November 30, 2020

আহলে হাদিসের মাদ্রাসা ভাঙচুর লুটপাট অভিযোগ কওমীদের বিরুদ্ধে

মোহাম্মদ ইমাম হোসাইন, (বিডি নিউজ২৩:) ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় আলেহাদিসের একটি মাদ্রাসা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে কওমী পন্থী সমর্থক মানুষদের উপর।

এদিকে গত বুধবার সকালে সালথা উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের কামদিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এছাড়াও কওমী পন্থী সর্মথকরা এই হামলার কথা পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন এবং বলছেন তারা কোনোভাবেই আলেহাদিসের মাদ্রাসা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়ার সাথে জড়িত নন।

এছাড়াও আহলে হাদীসদের এই মাদ্রাসাটি স্থাপিত হয়েছিল 2019 সালে। দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে, সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসিব সরকার দুপক্ষের নেতাদের তার কার্যালয়ে ডেকে নেন মঙ্গলবার বিকালে। তিনি দুই পক্ষকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার পরামর্শও দেন।

এদিকে আহলে হাদিসের ওই মাদ্রাসার পরিচালক মোহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেন তিনি বলেন, প্রায় দুই থেকে তিনশ জন মানুষ লাঠিসোটা নিয়ে আলেহাদিসের আমাদের এই মাদ্রাসায় হামলা করে। এতে মাদ্রাসা ভিতরে থাকা 35 জন ছাত্র শিক্ষক ভয়ে মাদ্রাসার ছেড়ে পালিয়ে গেলে পরে তারা মাদ্রাসাটি ভাঙচুর করে মাদরাসায় থাকা চোদ্দটি ফ্যান ও সোলার বিদ্যুৎ মেশিনপত্র শহর লুটপাট করে নিয়ে যায়।

মাদ্রাসাটির পরিচালক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইন আরো বলেন, পুলিশের সামনেই হামলাকারীরা হামলা চালিয়েছে পুলিশ প্রতিহত করার চেষ্টা করলেও পরে ব্যর্থ হয়।

সালথা হেফাজতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জিন্নাত বলেন, “ইউএনওর সঙ্গে বৈঠকের পর বুধবার ভোরেই আমি উপজেলা হেফাজতের সভাপতি নিজামউদ্দীনসহ কওমি মাদ্রাসার নেতারা উপজেলায় চলে আসি।কওমী পন্থী একজন ছাত্র যার নাম হাসিবুল ইসলাম তাকে বেদম মারধর করেছে আলেহাদিছ পন্থী ছাত্ররা। পরে এলাকাবাসী ক্রুদ্ধ হয়ে হামলা চালিয়েছে এখানে কমই পন্থীদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এমনটাই দাবি করেছেন হেফাজতে ইসলামের এই নেতা।

সালথার ইউএনও মোহাম্মদ হাসিব সরকার বলেন, মঙ্গলবার সকালে উপজেলা পরিষদে দুইপক্ষকে নিয়ে সভা করেছেন। ওই সময় পর্যন্ত দুই পক্ষকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। রাতে আহলে হাদিস মাদ্রাসায় পুলিশও মোতায়েন করা হয়।

হামলার ঘটনা শোনার পর তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জানিয়ে বলেন, ওই মাদ্রাসায় যে ৩৫ জন নিবাসী ছিল তাদের সবাইকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কারা এই হামলায় জড়িত ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সালথা থানার ওসি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, কাওমিপন্থি শিক্ষক ও আহলে হাদিস শিক্ষকের নিয়ে এলাকায় বিরোধ চলছিলে। এই বিরোধ নিরসনে বুধবার সকাল ১০টায় দুই পক্ষকে নিয়ে উপজেলা পরিষদে আলোচনার কথা ছিল। কিন্তু কওমিপন্থি একটি অংশ উপজেলায় এলেও অপর অংশ ওই মাদ্রসায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে।

তিনি জানান, যারা এই হামলায় জড়িত তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সালথা থানার ওসি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এমনটাই জানাচ্ছিলেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *