বালুশ্রমিক গুলজার লিখেছেন ২৪০০ কবিতা, ২০০ গান!

BD NEWS23 বিডি নিউজ২৩ঃ ঝিনাইদহে গুলজার হোসেন জন্ম তার এক অসচ্ছল দরিদ্র পরিবারে। গুলজার হোসেনের পরিচিত মানুষের আত্মাকে “গরিব কবি” বলে ডাকেন। গরিব গরিব বলে ডাকা এতে গোলজার হোসেন একবিন্দু কষ্ট পান না।

গুলজার হোসেনের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার মহারাজপুর গ্রামে। ১৯৮০ সালে অসচ্ছল এক পরিবারে তাঁর জন্ম। গ্রামের মহারাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন। এরপর আর স্কুলে যাওয়া হয়নি। ১০ বছর বয়সে বাবার সঙ্গে কৃষিকাজে নেমে পড়েন। গুলজার বলেন, ‘আমার দরিদ্র বাবা পাঁচ ছেলেমেয়ের সংসার চালাতে খুব কষ্ট করতেন। ঠিকমতো আমাদের খাবার জুটত না। এ কারণে পড়াশোনা করতে পারিনি।

বর্তমানে গুলজার হোসেন তার জীবিকা নির্বাহ করছেন বালুচ শ্রমিক হিসেবে। সারা জীবন ভালো শ্রমিকের কাজ করে পাশাপাশি কবিতা লিখেছেন দুই হাজারেরও বেশি শুধু এখানেই থেমে যাননি গানের কথাও লিখেছেন ২০০ টিরও বেশি।

বালু শ্রমিক গোলজার হোসেনের নামে প্রকাশ পেয়েছে তিনটি কাব্যগ্রন্থ। মিস দক্ষতায় শিখেছেন কম্পিউটারে লেখালেখির কাজ। নিজে স্কুলে যেতে পারেননি। তবে দুই সন্তানকে পড়াচ্ছেন তিনি। গুলজারের মেয়ে মিতা নূর এবার এসএসসি পরীক্ষা দেবে। ছেলে একরামুল কবির নবম শ্রেণিতে পড়ছে।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা চালিয়ে যেতে না পারলেও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ তাঁর যথেষ্ট। মাঠের কাজ, আইসক্রিমের হকারি, ভ্যান চালানো—যখন যা করেছেন, তার মধ্যে সুযোগ করে বই পড়েছেন। নিজে বই কিনতে পারেননি, অন্যের কাছ থেকে ধার করে পড়তেন। সন্ধ্যা হলেই বিষয়খালী বাজারে বসে পত্রিকা পড়তেন।

বর্তমানে গোলজার হোসেন ঝিনাইদহ শহরের কাঞ্চনপুর এলাকায় টিনের চালের দুই ঘরের একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন। টিনের ভাড়া নেয়ার দুইটি রুমের মধ্যে একটি রুমে সে কাব্যচর্চা করেন অন্য রুমটিতে তার পছন্দের বিভিন্ন লেখকের এর বই দিয়ে যেন সৌন্দর্যমন্ডিত একটি লাইব্রেরী তৈরি করে রেখেছেন সেখানেই তিনি কম্পিউটারে লিখেছেন সারাদিনের না বলা ভাষা গুলো এভাবেই গোলজার হোসেন লিখে ফেলেন তার কবিতার পঙক্তি গুলো।

গুলজার হোসেন বলেন, যখন আমি বেলচা দিয়ে বালু এর কাজ করি তখন যতটা কষ্ট আমার ভিতর অনুভূত হয় আমি মনে মনে সেই কষ্টটা দিয়েই কবিতার পঙক্তি গুলো সাজিয়ে ফেলি। দিনশেষে দরদর করে ঘাম এ ভেজা সেই কষ্টগুলো কবিতার ভাষা হয়ে বের হয় এভাবে লিখে ফেলেন ২ হাজারেরও বেশি কবিতা পাশাপাশি ২০০র বেশি গানের কথা।

গুলজার বলেন, ‘প্রথম লেখা কবিতাটি দেখানোর পর সবাই খুব ভালো বলেছিল। সেখান থেকে উৎসাহ পেয়ে চালিয়ে যেতে থাকি কবিতা লেখা।’ একে একে ‘এখানে যা নেই’, ‘তোমাকে হত্যার পর’, ‘গরিবের বিদ্বেষ’, ‘প্রিয় সাবির হাকা’, ‘উত্তপ্ত পৃথিবী’, ‘গভীর রাত’, ‘ভাইরাস’সহ প্রায় ২ হাজার ৪০০ কবিতা লিখেছেন। শুধু কি কবিতা? গান লিখেছেন ২১০টি, যেগুলো স্থানীয় অনেক শিল্পীর কণ্ঠে শুনছেন শ্রোতারা। ১০টি প্রবন্ধও লিখেছেন তিনি।

গোলজার হোসেন এর এমন কাজকর্ম দেখে খুশি হয়ে ঋণ আদায়ের পৌরমেয়র উপহার দিয়েছেন একটি ভালো কম্পিউটার সেট।

আরও একটি বিষয় হচ্ছে ২০০১ সালের দিকে গুলজার হোসেনের খুব অভাব ছিল সে সময় লেখার জন্য কাগজ পাচ্ছিলেন না কাছে তেমন টাকা ছিল না রাস্তা থেকে সিগারেটের প্যাকেট কুড়িয়ে সেখানে লিখে রাখতেন কবিতা আর সিগারেটের প্যাকেটে লিখে রাখা কবিতার মধ্যে একটি কবিতা হচ্ছে “আহ্বান” যা সকলের কাছে সমাদৃত হয়েছে।

এ ছাড়া ‘নদী মানুষ ও বাঁক’ নামে একটি প্রবন্ধ ভারতের একটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। ঝিনাইদহের বেগবতি প্রকাশনা ল্যাম্পপোস্টই আলো, ঢাকার ইনভেলাপ প্রকাশনা থেকে গরিবের বিদ্বেষ ও কুহকে মোহিত নামে তাঁর তিনটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।

গুলজার হোসেনের কবিতা নিয়ে ঝিনাইদহের কবি ও গবেষক সুমন সিকদার বলছিলেন, ‘গুলজার প্রচুর পড়াশোনা করেন। তাঁর কবিতা মানুষের হৃদয় স্পর্শ করে। এভাবে চর্চা করলে আরও বেশি ভালো করতে পারবেন।’

ঝিনাইদহ সরকারি কেশব চন্দ্র (কেসি) কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক হাসান অরিন্দম বলছিলেন গুলজার হোসেনের কবিতার নানা দিক নিয়ে। তাঁর মতে, ‘অত্যন্ত সংগ্রামী একজন মানুষ তিনি। তাঁর কবিতায় বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও শ্রমিক শ্রেণির বঞ্চনার কথা থাকে। একসময় পুরোনো ধাঁচের কবিতা লিখলেও স্বশিক্ষিত এই কবি এখন আধুনিক কবিতা লিখছেন।

বিডি নিউজ২৩ এর পক্ষ থেকে করোনা সাবধানতাঃ এই ভাইরাস থেকে একটু রক্ষা পেতে চাইলে অবশ্যই জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। মুখে মাস্ক ভালোভাবে ব্যবহার করার কোনো বিকল্প পথ নেই। নিজে সতর্ক থাকতে হবে অন্যকেও সতর্ক ভাবে রাখতে হবে। যতোটুকু সম্ভব হয় বাহিরে যাওয়া একদম কমিয়ে দিতে হবে। বাহিরে না গেলেই সবচেয়ে ভালো। পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব করোনা ভাইরাসের টিকা গ্রহণ করুন। BD NEWS23 বিডি নিউজ২৩.

বালুশ্রমিক গুলজার লিখেছেন ২৪০০ কবিতা, ২০০ গান!
বালুশ্রমিক গুলজার লিখেছেন ২৪০০ কবিতা, ২০০ গান!

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *