয়ে ছিল সফলতার কষ্টের গল্প। তবুও থেমে ছিল না তার পড়াশোনা।

মেধাবী ছাত্র সাগর মিয়া এবার এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় মেধাক্রমে ১ হাজার ৫৮৯ তম হয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে ভর্তির চান্স পেয়েছে। সাগর মিয়া শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। এ ভর্তি পরীক্ষার ১০০ নম্বরের মধ্যে সে ৭৭.৫ নম্বর পেয়েছিল।

সাগর বলেন, আমার পরিবার হতদরিদ্র আমার পড়াশোনা খরচ দিতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে আমার পরিবারকে। আমার পরিবারের দূ-অবস্থা দেখে স্কুলের শিক্ষকরা আমার বেতন কম নিতেন। মেডিকেলে চান্স পাওয়ার ক্ষেত্রে আমার বাবা-মায়ের অবদান সবচেয়ে বেশি।আমার বাবা সিএনজি চালিয়ে আমার পড়াশোনার খরচ দিয়েছেন। সাথে আমার মা রাত-দিন পরিশ্রম করেছেন।

সাগর মিয়ার বাবা আব্দুল আউয়াল মিয়া মা হেনা আক্তার বলেন, আমাদের চার সন্তানের মধ্যে সাগর সবার বড়। ভাঙা-চুরা টিনের ঘর ছাড়া আর কিছু নেই তাদের। এ ঘরেই পরিবারের সবাই থাকি। আমরা দিন আনি দিন খাই। নিজেরা অনেক সময় খেয়ে না খেয়ে সাগর আর তিন মেয়ের খরচ শত কষ্ট করেও বহন করেছি।

তারা আরও বলেন, সিএনজি চালিয়ে ও গরু-ছাগলসহ হাঁস-মুরগি লালন-পালন করেও আমাদের ৬ সদস্যের সংসার চলতে হিমশিম পড়তে হতো অনেক সময়। এমন কষ্টের মাঝেও সন্তানের পড়ার খরচ চালিয়েছি। কোনো সময় একটা ভাল পোশাক কিনে দিতে পারেনি ওদের। যা দিয়েছি তাতেই সে সন্তুষ্ট ছিল। সাগর যেনো পড়াশোনা শেষ করে ডাক্তার হয়ে গরীব ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে এমনটা প্রত্যাশা করছি।

প্রতিবেশী শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিল সাগর। সে পিএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫, বাসাইল গোবিন্দ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫, ট্যানেলপুলে বৃত্তি, এসএসসিতে জিপিএ-৫ ও নলুয়া বিএফ শাহীন কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষাতেও সু-নামের সাথে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়।

শিক্ষক জাহাঙ্গীর আরও বলেন, সাগরের মেডিকেলে ভর্তি ও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে যে খরচ তা তার পরিবারের পক্ষে বহন করা খুবই কষ্ট কর। কেউ যদি তাকে সহায়তা করে তাহলে তার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া অনেকটা সহজ হবে। এদিকে, সাগর মিয়া মেডিকেল কলেজে ভর্তির চান্স পাওয়ায়, আমরা এলাকাবাসীর লোকজন গর্বিত ও অনেক আনন্দিত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related posts

Leave a Comment