(বিডি নিউজ২৩:) দূর্গা পূজা কবে, কখন, কোথায় প্রথম শুরু হয়েছিল তা সঠিক ভাবে জানা যায় না। ভারতের দ্রাবিড় সভ্যতা মাতৃতান্ত্রিক। দ্রাবিড় জাতির মধ্যে মাতৃদেবীর পূজার প্রচলন ছিল। সিন্ধু সভ্যতায় (হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো সভ্যতা) দেবীমাতা, ত্রিমস্তক দেবতা, পশুপতি শিবের পূজার প্রচলন ছিল। 

দুর্গা শিবের অর্ধাঙ্গিনী সে হিসাবে অথবা দেবী মাতা হিসাবে পূজা হতে পারে। তবে কৃত্তিবাসের রামায়নে আছে, শ্রী রামচন্দ্র ১০৮ টি নীল পদ্ম সংগ্রহ করে সাগর কূলে বসে সীতা উদ্ধারের জন্য সর্বপ্রথম দুর্গাপুজার (বাসন্তি পূজার অকাল বোধন) আয়োজন করেছিলেন। মার্কণ্ডেয় পুরাণ মতে, চেদী রাজবংশের রাজা সুরাথ খ্রীষ্ট্রের জন্মের ৩০০ বছর আগে কলিঙ্গে দুর্গা পুজা প্রচলন করেছিল। ইতিহাস থেকে যতটুকু জানা যায় মধ্য যুগে বাংলা সাহিত্যে দুর্গা পূজার অস্তিত্ব পাওয়া যায়।
১১শ শতকে অভিনির্ণয়-এ, মৈথিলী কবি বিদ্যাপতির দূর্গাভক্তিতরঙ্গিনীতে দুর্গা বন্দনা পাওয়া যায়। বঙ্গে ১৪শ শতকে দুর্গা পূজার প্রচলন ছিল কিনা ভালভাবে জানা যায় না। থাকলেও খুব কম ছিল। ১৫১০ সালে কুচ বংশের রাজা বিশ্ব সিংহ কুচবিহারে দুর্গা পূজার আয়োজন করেছিলেন। ১৬১০ সালে বরিশায় কলকাতার দুর্গা পূজার আয়োজন করেছিল বলে মনে করা হয়। ১৯১০ সালে সনাতন ধর্মউত্‍সাহিনী সভা ভবানীপুরে বলরাম বসু ঘাট লেনে এবং একই সময় একই বছরে অন্যান্যরা রামধন মিত্র লেন,
সিকদার বাগানে ঘটা করে প্রথম বারোয়ারী পুজার আয়োজন করে। বাংলাদেশের দূর্গাপূজা: বাংলাদেশের সাতক্ষীরার কলারোয়ার ১৮ শতকের মঠবাড়িয়ার নবরত্ন মন্দিরে (১৭৬৭) দুর্গা পূজা হত বলে লোকমুখে শোনা যায়। ঢাকেশ্বরী মন্দির চত্বরে আছে দুই ধরনের স্থাপত্যরীতি মন্দির। প্রাচীনতমটি পঞ্চরত্ন দেবী দুর্গার যা সংস্কারের ফলে মূল চেহেরা হারিয়েছে। মন্দিরের প্রাচীন গঠনশৈলী বৌদ্ধ মন্দিরের মত।
ধারণা করা হয়, দশম শতকে এখানে বৌদ্ধ মন্দির ছিল যা পরে সেন আমলে হিন্দু মন্দির হয়েছিল এবং ১১শ বা ১২শ শতক থেকে এখানে কালী পূজার সাথে দূর্গা পূজাও হত।
ইতিহাসবিদ দের মতে, প্রায় সাড়ে পাঁচশো বছর আগে রমনায় কালী মন্দির নির্মিত হয়েছিল এবং এখানেও কালী পূজার সাথে দুর্গা পূজাও হত। (তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট)
শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *